২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

ম্যাচ সেরা হয়েও বাদ কুলদিপ, মুমিনুলের আরেকটি সুযোগ

থমকে যাওয়া ক্যারিয়ারে নতুন গতি দেওয়ার সুযোগ পেলেন অভিজ্ঞ মুমিনুল হক।

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 22 Dec 2022, 10:32 AM

Updated : 22 Dec 2022, 10:32 AM

চট্টগ্রাম টেস্ট দিয়ে দেড় বছরের বেশি সময় পর টেস্টে ফেরেন কুলদিপ যাদব। মিরপুর টেস্টেই তিনি ঢুকে গেলেন বিরল এক তালিকায়। তবে তাতে তার খুশি হওয়ার কারণ খুব একটা কারণ নেই। ম্যান অব দা ম্যাচ হয়েও পরের টেস্টে বাদ পড়ার তালিকায় কে থাকতে চায়!

এক টেস্টে ম্যান অব দা ম্যাচ হয়ে পরের টেস্টে বাদ পড়ার সুনির্দিষ্ট তালিকা পাওয়া কঠিন। তবে নিশ্চিতভাবেই তা খুব লম্বা হবে না। কুলদিপ এখন সেই দুর্ভাগাদের একজন।

ঠিক উল্টো প্রান্তে মুমিনুল হক। চট্টগ্রাম টেস্টে তিনি ছিলেন একাদশের বাইরে। মিরপুর টেস্টে তাকে একাদশে ফিরিয়েছে বাংলাদেশ। ফর্ম ও ছন্দ হারিয়ে বাজে সময়ের চক্রে থাকা অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানের জন্য সুযোগ নিজের ক্যারিয়ারকে নতুন গতি দেওয়ার।

গত বছরের জানুয়ারির পর চট্টগ্রাম টেস্ট দিয়ে ভারতের হয়ে সাদা পোশাকে ফেরেন কুলদিপ। তিন স্পিনার নিয়ে একাদশ সাজায় ভারত। অভিজ্ঞ রবিচন্দ্রন অশ্বিন ও আকসার প্যাটেলকে ছাপিয়ে বাঁহাতি এই রিস্ট স্পিনারই ওই টেস্টে ছিলেন ভারতের উজ্জ্বলতম স্পিনার। প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়ে তিনি ধসিয়ে দেন বাংলাদেশের ব্যাটিং। দ্বিতীয় ইনিংসেও শিকার করেন ৩ উইকেট।

কিন্তু মিরপুর টেস্টে কৌশলে পরিবর্তন এনে ভারত একাদশে রেখেছে দুই স্পিনার। তাতে কাটা পড়েছে কুলদিপের নাম।

অশ্বিন চট্টগ্রামে খুব ভালো বোলিং করতে না পারলেও অভিজ্ঞ ও মূল স্পিনার হিসেবে তার থেকে যাওয়াটা অনুমেয়ই। দ্বিতীয় স্পিনারের লড়াইটা মূলত ছিল আকসার প্যাটেলের সঙ্গে কুলদিপের। সেখানে কুলদিপ নিজের দাবিটা জানাতেই পারেন। ব্যাটিং সামর্থ্যে অবশ্য আকসার বেশ এগিয়ে। তবে চট্টগ্রামেই ৪০ রানের ইনিংস খেলে কুলদিপ জানিয়ে দেন, ব্যাট হাতেও বেশ উন্নতি হয়েছে তার। সেই টেস্টে অশ্বিনের সঙ্গে তার ৯২ রানের জুটিতেই ভারত ৪০০ ছাড়াতে পারে, ম্যাচের প্রেক্ষাপটে যা ছিল দারুণ গুরুত্বপূর্ণ।

স্পিনার কুলদিপকে বাদ দিয়ে ভারত একাদশে এনেছে পেসার জয়দেব উনাদকাটকে। ১২ বছর পর আবার টেস্ট খেলার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। ক্যারিয়ারের আগের একমাত্র টেস্ট ম্যাচটি খেলেছিলেন তিনি ২০১০ সালে। সেই টেস্টের পর এই টেস্টের মধ্যে ভারত খেলে ফেলেছে ১১৮ টেস্ট!

টসের সময় ভারতের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক লোকেশ রাহুল জানান, বোলিং আক্রমণে ভারসাম্য বাড়ানোর জন্য তারা পেস আক্রমণের ধার বাড়িয়েছেন। অশ্বিন ও আকসার মিলেই স্পিন আক্রমণ সামলাতে পারবেন বলে বিশ্বাস তার।

কুলদিপ যেমন দায় দিতে পারেন ভাগ্যকে, তেমনি মুমিনুল থাকতে পারেন কৃতজ্ঞ। বাজে ফর্মের কারণে তিনি একাদশে জায়গা হারিয়েছিলেন। আবার ফিরতে পারলেন তেমন কিছু না করেই।

সবশেষ ১৭ টেস্টে তার ফিফটি একটি। সবশেষ ৯ ইনিংসে দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেননি। গত জুনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে প্রথম টেস্টে ব্যর্থ হওয়ার পর জায়গা হারান দ্বিতীয় টেস্টের একাদশ থেকে। এরপর ঘরোয়া ক্রিকেট, বিসিবি একাদশ, বাংলাদেশ ‘এ’ দল, কোথাও উল্লেখযোগ্য কোনো পারফরম্যান্স তার নেই। ভারতের বিপক্ষে টেস্ট স্কোয়াডে তার জায়গা পাওয়াই ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। নির্বাচকরা তখন বলেছিলেন, দলের সঙ্গে রেখে তাকে ব্যাটিং নিয়ে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। চট্টগ্রাম টেস্টে অফিসিয়াল খেলোয়াড় তালিকায় তার নাম ছিল ১৫ নম্বরে। সেখান থেকে হুট করেই মিরপুরে তিনি ঢুকে গেলেন একাদশে।

তাকে জায়গা দিতে বাদ দেওয়া হয়েছে চট্টগ্রামে তিন নম্বরে ব্যাট করা ইয়াসির আলি চৌধুরিকে। প্রক্রিয়াটা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যায় অবশ্যই। তবে মুমিনুল নিশ্চয়ই কোনো অভিযোগ করবেন না! তার জন্য এটি বলা যায় সুবর্ণ সুযোগ।