২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৫ কার্তিক ১৪৩৩

বাভুমার ১৭৯ ও হার্মারের সঙ্গে রেকর্ড জুটিতে ৪০০ ছাড়িয়ে দ. আফ্রিকা

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে গেবেখা টেস্টে ধ্বংসস্তূপ থেকে স্বাগতিকদের বিশাল সংগ্রহ এনে দেওয়ার পথে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন মার্কো ইয়ানসেনও।

বাভুমার ১৭৯ ও হার্মারের সঙ্গে রেকর্ড জুটিতে ৪০০ ছাড়িয়ে দ. আফ্রিকা

টেম্বা বাভুমাকে আলিঙ্গন করছেন সাইমন হার্মার। ছবি: ক্রিকেট সাউথ আফ্রিকা ফেইসবুক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 20 Oct 2026, 10:15 PM

Updated : 20 Oct 2026, 10:38 PM

কের পর এক উইকেট হারিয়ে অল্পতে গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় পড়া দলের একপ্রান্ত ধরে রাখলেন টেম্বা বাভুমা। দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে খেললেন ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস। তাকে দারুণ সঙ্গ দিয়ে চমৎকার দুটি ইনিংস উপহার দিলেন মার্কো ইয়ানসেন ও সাইমন হার্মার। তাদের সৌজন্যে ঘুরে দাঁড়িয়ে সোয়া চারশ রানের সংগ্রহ গড়ল দক্ষিণ আফ্রিকা।

গেবেখা টেস্টের তৃতীয় দিন ৯ উইকেটে ৪২৫ রান করে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে দক্ষিণ আফ্রিকা। শেষ বেলায় অস্ট্রেলিয়াকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়ে নিক ম্যাডিনসনের উইকেট তুলে নিয়েছে তারা। তিন রান নিয়ে মঙ্গলবার দিন শেষ করেছে সফরকারীরা।

১১০ রানে ৬ উইকেট হারানো দক্ষিণ আফ্রিকার বিশাল সংগ্রহ গড়ার মূল কারিগর বাভুমা। ৫৫২ মিনিটের ম্যারাথন ইনিংসে ৩৩৪ বলে ১৭৯ রান করেন তিনি। একটি ছক্কার সঙ্গে মারেন ১৮টি চার।

টেস্টে বাভুমার আগের সেরা ছিল ১৭২ রান, ২০২৩ সালে জোহানেসবার্গে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সাদা পোশাকে প্রথম সেঞ্চুরিতেই নিজের আগের সেরা ছাড়িয়ে গেলেন ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান।

অবদান কম নয় ইয়ানসেন ও হার্মারের। বাভুমার সঙ্গে সপ্তম উইকেটে ১৩২ রানের জুটি গড়ার পথে তিনটি ছক্কা ও ৯টি চারে ৮৫ রান করেন ইয়ানসেন। একটি ছক্কা ও ১০টি চারে ক্যারিয়ার সেরা ৮২ রান করেন হার্মার।

বাভুমা ও হার্মারের জুটিতে আসে ১৮৩ রান। যা টেস্টে অষ্টম উইকেটে দক্ষিণ আফ্রিকার সর্বোচ্চ। আগের সেরা ছিল যৌথভাবে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২০১১ সালে নিল ম্যাকেঞ্জি ও শন পোলক এবং ২০০৩ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গ্যারি কার্স্টেন ও মোন্ডে জোন্ডেকির ১৫০ রানের জুটি।

বৃষ্টি বাধায় প্রথম দিন খেলা হয় মাত্র ১২.২ ওভার এবং দ্বিতীয় দিন কেবল এক সেশন। রৌদ্রোজ্জ্বল মঙ্গলবার খেলা হয়েছে ৮৮.১ ওভার।

পাঁচ উইকেটে ৯৭ রান নিয়ে খেলতে নামা দক্ষিণ আফ্রিকা শিবিরে দিনের সপ্তম ওভারে আঘাত হানেন মিচেল স্টার্ক। ক্যাচের রিভিউ নিয়ে ভিয়ান মুল্ডারকে ফেরায় অস্ট্রেলিয়া।

শিকারটি ধরে প্রথম বাঁহাতি বোলার হিসেবে টেস্টে ৪৫০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন স্টার্ক। এই সংস্করণে বলের হিসেবে দ্রুততম সাড়ে চারশ উইকেট নেওয়ার রেকর্ডটি এখন তার, ২০ হাজার ৫৭৭ বলে। আগের রেকর্ড ছিল তারই পূর্বসূরি গ্লেন ম্যাকগ্রার, ২৩ হাজার ৪৭৪ বলে।

ভীষণ চাপের ওই সময় ক্রিজে গিয়ে পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন ইয়ানসেন। মুখোমুখি প্রথম বলে স্টার্ককে চার মেরে রানের খাতা খোলেন তিনি। দুই বল পর মারেন টানা দুটি চার।

পরের ওভারে বোল্যান্ডকে দুটি চার হাঁকান ইয়ানসেন। আরেক প্রান্তে দেখেশুনে খেলে যান বাভুমা। স্টার্ককে চার মেরে ১৪০ বলে ফিফটি স্পর্শ করেন তিনি।

