শেষ বলেও ছক্কার আশায় ছিলেন সোহান
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের রোমাঞ্চকর ম্যাচে ভারতের কাছে ৫ রানেই হেরেছে বাংলাদেশ।
শেষ বলের আগে কেটে গেল যেন অনন্তকাল! ভারতীয় অধিনায়ক রোহিত শর্মা ফিল্ডিং সাজিয়ে নিলেন নতুন করে। কিছুটা সময় নিয়ে কথা বললেন বোলার আর্শদিপ সিংয়ের সঙ্গে। ব্যাটিং গ্লাভস খুলে ব্যাটসম্যান নুরুল হাসান সোহানও সময় নিলেন কিছুটা। ফিল্ড পজিশন দেখে নিয়ে স্টান্সেও আরও কিছু সময় গেল তার। ব্যালান্সে থিতু হওয়ার চেষ্টাও করলেন। দুই পক্ষ মিলিয়েই সময় পেরিয়ে গেল বেশ। সবই ওই এক বলের জন্য। সবটুকুই মনস্তাত্ত্বিক খেলা।
১ বলে বাংলাশের প্রয়োজন ছিল ৭ রানের। মানে ওয়াইড-নো বল না হলে ভারতের হারার ভয় নেই। তবে বাংলাদেশের হার এড়ানোর সুযোগ ছিল। সোহান ছক্কা মারতে পারলে ম্যাচ হতো ‘টাই।’ খেলা গড়াত সুপার ওভারে।
সেই লড়াইয়ে সোহান পারেননি বীরোচিত কিছু করতে। মাথা ঠাণ্ডা রেখে আর্শদিপ সিং ফুল লেংথ বল করেন, যেটিতে সোহান নিতে পারেন কেবল ১ রান।
শেষ ওভারটি যখন শুরু হয়, ম্যাচ তখন ভারতের প্রায় মুঠোয়। তবে সোহান হাল ছাড়েননি। দারুণ এক ছক্কা মারেন দ্বিতীয় বলে, পঞ্চম বলে মারেন চান। শেষ বলে আরেকটি বড় শটের আশা তার মনে ছিল বলেই জানালেন তিনি ম্যাচ শেষে। সেখানে নায়ক হওয়ার তাড়না নয়, বরং তার ছিল ম্যাচ জেতানোর তাগিদ।
“হ্যাঁ, অবশ্যই (শেষ বলেও ছক্কার আশা ছিল)… যেহেতু একটা বাউন্ডারিই দূরে ছিলাম। আমার কাছেও মনে হচ্ছিল, একটা সুযোগ ছিল ভালো ম্যাচ জেতার। আমি শেষ পর্যন্ত সে আশাই করছিলাম।”
“নায়ক হওয়ার থেকে আমার কাছে মনে হয় যে, দেশের জন্য ম্যাচ জেতাটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। সেই সুযোগটা খুব কাছে ছিল। যেটা বললাম, একটা বাউন্ডারি দূরে ছিলাম। ওটাই আশা করছিলাম যেন ম্যাচটা জিততে পারি। শেষ পর্যন্ত এটাই আশা করছিলাম। দূর্ভাগ্যবশত হয়নি।”
শেষের আগের ওভারে হার্দিক পান্ডিয়াকে একটি করে ছক্কা ও চার মারেন তাসকিন আহমেদ। কিন্তু ওই ওভারের শেষ দুটি বল থেকে কোনো রান নিতে পারেননি সোহান। সেই দুটির একটি কাজে লাগাতে পারলেও ম্যাচের ভাগ্যে অন্যরকম কিছু হতে পারত। সোহান অবশ্য সেই আক্ষেপে পুড়ছেন না।
“এমনটা হয়ে যায়। এমন না যে প্রতি বলেই চার-ছয় হবে। ডট বল হবে, রান হবে, বাউন্ডারি হবে, সবই হবে। বিরাট কোহলি যে এত বড় ইনিংস খেলেছে, ওরাও শেষ বলে সিঙ্গেল নিয়েছে, বাউন্ডারি পায়নি। আপনি যে বলেকয়ে মারতে পারবেন, জিনিসটা এমন নয়।”
শেষের ওই হতাশার আগে বৃষ্টিও বাংলাদেশের হারে ভূমিকা রেখেছেন বলে মনে করেন সোহান। ৭ ওভারে বাংলাদেশ কোনো উইকেট না হারিয়ে ৬৬ রান তোলার পর বৃষ্টিতে বন্ধ হয় খেলা। বৃষ্টি শেষের পর লক্ষ্যও খুব কঠিন ছিল না বাংলাদেশের জন্য। ৯ ওভারে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল আর ৮৫ রান। সবকটি উইকেট হাতে নিয়ে লক্ষ্যটি তুলনামূলক সহজই ছিল। কিন্তু ২৭ বলে ৬০ রান করে রান আউটে লিটনের বিদায়ের পর জোড়ায় জোড়ায় উইকেট হারাতে থাকে বাংলাদেশ।
সোহানের মতে, বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের মোমেন্টাম কিংবা ছন্দ নষ্ট হয়ে যায় বৃষ্টি বিরতিতে।
“লিটন একটা ভালো মঞ্চ তৈরি করে দিছিল। আমরাও কাছাকাছি গিয়েছিলাম। তবে যেটা বললাম যে, একটা বাউন্ডারি কম পড়ে যায় আমাদের।”
“খেলাটা যখন একটা ভালো অবস্থায়, একটা রিদমে ছিলাম, তখন একটা বিরতি এলে কিন্তু ওই রিদমটা ফিরে আসে না। খুব কঠিন। যেহেতু আমরা ভালো অবস্থায় ছিলাম, সবসময় দেখবেন যে যখন কেউ ভালো করতে থাকে, তখন তা দ্রুত করে ফেলার চেষ্টা করে। খারাপ খেললে একটু সময় নিয়ে করা যায়। আমার কাছে মনে হয়, বিরতি এখানে বড় একটা ব্যাপার।”
