বাংলাদেশের বিপক্ষে একাদশে একসঙ্গেই খেলতে পারেন ওয়েবস্টার ও গ্রিন
ডারউইন টেস্টের অস্ট্রেলিয়া একাদশের বাকি ১০টি জায়গাই একরকম নিশ্চিত, কৌতূহল শুধু এখানেই।
ক্যামেরন গ্রিন ও বাউ ওয়েবস্টার, নাকি ক্যামেরন গ্রিন অথবা বাউ ওয়েবস্টার? বাংলাদেশের বিপক্ষে ডারউইন টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার একাদশের একটি জায়গা নিয়েই কেবল কৌতূহল। দুই পেস বোলিং অলরাউন্ডারকে একসঙ্গে খেলানো উচিত নাকি বাড়তি একজন ব্যাটসম্যান, সেটিই এখন প্রশ্ন। ওয়েবস্টার অবশ্য বললেন, দুজন একসঙ্গে খেলতে না পারার কারণ তিনি দেখেন না।
ওয়েবস্টার যখনই অস্ট্রেলিয়ার একাদশে জায়গা করে নিয়েছেন, বেশির ভাগ সময়ই ভালো করেছেন। তবে একাদশে থাকার বাস্তব সম্ভাবনায় দুজনের মধ্যে আপাতত এগিয়ে গ্রিন। দুই অলরাউন্ডারের কৌশল বেছে নিলেন সুযোগ পাবেন ওয়েবস্টার, বাড়তি ব্যাটসম্যান বেছে নিলেন একাদশে জায়গা পাবেন জশ ইংলিস।
সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার ফিল্ডিং অনুশীলনে দেখা গেছে, প্রথম স্লিপে ফিল্ডিং করছেন ওয়েবস্টার। সেখান থেকে ইঙ্গিত মিলেছে, গ্রিন ও ওয়েবস্টার দুজনই থাকছেন একাদশে। ডারউইনে মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ওয়েবস্টারও দুজনের একসঙ্গে খেলার সুবিধেগুলো তুলে ধরলেন।
“(একসঙ্গে দুজন খেলতে) না পারার কারণ দেখি না। প্রথম সাতজনের মধ্যে বল হাতে আরও বিকল্প থাকাটা অবশ্যই একটি বড় সুবিধা এবং আমি এটাকে সরাসরি প্রতিযোগিতা হিসেবে দেখি না। আমরা দুজনেই যদি ব্যাট হাতে, আমাদের দুজনের প্রধান দক্ষতা দিয়ে এবং ফিল্ডিংয়ে ভালো খেলতে পারি, তাহলে অধিনায়কের জন্য এটি কেবল আরও বিকল্প এবং সুবিধাই যোগ করে।
ক্যামেরনের সঙ্গে খেলতে আমার খুব ভালো লাগে। সে বল হাতে থাকুক বা আমি, বিকল্প বেশি থাকাটা আমার খুব পছন্দের। যদি ‘বিগ থ্রি’ (মূল তিন পেসার) এবং স্পিনারকে বদলানোর প্রয়োজন হয়, আমরা অদলবদল করতে পারি। তাই আমি খুবই খুশি।”
এম নয় যে দুজন একসঙ্গে খেলেননি। বরং ওয়েবস্টার এখনও পর্যন্ত যে আটটি টেস্ট খেলেছেন, এরপর পাঁচটিতে ছিলেন গ্রিনও। তবে নতুন মৌসুমে অস্ট্রেলিয়া কোন পথ বেছে নেবে, সেটিই এখন দেখার ব্যাপার।
গ্রিনের ওপর অস্ট্রেলিয়ার নির্বাচক ও টিম ম্যানেজমেন্টের আস্থা প্রবল। এজন্যই প্রত্যাশা খুব বেশি পূরণ করতে না পারার পরও সুযোগ পাচ্ছেন। ওয়েবস্টার ঠিকই সীমিত সুযোগে নিজেকে মেলে ধরেছেন।
গত বছরের শুরুতে ভারতের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেকে সিডনিতে ফিফটি করেছিলেন তিনি। আট টেস্টে এখন তার ফিফটি পাঁচটি। ব্যাটিং গড় ৪১.০৯। এর মধ্যে বিপর্যয়ের মধ্যে চোয়ালবদ্ধ লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ইনিংসও আছে। পাশাপাশি উইকেট নিয়েছেন ১১টি।
এমন পারফরম্যান্সের কারণেই ওয়েবস্টারকে নিয়ে এতটা ভাবতে হচ্ছে এবং তাতে দারুণ খুশি ৩২ বছর বয়সী ক্রিকেটার
“আমি শুধু আমার কাজটা করতে পেরে এবং একাদশ থেকে বাদ পড়া কঠিন করে তুলতে পেরে খুশি, সেটা ব্যাট বা বল, যেভাবেই হোক না কেন। আমি খেলার সব দিকে অবদান রাখতে পারার জন্য গর্ববোধ করি, এবং সেও তা-ই করে। কাকতালীয়ভাবে আমরা অলরাউন্ডার এবং দুজনেই মূলত ব্যাটসম্যান।”
“আমি প্রচুর রান করে এই দলে জায়গা করে নিয়েছি... মূলত একজন ব্যাটসম্যান হিসেবে রান করতে হবেই এবং এটাই দলে ঢোকার ও টিকে থাকার আমার পথ। ব্যাট হাতে আমার প্রথম আটটি টেস্টে আমি যা করেছি, তা সম্ভবত প্রমাণ করেছে যে, আমাকে একজন সত্যিকারের টপ-সিক্স ব্যাটসম্যান হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।”
শেফিল্প শিল্ডে ব্যাটে-বলে দুর্দান্ত পারফর্ম করেই অস্ট্রেলিয়া দলে এসেছিলেন ওয়েবস্টার। শুরুতে নিজেকে নিয়ে কিছুটা সংশয় ছিল তার ভেতরে। সেই দ্বিধা কেটে যাওয়াকে নিজের বড় শিক্ষা বলছেন তিনি।
“অভিষেকের পর থেকে আমি সবচেয়ে বড় যে জিনিসটা শিখেছি তা হলো, আমি এই স্তরের জন্য যথেষ্ট ভালো।
প্রথম টেস্টের আগে (নিজের কাছে) প্রশ্নটা ছিল, ‘তুমি কি নিজেকে প্রস্তুত মনে করছ?’ এবং যদিও আমি ‘একদম’ (প্রস্তত) বলে নিজেকে সান্ত্বনা দিচ্ছিলাম, কিন্তু দিনশেষে ততক্ষণ পর্যন্ত সত্যিই কিছু বোঝা যায় না, যতক্ষণ না মাঠে নেমে অন্য দেশের বোলারদের মোকাবেলা করছি এবং বিশালসংখ্যক দর্শকের সামনে ও ক্রিকেটের বড় মুহূর্তের মতো পরিস্থিতিতে পড়ছি, যেখানে আমার কাছে ভালো খেলার প্রত্যাশা করা হয়। গত ১২ মাসে এটাই ছিল সবচেয়ে বড় ইতিবাচক দিক।”
সাধারণত টেস্টের আগের দিনই একাদশ ঘোষণা করে দেয় অস্ট্রেলিয়া। বুধবারই হয়তো তাই জানা যাবে, ওয়েবস্টার একাদশে আছেন কি না।
