২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭ আশ্বিন ১৪৩৩

বিসিবির লেভেল-১ কিউরেটর সনদ পেলেন ৫৮ মাঠকর্মী

মাঠকর্মীদের প্রশিক্ষিত করতে প্রথমবারের মতো এই উদ্যোগ নেয় বিসিবি, দুই দফায় এতে অংশ নেন বিসিবির সব মাঠের মাঠকর্মীরা।

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 24 Aug 2026, 06:29 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:53 PM

এমনিতে মাঠকর্মীদের ব্যস্ত থাকতে দেখা যায় মাঠেই। মাটি আর ঘাসের সঙ্গে মাখামাখিতেই শেখার জগৎ সমৃদ্ধ হয় তাদের। তবে এবার ভিন্ন অভিজ্ঞতা হলো তাদের। তাত্ত্বিক অনেক কিছুই শিখলেন তারা। মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের মিডিয়া সেন্টার দুই দিন মুখরিত হলো মাঠের এই মানুষদের কলতানে। বিসিবির নিয়ন্ত্রণে থাকা বিভিন্ন মাঠের মাঠকর্মীরা অংশ নিলেন লেভেল-১ কিউরেটর কোর্সে।

কিউরেটরদের জন্য এবারই প্রথম এমন কোর্সের আয়োজন করেছিল বিসিবি। সেখানে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৫৮ জন। 

চট্টগ্রাম ও ঢাকায় দুই ধাপে বিসিবি এই কোর্স সম্পন্ন করেছে। যেখানে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন বিসিবির সকল স্টেডিয়ামের মাঠকর্মীরা। অংশ নেন মোট ৭৮ জন। 

গত ১১ ও ১২ অগাস্ট চট্টগ্রামের ফ্লা. লে. মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় প্রথম দফা। সেখানে অংশ নেন কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, পূর্বাচল ও ফতুল্লা স্টেডিয়ামের মাঠকর্মীরা। সেখানে মোট ৩৩ জনের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ১৮ জন। মিরপুরে রোববার ও সোমবার দ্বিতীয় দফার কোর্সে অংশ নিয়েছে মিরপুর, বিকেএসপি, সিলেট, খুলনা, বরিশাল, বগুড়া ও রাজশাহীর মাঠকর্মীরা। ৪১ জন প্রশিক্ষণার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৪০ জন।

বিসিবির গ্রাউন্ডস কমিটির তত্ত্বাবধানে এই কোর্সের মূল প্রশিক্ষকের ভূমিকায় ছিলেন বোর্ডে টার্ফ ম্যানেজমেন্ট প্রধান টনি হেমিং। কোর্স শেষে তিনি শোনালেন এর পেছনের ভাবনা। 

“এর উদ্দেশ্য ছিল ১৫-২৫ বছর ধরে বিসিবির অধীনে কঠোর পরিশ্রম করা মাঠকর্মীদের স্বীকৃতি দেওয়া। মাঠকর্মীদের সনদপত্র দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মূল্যায়নের কোনো ব্যবস্থা এতোদিন ছিল না। এই লেভেল-১ কোর্স চালুর মাধ্যমে তাদেরকে একটা আনুষ্ঠানিক প্লাটফর্ম তৈরি করে দিয়েছি।” 

এই কোর্স করানোর পর কীভাবে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়েও ধারণা দেন এই অস্ট্রেলিয়ান।

“আমরা তাদের ব্যবহারিক অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করেছি। কীভাবে উইকেটে পানি দিতে হয়, কীভাবে ঘাস ছাঁটতে হয় এবং কীভাবে রোলার চালাতে হয়- সবগুলো ধাপে সবাইকে উত্তীর্ণ হতে হয়েছে। এরপর বল ফেলে বাউন্স পরীক্ষার মাধ্যমে পিচের পরীক্ষা করেছি। এছাড়া দেড় দিনের পড়াশোনা শেষে বিকেলে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছিল। তারা সবাই সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছে। পুরো বিষয়টি সত্যিই দারুণ ছিল।”

হেমিংয়ের আশা, এই কোর্সের পর সামনের সময়টায় আরও ভালোভাবে কাজ করতে পারবেন এই মাঠকর্মীরা। 

“এখানে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক- দুই বিষয়কেই একসঙ্গে এনেছি। প্রশিক্ষণার্থীদের ভবিষ্যতে আরও পড়াশুনা ও শেখার সুযোগ তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। আগামী ১২ মাসের দিকে তাকিয়ে আছি। আশা করি, বিসিবির সঙ্গে যে উদ্যোগ তৈরি করেছি, সেখান থেকে ওরা ভবিষ্যতে আরও শিখতে পারবে।” 

বাংলাদেশের কিউরেটরা সাম্প্রতিক বছরগুরোয় অনেক উন্নতি করেছে বলেও মনে করেন হেমিং। উদাহরণ দিলেন তিনি মিরপুরের উইকেটের উন্নতির চিত্র দিয়ে। 

“গত কয়েক বছরে প্রমাণিত হয়েছে বাংলাদেশি কিউরেটররা কতটা উন্নতি করেছে। গত ছয় মাসের পিচের অবস্থা যদি দেখেন, দল হিসেবে আমরা মিরপুরের পিচ উন্নত করতে পেরেছি এবং স্পোর্টিং উইকেট বানাতে পেরেছি। এটা সবাইকে এই রোমাঞ্চ জোগাতে পেরেছে যে, আমরা পরিস্থিতি পরিবর্তন আনতে পারি। এটা দারুণ ব্যাপার।”