চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগে নাবির ভাবনায় শুধু বরিশাল
জাতীয় দলের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলতে যাওয়ার আগে বিপিএলে ফরচুন বরিশালকে সেরা দুইয়ে রাখার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছেন মোহাম্মদ নাবি।
বিপিএল শেষে সপ্তাহ দেড়েকের বিরতি। এরপর আফগানিস্তানের হয়ে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলতে নামবেন মোহাম্মদ নাবি। সব মিলিয়ে বাকি এক মাসেরও কম। তবে এখনই সেটি নিয়ে ভাবতে চান না অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার। দূরদৃষ্টিতে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি থাকলেও, ফরচুন বরিশাল ঘিরেই এখন তার পূর্ণ মনোযোগ।
আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি শুরু হবে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির নতুন আসর। বিপিএল শেষে পাকিস্তানে জাতীয় দলের কন্ডিশনিং ক্যাম্পে যোগ দেবেন নাবি। তবে তার ভাবনায় আপাতত বরিশাল ও বিপিএল।
মিরপুর জাতীয় ক্রিকেট একাডেমিতে শনিবার অনুশীলনের পর সংবাদ সম্মেলনে নাবি বলেন, বিপিএল শেষ করে পরবর্তী টুর্নামেন্ট নিয়ে চিন্তা করবেন তিনি।
“(চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে) পুরোপুরি ভিন্ন কন্ডিশন, ভিন্ন সংস্করণ। তবে এখন শুধু বিপিএল নিয়েই মনোযোগী। এখান থেকে যাওয়ার পর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি নিয়ে চিন্তা করব।”
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি যে একেবারে তার ভাবনার বাইরে, তা অবশ্য নয়। বরিশালের অনুশীলনে তাই টি-টোয়েন্টির মাঝেই সামনের ওয়ানডে টুর্নামেন্টের প্রস্তুতিও নিচ্ছেন তিনি।
“মনের মধ্যে এটিও আছে যে, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলতে যাব। সে জন্য শরীর ঠিক রাখা, ফিটনেস ধরে রাখা... টি-টোয়েন্টি ম্যাচের পাশাপাশি একশ ওভারের খেলার জন্যও প্রস্তুত হচ্ছি। অনুশীলনে ব্যাটিং-বোলিং লম্বা সেশন করছি। যা আমাকে এখানে সাহায্য করছে। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেও সাহায্য করবে।”
টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট শেষ করার ১০ দিন পরই নামতে হবে ওয়ানডে ক্রিকেটে। তবে সংস্করণের বদল নিয়ে ভাবছেন না ৪০ বছর বয়সী অলরাউন্ডার।
“পুরো বিষয়টা মানসিক। ওয়ানডে ক্রিকেটের জন্যও তৈরি হচ্ছি। ফিটনেসের কাজ, জিম, রিকভারি ঠিকঠাক করছি। অনুশীলনে যত বেশি পারা যায় বোলিং করি, ব্যাটিং সেশনও লম্বা করার চেষ্টা করি। তবে প্রথম লক্ষ্য অবশ্যই বিপিএল। এরপর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে যাব।”
বিপিএলের শেষ ধাপে ঢাকায় ফেরার আগে ৮ ম্যাচের ৬টি জিতেছে বরিশাল। টেবিলের শীর্ষে থাকা রংপুর রাইডার্সের কাছে দুই ম্যাচ হারায় এখন দুই নম্বরে গত আসরের চ্যাম্পিয়নরা। চার ম্যাচের একটি জিতলেই প্লে-অফ নিশ্চিত হয়ে যাবে তাদের।
তবে শুধু শেষ চার নয়, সেরা দুইয়ে থাকার লক্ষ্য চ্যাম্পিয়নদের। ফাইনালে যাওয়ার বাড়তি সুযোগ নিশ্চিত করতে চান তারা।
“আমাদের এখনও চার ম্যাচ বাকি। ওই চার ম্যাচে মনোযোগ দিয়ে দলকে সেরা দুইয়ে রাখাই মূল লক্ষ্য। চারটি ম্যাচ এবং প্লে-অফও ঢাকায়ই হবে। এই কন্ডিশনের সঙ্গে আমরা পরিচিত। গত বছরের তুলনায় এবার উইকেট ভালো। যে কারণে বড় রানের ম্যাচ হচ্ছে এবং রান তাড়াও ভালো হচ্ছে। আমরা উপভোগ করছি।”
