২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

পাকিস্তানে ইংলিশ পেসারদের বোলিং যখন মিরপুরে তাসকিনদের উদাহরণ

পাকিস্তানে যেভাবে বোলিং করেছেন অ্যান্ডারসন-রবিনসনরা, মিরপুরে বাংলাদেশের পেসারদের একই ভূমিকায় দেখতে চান বোলিং কোচ অ্যালান ডোনাল্ড।

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 21 Dec 2022, 06:18 PM

Updated : 21 Dec 2022, 06:28 PM

ব্যাটসম্যানদের চোখধাঁধানো আগ্রাসী ব্যাটিং আর স্পিনারদের কার্যকারিতায় অনেকটাই আড়ালে পড়ে গেছে ইংল্যান্ডের পেসারদের সাফল্য। কিন্তু পাকিস্তানের প্রতিকূল কন্ডিশনে এবার দুর্দান্ত বোলিং করেছেন তো ইংলিশ পেসাররাও। জেমস অ্যান্ডারসন, অলিভার রবিনসনদের সেই কৌশল ও মানসিকতা মিরপুর বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে দেখতে চান বোলিং কোচ অ্যালান ডোনাল্ড। 

ঘরের মাঠে বাংলাদেশের পেসারদের চ্যালেঞ্জ সবসময়ই বেশি। মিরপুরে খেলা হলে তা বেড়ে যায় আরও কয়েকগুণ। ভারতের বিপক্ষে বৃহস্পতিবার শুরু টেস্টে আবার সেই পরীক্ষায় নামবেন তাসকিন আহমেদ, সৈয়দ খালেদ আহমেদরা।

পাকিস্তানে পরীক্ষাটা একইরকম কিংবা আরও কঠিন ছিল ইংলিশ পেসারদের জন্য। কিন্তু তারা সাড়া দিয়েছেন দারুণভাবে। যে সিরিজ হতে পারত পেসারদের বধ্যভূমি, সেখানেই তিন ম্যাচে স্রেফ ২৪.০৭ গড়ে ২৬ উইকেট নিয়েছেন ইংলিশ পেসাররা। 

রাওয়ালপিন্ডি, করাচি বা মুলতানে ইংল্যান্ডের পেসারদের চ্যালেঞ্জ ছিল ব্যাটিং স্বর্গে ভালো বোলিং করার। মিরপুরে স্পিন সহায়ক নিচু ও ধীর গতির উইকেটে বাংলাদেশের পেসারদের কার্যকর হয়ে ওঠার। 

শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে বুধবার সংবাদ সম্মেলনে ডোনাল্ড বললেন, অ্যান্ডারসন-রবিনসনদের পথে হেঁটে মিরপুরে সফল হতে পারেন তাসকিন-খালেদরা।

“আমি সবসময় এ উদাহরণটি ব্যবহার করেছি যে, ইংল্যান্ডে পাকিস্তানের পেসারদের মানসিকতা কেমন ছিল, ওই পরিস্থিতিতে তারা কীভাবে নিজেদেরকে লড়াইয়ে সম্পৃক্ত রেখেছে। তিন স্পিনার থাকার পরেও পেসার হিসেবে আরও বেশি মেলে ধরতে হবে, মন খুলে বোলিং করতে হবে।” 

শুধু ইংল্যান্ডের পেসারদেরই নয়, চট্টগ্রাম টেস্টে ভারতের দুই ফাস্ট বোলারের বোলিংও উদাহরণ হিসেবে রাখছেন ডোনাল্ড। মিরপুরে স্পিনাররা বরাবরের মতো ম্যাচের নির্ধারক পারফরম্যান্স করলেও গতিময় পেসারদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে মনে করেন বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচ।

“লম্বা সময় ধরে খাটো বা ফুল লেংথে বোলিং করা যেতে পারে। চার ওভারের জন্য নিজের সবটুকু উজাড় করে দেওয়া যায়। (মোহাম্মদ) সিরাজ ও উমেশ (যাদব) যেভাবে বোলিং করেছে, তাও লক্ষ্য করা যায়। তারা শর্ট বলে আক্রমণ করেছে, ক্যাচিং পজিশনে ফিল্ডার রেখেছে। বল কিছু রিভার্সও করছিল।”  

“স্পিনারদের কাছ থেকে কী পাওয়া যেতে পারে, তা জানাই। আমরা পেসারদের আরও আক্রমণাত্মক দেখতে চাই। এসব পিচে মাথা নিচু করে বল ছেড়ে দেওয়া সহজ নয়। যদি বোলিংয়ে গতি থাকে, তাহলে আরও মন খুলে আগ্রাসী বোলিং করা যেতে পারে।”

উদাহরণ হতে পারে শের-ই-বাংলায় সবশেষ টেস্ট ম্যাচটিও। গত মে মাসে মিরপুরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওই ম্যাচে ম্যাচে মোট ৩০ উইকেটের মধ্যে পেসাররাই নেন ২১টি! সাকিব আল হাসান প্রথম ইনিংসে পান ৫ উইকেট। তবে লঙ্কান পেসার আসিথা ফার্নান্দো ম্যাচে নেন ১০ উইকেট, আরেক পেসার কাসুন রাজিথার শিকার ছিল ৭টি।