বোল্যান্ডের পর প্যাট কামিন্সকে ছক্কায় ওড়ান ইয়ানসেন। ৪৩ বলে পঞ্চাশে পা রাখেন তিনি।

৫৮ রানে ইয়ানসেনকে কট বিহাইন্ড দেন আম্পায়ার। তাৎক্ষণিক রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান ব্যাটসম্যান। তিন অঙ্ক থেকে ১৫ রান দূরে থাকতে বাজে ইয়ানসেনের বিদায় ঘণ্টা।

দ্বিতীয় নতুন বল নিয়ে প্রথম ওভারেই বাভুমা ও ইয়ানসেনের জুটি ভাঙেন বোল্যান্ড। তার বলে শর্ট মিডউইকেটে ট্রাভিস হেডের হাতে ধরা পড়েন ইয়ানসেন। ইনিংস জুড়ে দুর্দান্ত বোলিং করা বোল্যান্ড পূর্ণ করেন পাঁচ উইকেট। টেস্টে এনিয়ে তৃতীয়বার এই স্বাদ পেলেন ৩৭ বছর বয়সি পেসার।

সেই ১৯০৯ সালের পর এই প্রথম বয়স ৩৭ পেরিয়ে টেস্টে ৫ উইকেট পেলেন অস্ট্রেলিয়ার কোনো পেসার। ১১৭ বছর আগে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ৩৯ বছর ২৩১ দিন বয়সে ৩১ রানে ৮ উইকেট নিয়েছিলেন ফ্র্যাঙ্ক লেভার।

এরপর শুরু বাভুমা ও হার্মারের রেকর্ড জুটির পথচলা। মন্থর শুরু করেন হার্মার। পঞ্চদশ বলে খোলেন রানের খাতা। কয়েক বল পরই পান প্রথম বাউন্ডারির দেখা।

৯০তম ওভারের প্রথম বলে কামিন্সকে পুল শটে চার মেরে কাঙ্ক্ষিত তিন অঙ্ক স্পর্শ করেন বাভুমা, ২২৬ বলে। টেস্টে এটি তার পঞ্চম সেঞ্চুরি। যার চারটি করলেন তিনি অধিনায়ক হিসেবে।

এই দুইজনের দৃঢ়তায় ৭ উইকেটে ৩১৮ রান নিয়ে দ্বিতীয় সেশন শেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকা। শেষ সেশনের প্রথম ঘণ্টাও অনায়াসে কাটিয়ে দেন বাভুমা ও হার্মার। এই সময়ে ২৯৯ বলে ১৫০ স্পর্শ করেন বাভুমা।

বোল্যান্ডকে ছক্কা মারার পর সিঙ্গল নিয়ে ১১৬ বলে টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি করেন হার্মার। আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিংয়ে রান বাড়ানো হার্মারের সেঞ্চুরি মনে হচ্ছিল কেবল সময়ের ব্যাপার। মার্নাস লাবুশেনের ওভারের শেষ বলে স্লগ সুইপ করে বোল্ড হয়ে ফিরে যান তিনি।

পরের ওভারের প্রথম বলে বাভুমাকে কট বিহাইন্ড করেন স্টার্ক। টেস্টে যেটি ছিল কিপার অ্যালেক্স কেয়ারির ২০০তম ক্যাচ। এরপর ইনিংস ঘোষণা করে দেয় দক্ষিণ আফ্রিকা।

লম্বা সময় পর দলে ফেরা কাগিসো রাবাদা প্রথম ওভার করতে এসেই স্বাগতিকদের সাফল্য এনে দেন। তার চতুর্থ বলে তৃতীয় স্লিপে হার্মারের হাতে ধরা পড়েন নিক ম্যাডিনসন। চলতি সফরে আরেকবার টেস্টের প্রথম ইনিংসে শূন্য রানে ফিরলেন অস্ট্রেলিয়ান ওপেনার।

নাইটওয়াচম্যান বোল্যান্ডকে নিয়ে দিনের বাকিটা নিরাপদে কাটিয়ে দেন ট্রাভিস হেড।

সংক্ষিপ্ত স্কোর (তৃতীয় দিন শেষে):

দক্ষিণ আফ্রিকা ১ম ইনিংস: ১২৭.১ ওভারে ৪২৫/৯ ডিক্লে. (আগের দিন ৯৭/৫) (বাভুমা ১৭৯, মুল্ডার ১৩, ইয়ানসেন ৮৫, হার্মার ৮২, রাবাদা ০*; স্টার্ক ২৪.১-৪-৮৯-৩, হেইজেলউড ১৪-২-৪৩-০, বোল্যান্ড ২৯-৭-৮১-৫, কামিন্স ২৬-৩-৯৬-০, ওয়েবস্টার ১৯-৬-৪৩-০, রেনশ ৮-১-৩৩-০, ম্যাডিনসন ৫-০-২৪-০, লাবুশেন ২-০-৮-১)

অস্ট্রেলিয়া ১ম ইনিংস: ৪ ওভারে ৩/১ (ম্যাডিনসন ০, হেড ১*, বোল্যান্ড ২*; রাবাদা ১-১-০-১, হার্মার ২-০-৩-০, মার্করাম ১-১-০-০)