“সবাই নিজ নিজ দলকে সেরা দুইয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে যাতে দুটি সুযোগ পাওয়া যায়। এক ম্যাচ হারলেও ফাইনালে ওঠার জন্য বাড়তি একটি সুযোগ পাওয়া যায়। তো হ্যাঁ, সবাই সেরা দুইয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে।”
আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি শুরু বিপিএলের প্লে-অফ পর্বের খেলা। সেদিন সন্ধ্যায় মুখোমুখি হবে পয়েন্ট টেবিলের সেরা দুই দল। জয়ী দল সরাসরি উঠে যাবে ফাইনালে। আর দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার খেলে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচের টিকেট পাওয়ার সুযোগ থাকবে অন্য দলেরও।
সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে প্লে-অফ তো বটেই, সেরা দুইয়ে থেকেই হয়তো শেষ চারের খেলা শুরু করবে বরিশাল। সামনের চার ম্যাচ থেকে ওই পর্বের জন্য নিজেদের সেরা সমন্বয় খুঁজে নেওয়ার আশা নাবির।
“সব দলের সমন্বয় ভিন্ন। কোনো ক্রিকেটার চলে যাচ্ছে, কেউ আবার আসছে। প্রথম পর্বের বাকি থাকা চার ম্যাচের জন্য আমাদের সঠিক কম্বিনেশন ঠিক করতে হবে এবং প্লে-অফের ম্যাচগুলোর জন্য ভালো একটা কম্বিনেশন দাঁড় করাতে হবে। দল হিসেবে এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”
বাংলাদেশ জাতীয় দলের একঝাঁক ক্রিকেটার নিয়ে গড়া বরিশাল। অধিনায়ক তামিম ইকবালের পাশাপাশি অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহরা আছেন দলে। বিদেশিদের মধ্যে নাবির সঙ্গে আছেন ইংল্যান্ডের সাবেক বাঁহাতি ব্যাটসম্যান দাভিদ মালান। নাজমুল হোসেন শান্ত, তাইজুল ইসলামদেরও অভিজ্ঞতা অনেক।
সবাই মিলে মাঠে অধিনায়ক তামিমের কাজ কিছুটা সহজ করে দেন, বললেন নাবি।
“আমাদের দলে বেশিরভাগ সিনিয়র ক্রিকেটার... মুশফিক, তামিম, (মাহমুদউল্লাহ) রিয়াদ। কখনও কখনও তাদের প্রয়োজন হলে আমিও পরামর্শ দেই। আমরা তামিমকে সহায়তা করি। বেশিরভাগ সময় সে সীমানায় ফিল্ডিং করে। তখন আলোচনা করি কীভাবে ফিল্ড সাজান ঠিক হবে, কোন পরিস্থিতিতে কী ভালো হবে। আর মাঠের বাইরে তামিম গ্রেট। সে সেরাদের একজন।”
বিপিএলে এবার শুরু থেকেই বইছে রানের জোয়ার। সিলেট, চট্টগ্রাম তো বটেই, মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামেও দাপট দেখিয়েছেন ব্যাটসম্যানরা। টুর্নামেন্টজুড়ে উইকেটের মান নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করছেন ক্রিকেটাররা।
নাবির মতে, ভালো উইকেটে খেলা সার্বিকভাবে বাংলাদেশের ক্রিকেটের উন্নতিতে সাহায্য করবে।
“আমার মনে হয়, এবারের পিচগুলো বেশি বিশ্রাম পেয়েছে। প্রতিটি ম্যাচের জন্য তারা ভালো উইকেট প্রস্তুত করেছে। বেশিরভাগ সময়ই বিপিএলে তিনটি ভেন্যু থাকে। তবে এবার তারা উইকেটে বেশি মনোযোগ দিয়েছে এবং তুলনামূলক ভালো পিচ তৈরি করেছে।”
“ভালো উইকেটে শট খেলার ক্ষেত্রে ব্যাটসম্যানদের মানসিকতা ইতিবাচক থাকে। উইকেট যদি টার্নিং ও ধীর হয়, তাহলে শরীরও মন্থর গতিতে চলে। (ভালো উইকেট) বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের সাহায্য করবে। স্ট্রাইক রেটও বাড়বে। কারণ তারা ধরে খেলার চেয়ে মারার চেষ্টা করবে বেশি।”
