৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩

এবার সেমিতে নজর জিম্বাবুয়ের

খেলোয়াড়দের স্বাধীনতা দিয়ে সুফল আদায় করে নিচ্ছেন জিম্বাবুয়ের কোচ ডেভ হাটন।

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 21 Oct 2022, 11:14 PM

Updated : 29 Oct 2022, 07:21 PM

স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে পূরণ হয়েছে প্রথম লক্ষ্য। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ফিরে জায়গা মিলেছে সুপার টুয়েলভে। এবার ছুটতে হবে আরও বড় লক্ষ্যের পানে। জিম্বাবুয়ে যেমন খেলছে, তাতে শেষ চার অসম্ভব কিছু মনে হচ্ছে না কোচ ডেভ হাটনের।    

আয়ারল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করে জিম্বাবুয়ে। মাঝে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হেরে জেঁকে বসে বাদ পড়ার শঙ্কা। তবে শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে জিতে গ্রুপ সেরা হয়েই পরের ধাপ নিশ্চিত করে দলটি। যেখানে তাদের সঙ্গী বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা ও নেদারল্যান্ডস। 

চলতি বছরের জুনে নিজ দেশের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেন হাটন। তার কোচিংয়ে এখন পর্যন্ত জয়ের পাল্লাই ভারী জিম্বাবুয়ের। ১১ টি-টোয়েন্টিতে জয় ৯টি! ভালো খেলার ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে বিশ্বকাপেও। পেয়েছে গত কয়েক বছরের মধ্যে বিশ্ব ক্রিকেটে নিজেদের সবচেয়ে বড় সাফল্য। 

টুর্নামেন্টের বাকি পথ যে অনেক বেশি কঠিন, তা জানা আছে হাটনের। তাই পা মাটিতে রেখেই সামনের দিনগুলোতে লড়াই করার প্রত্যয় তার কণ্ঠে। 

“জুনে আমি যখন বুলাওয়ায়োতে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের সময় দায়িত্ব নেই, তখন প্রধান লক্ষ্য ছিল এখানে (বিশ্বকাপ) আসা। (বিশ্বকাপ খেলতে) দেশ ছাড়ার সময় আমি ছেলেদের বলেছি যে, কোয়ালিফাই করতে পেরেছি, এটি দারুণ ব্যাপার। তবে এটি মূল লক্ষ্য নয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো সামনে (সুপার টুয়েলভ) যাওয়া এবং পরের ধাপে যতটা সম্ভব (প্রতিপক্ষের) ক্ষতি করা।” 

“আমি উচ্চাশা নিয়ে অবাস্তব চিন্তা করতে চাই না। অবশ্যই সবাই বলবে, আমরা জিততে চাই। আমরা কিছু ক্ষতি করতে চাই। বাড়ি ফেরার আগে যদি কোনো বড় দলকে হারাতে পারি, তাহলে দারুণ হবে। আমরা যদি সেমি-ফাইনালে যেতে পারি, তাহলে আরও ভালো হবে। তবে আমি এখন একটি, একটি করে ম্যাচ নিয়ে ভাবব।” 

হাটন কোচ হয়ে আসার পর জিম্বাবুয়ের পরিবর্তন চোখে পড়ার মতো। ঠিক কী করেছেন দেশটির এই কিংবদন্তি? 

“অনেকে আমাকে এটা জিজ্ঞেস করেছে। সত্যি বলতে এই প্রশ্নের উত্তর আমার জানা নেই। কারণ আমি শুধু ছেলেদের বলেছি যে, তোমাদের খেলার স্বাধীনতা রয়েছে এবং ভুল করলে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখানো হবে না। ভুল শট খেলার বা বাজে বল করার ভয়ে থাকলে কেউ ক্রিকেটার হিসেবে বেড়ে উঠতে পারবে বলে আমি বিশ্বাস করি না। এভাবে কেউ বড় হতেই পারবে না। আমি শুধু এ কাজটিই করেছি।” 

জিম্বাবুয়ের খেলোয়াড়দের অনুশীলনেও পরিবর্তন আনার কথা জানালেন প্রধান কোচ।

“আরেকটি জিনিস আমি বদলেছি, তা হলো আমাদের অনুশীলনের সূচি। এই পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার টেকনিক রপ্ত করার জন্য ওরা কঠোর পরিশ্রম করে। কিন্তু অতিরিক্ত অনুশীলন করে ফেলে। আমি যদি ওদেরকে নিজের মতো করে ছেড়ে দেই তাহলে ওরা প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে দুপুর ৪টা পর্যন্ত অনুশীলন করে যাবে। এক্ষেত্রে সমস্যা হলো দ্বিতীয় দিন থেকেই অনুশীলন ক্লান্তিকর হয়ে ওঠে এবং কেউই আসলে সামনে এগোতে পারে না।” 

“তাই আমি অনুশীলনের সময় কমিয়ে দিয়েছি। এখন আমাদের অনুশীলন সংক্ষিপ্ত, তবে মানসম্পন্ন হয়। এমনকি এমন দিনও থাকে যখন আমি ছেলেদের অনুশীলন করতে দেই না। কারণ নেটে কিছু বল খেলার চেয়ে মাঠের জন্য শক্তি বাঁচিয়ে রাখা গুরুত্বপূর্ণ।” 

হোবার্টে সোমবার দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সুপার টুয়েলভে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলতে নামবে জিম্বাবুয়ে।