আইপিএলে ৭৫৯ রান করে সুদার্শান, ‘অনেক উন্নতি করতে হবে আমাকে’
গত আইপিএলে করেছেন ৫২৭ রান, এবার ৭৫৯, তবু ভারতের টি-টোয়েন্টি দলে জায়গা পেতে অনেক উন্নতির প্রয়োজন দেখছেন সাই সুদার্শান।
‘এলিমিনেটর’ ম্যাচ হেরে গুজরাট টাইটান্স থেকে ছিটকে পড়লেও ভারদ্বাজ সাই সুদার্শান রয়েছেন রানের তালিকায় চূড়ায়। সাফল্য ও ধারাবাহিকতায় এখনও পর্যন্ত এবারের আইপিএলের সেরা ব্যাটসম্যান তিনি। তবু নিজের টি-টোয়েন্টি ব্যাটিংয়ে সন্তুষ্ট নন তরুণ এই ব্যাটসম্যান। ভারতের টি-টোয়েন্টি দলে জায়গা পেতে হলে অনেক উন্নতির প্রয়োজন দেখছেন তিনি।
যে ম্যাচ হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে গুজরাট, শুক্রবার সেই ম্যাচেও উজ্জ্বল ছিলেন সুদার্শান। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিপক্ষে শুক্রবার ২২৯ রান তাড়ায় তিনি ক্রিজে যতক্ষণ ছিলেন, দলের আশাও জিইয়ে ছিল। কিন্তু ৪৯ বলে ৮০ রানের ইনিংস খেলে আউট হয়ে যান বাঁহাতি ওপেনার। দল পরে হেরে যায় ২০ রানে।
১৫ ইনিংসে ১ সেঞ্চুরি ও ৬ ফিফটিতে ৭৫৯ রান নিয়ে শেষ হলো সুদার্শানের এবারের আইপিএল। ব্যাটিং গড় ৫৪.২১, স্ট্রাইক রেট ১৫৬.১৭।
গত আইপিএলেও তিনি করেছিলেন ৫২৭ রান। এবার নিজেকে ছাড়িয়ে গেছেন অনেকটা ব্যবধানে। রান, গড়, স্ট্রাইক রেট বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে।
এমন পারফরম্যান্স, দুই মৌসুমের ধারাবাহিকতা ও উন্নতির ধারায় ভারতের টি-টোয়েন্টি দলে জায়গা তিনি আশা করতে পারেন। বিশেষ করে, আগামী ফেব্রুয়ারিতে বিশ্বকাপের আসর যখন নিজ দেশেই।
এই প্রশ্নেই সবাইকে অবাক করে সুদার্শান বললেন, নিজের টি-টোয়েন্টি ব্যাটিংয়ে অনেক খামতি তিনি দেখছেন।
“দেশের জন্য খেলা যে কারও জন্যই অবশ্যই স্বপ্নের মতো। আমার অবশ্যই ভালো লাগবে খেলতে পারলে। তবে আমি এখনই ওসব ভাবছি না। কারণ, এই মৌসুমের কথা যদি বলুন, টি-টোয়েন্টি ব্যাটার হিসেবে আমাকে আরও অনেক উন্নতি করতে হবে।”
“আবার টি-টোয়েন্টিতে নামার আগে খেলাটির অনেক দিক আছে, অনেক ক্ষেত্র আছে, যেখানে আমার উন্নতি প্রয়োজন। আমি সেদিকেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছি। যখন সুযোগ পাব, তখন অবশ্যই নিজের সেরাটা দিতে চাইব।”
গত জুলাইয়ে ভারতের হয়ে টি-টোয়েন্টি অভিষেক অবশ্য হয়ে গেছে তার। জিম্বাবুয়েতে ওই ম্যাচে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পাননি। দেশের হয়ে রঙিন পোশাকে অভিষেক অবশ্য আরও আগে হয়েছে তার। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে খেলেছেন তিনটি ওয়ানডে। অভিষেকে ৪৩ বলে ৫৫ করে অপরাজিত ছিলেন, পরের ম্যাচে করেন ৬২। এমন শুরুর পরও তারকায় ঠাসা ভারতের ওয়ানডে দলে ওই সিরিজের পর আর সুযোগ মেলেনি তার।
সামনে আছে টেস্ট অভিষেকের হাতছানি। ইংল্যান্ড সফরে ভারতের টেস্ট স্কোয়াডে ঠাঁই মিলেছে তার। আইপিএল শেষে কদিন পর উড়াল দেবেন লাল বলের সেই চ্যালেঞ্জ শুরুর অভিযানে।
তবে আইপিএলটা যেভাবে শেষ হলো, তাতে তার মনে বাজছে আক্ষেপের ডঙ্কা। নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে অতৃপ্তি নেই। তবে টুর্নামেন্টজুড়ে বেশির ভাগ সময় পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে বা শীর্ষ দিকে থেকেও শেষ সময়ে খেই হারিয়ে সেরা দুইয়ে জায়গা করতে না পারা এবং শেষ পর্যন্ত এলিমিনেটর হেরে বিদায়, এটা পোড়াচ্ছে তাকে।
“ভালো লাগছে, যে ভালো একটি মৌসুম কেটেছে আমার বা দলের জন্য যথেষ্ট ধারাবাহিক হতে পেরেছি। তবে আসল কাজটা শেষ করতে না পারলে বাড়ি ফিরে চূড়ান্ত তৃপ্তি পাওয়া যায় না। কাজেই গোটা আবহের মধ্যেই অনেক হতাশা আছে। কারণ প্রথম ১২-১৩ ম্যাচে আমরা যেভাবে খেলেছিলাম, দল হিসেবে এবং বাইরে থেকেও তা দারুণ ছিল।”
“এমনকি এখনও পেছন ফিরে তাকালে দেখব, আমাদের দলটা এত ভালো ছিল এবং এত কিছু তারা ঠিকঠাক করেছে… এরপর এভাবে টুর্নামেন্ট শেষ করাটা অবশ্যই পরিপূর্ণ তৃপ্তি দেয় না। তবে পারফরম্যান্সের প্রশংসা করা এবং এখান থেকে শেখাই সামনে এগিয়ে যাওয়ার ব্যাপার।”
