বাংলাদেশের জয়ের উৎসবে স্বর্ণার অসুস্থতার বিষাদ
ম্যাচ চলাকালেই পেট ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে যেতে হয়েছে স্বর্ণা আক্তারকে।
ওয়ানডেতে প্রথমবার ভারতকে হারিয়ে আনন্দে আত্মহারা বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। এর মাঝেই দুঃসংবাদ হয়ে এলো স্বর্ণা আক্তারের অসুস্থতার খবর। সিরিজের পরের দুই ম্যাচে অনিশ্চিত তরুণ অলরাউন্ডার।
মিরপুরে রোববার ভারতের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ম্যাচে ওয়ানডে অভিষেক হয়েছে এরই মধ্যে ৭টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলা স্বর্ণার। নিজের প্রথম ওয়ানডেতে ব্যাটিং-বোলিং বা ফিল্ডিং- কিছুই করতে পারেননি ১৬ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার।
বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের সময় পেটে ব্যথা অনুভব করেন স্বর্ণা। ম্যাচ চলাকালেই তাকে নেওয়া হয় হাসপাতালে। ফলে ৯ উইকেট পতনের পরই শেষ হয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। পরে দল জিতলেও সেই উৎসবে শামিল হতে পারেননি স্বর্ণা।
ম্যাচ শেষে জানা গেছে, তরুণ এই ক্রিকেটারের সবশেষ শারীরিক অবস্থা। নারী ক্রিকেট দলের সমন্বয়ক তৌহিদ মাহমুদ বলেছেন, চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আপাতত রিপোর্টের অপেক্ষায় আছেন তারা।
“এই মুহূর্তে হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে আছে স্বর্ণা। অপারেশন করতে হবে কিনা, নিশ্চিত নয়। বিসিবির চিকিৎসকরা বিষয়টি তত্ত্বাবধান করছেন। যদি অস্ত্রোপচার করতে হয়, তাহলে নিশ্চিতভাবেই সিরিজ থেকে ছিটকে যেতে হবে তাকে। দেখি! আমরা রিপোর্টের অপেক্ষায় আছি।”
ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনেও অবধারিতভাবেই আসে স্বর্ণার প্রসঙ্গ। অধিনায়ক নিগার সুলতানা আশা রাখছেন, পরের দুই ম্যাচে দলের নবীন সদস্যকে পাওয়ার।
“হুট করেই একটা ইস্যু হয়ে গেছে। ও (স্বর্ণা) পর্যবেক্ষণে আছে। ওর জন্য দুর্ভাগ্য। ওর মতো একজনকে না পাওয়া দলের জন্যও দুর্ভাগ্য। এখন (পরের দুই ম্যাচে) ওর খেলা পুরোপুরি ফিজিও, চিকিৎসকদের উপর নির্ভর করছে। যদি ভালো বোধ করে তাহলে হয়তো পরের ম্যাচে আমরা স্বর্ণাকে দলে পেতে পারি।”
একই মাঠে আগামী বুধবার সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ। শেষ ওয়ানডে মাঠে গড়াবে ২২ জুলাই।
রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি জানিয়েছে, রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে করানো পরীক্ষা-নিরীক্ষায় স্বর্ণার গুরুতর কোনো সমস্যা ধরা পড়েনি। তাই ভারতের বিপক্ষে পরের দুই ম্যাচে তার খেলার উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে।
অভিষেকে ব্যাটিং-বোলিং কিছুই না করে একটি বিরল অর্জনের সাক্ষী হয়েছেন স্বর্ণা। নারী ওয়ানডেতে এই প্রথম নিজের অভিষেক ম্যাচে কোনো ক্রিকেটার দুই ইনিংসেই অনুপস্থিত রইলেন। অর্থাৎ ব্যাটিং-বোলিং কিছুই করলেন না।
১৯৮২ সালে আন্তর্জাতিক একাদশের কারেন জবলিং, ১৯৮৭ সালে আয়ারল্যান্ডের গ্রেইন ক্ল্যান্সি ও ২০০৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার ক্লেয়ার টারব্লাঞ্চ নিজেদের অভিষেক ওয়ানডেতে বোলিং করার পর ব্যাটিং ইনিংসে অনুপস্থিত ছিলেন।
