শামির মাঝে এখনও জাতীয় দলে ফেরার ‘ক্ষুধা ও প্রেরণা’ দেখছেন কিষান
৩৬ বছর বয়সী মোহাম্মাদ শামির ভারত দলে প্রত্যাবর্তনের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ইশান কিষান।
দেড় বছর ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাইরে মোহাম্মাদ শামি। তবে ঘরোয়া ক্রিকেটে তিনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। জাতীয় দলে সুযোগ না পাওয়া সত্ত্বেও ঘরোয়া ক্রিকেটে কঠোর পরিশ্রম চালিয়ে যাওয়ায় ৩৬ বছর বয়সী পেসারের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন ইশান কিষান। শামির মাঝে ভারত দলে ফেরার দৃঢ়সংকল্প দেখতে পাচ্ছেন তিনি।
এই দুজনই বর্তমানে ভারতের ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির প্রতিযোগিতা দুলিপ ট্রফিতে খেলছেন ইস্ট জোনের হয়ে। চেন্নাইয়ে রোববার শুরু ফাইনালে সাউথ জোনের মুখোমুখি হবে তারা।
বেঙ্গালুরুতে সেন্ট্রাল জোনের বিপক্ষে সেমি-ফাইনালে বেশ ভালো বোলিং করেন শামি। ম্যাচে পাঁচ উইকেট নিয়ে ১৩ বছরের মধ্যে প্রথমবার ইস্ট জোনের প্রতিযোগিতাটির ফাইনালে ওঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। কিষান দলটির অধিনায়ক। ফলে শামিকে কাছ থেকেই দেখার সুযোগ পাচ্ছেন এই কিপার-ব্যাটসম্যান।
আসছে ফাইনাল হবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে শামির শততম ম্যাচ। আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে কিষান বলেন, এই মৌসুমে শামিকে আগের চেয়ে অনেকটাই আলাদা মনে হচ্ছে তার।
“আমার মনে হয় বয়স কেবল একটি সংখ্যা। তিনি যদি কঠোর পরিশ্রম করেন, তাহলে কোনো সমস্যা নেই, তিনি খুবই ভালো করছেন। আমাদের দলে তার উপস্থিতি আমাদের আরও বেশি আত্মবিশ্বাস জোগায়, যখন দলে এমন বোলার থাকে, যারা উইকেট এনে দিতে পারে, বিশেষ করে এই মৌসুমে শামি ভাইকে দেখলে, তার তীব্রতা, তার প্রাণশক্তি একদমই আলাদা।
“সেই (২০২৩) বিশ্বকাপে (যখন তিনি দুর্দান্ত ফর্মে ছিলেন), তারপর তিন বছর কেটে গেছে। যখন নিয়মিত ভারতীয় দলের হয়ে খেলতে পারেন না, তখন ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলার জন্য আবার সেই একই ধরনের প্রেরণা খুঁজে পাওয়া কঠিন। কিন্তু আমার মনে হয়, তার মাঝে সেই ক্ষুধাটা দেখতে পাচ্ছি, কারণ ক্ষুধার কথা বললে এই মুহূর্তে আমার চেয়ে ভালো আর কে ভালো বলতে পারবে?”
শামি সবশেষ জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করেন ২০২৫ সালের মার্চে, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে। ওই আসরে ভারুন চক্রবর্তীর সঙ্গে যৌথভাবে দলের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি ছিলেন তিনি।
ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিকভাবে পারফর্ম করে গেলেও জাতীয় দলের দুয়ার আর খোলেনি তার জন্য।
তবে ভারতের হয়ে ৬৪টি টেস্ট, ১০৮টি ওয়ানডে ও ২৫টি টি-টোয়েন্টি খেলা অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের মাঝে দলে ফেরার আকাঙ্ক্ষা আগের মতোই প্রবল দেখতে পাচ্ছেন কিষান।
“আমার মনে হয়, এই মুহূর্তে তার মাঝে সেই ক্ষুধা ও প্রেরণা দুটোই আছে। তিনি ফিরতে চান, আবার ভারতীয় দলের অংশ হতে চান, যেটা তার মধ্যে দেখতে পাবেন। যখন আমি দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছি, তখনও তিনি আমাকে সাহায্য করার চেষ্টা করছেন... তার প্রচেষ্টা দেখে অধিনায়ক হিসেবে আমার খুব ভালো লেগেছে।”
