যে জন্য টেইলরকে প্রথম ইনিংসে গার্ড অব অনার

কাগজে-কলমে আরও একটি ইনিংস বাকি তখনও। কিন্তু প্রথম ইনিংসেই রস টেইলরকে ‘গার্ড অব অনার’ দেয় বাংলাদেশ। ম্যাচ শেষে মুমিনুল হক দিলেন এর ব্যাখ্যা। জানালেন, দলের সবার মিলিত সিদ্ধান্তেই বিদায়ী কিউই ব্যাটসম্যানকে প্রথম ইনিংসে সম্মান জানাতে চেয়েছিলেন তারা।

ক্রীড়া প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 11 Jan 2022, 11:32 AM
Updated : 11 Jan 2022, 11:32 AM

ইনিংস ব্যবধানের জয় দিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারের ইতি টেনেছেন টেইলর। শেষ বলে নিয়েছেন উইকেট। তার বিদায়ী ম্যাচে সম্মান জানিয়েছে প্রতিপক্ষও। সংবাদ সম্মেলনে মুমিনুল জানালেন, কেন তারা দ্বিতীয় ইনিংসের জন্য অপেক্ষায় থাকেননি।  

“আমরা জানতাম, শেষ দুই দিন বৃষ্টি হবে। জানতাম, এটাই টেইলরের শেষ টেস্ট। তাই তার ক্যারিয়ারের প্রতি সম্মান দেখানোর জন্য প্রথম ইনিংসে গার্ড অব অনার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই আমরা। নিউ জিল্যান্ড ক্রিকেটের একজন কিংবদন্তিকে এভাবে সম্মান জানাতে পেরে দলের সবাই খুশি।”

নিউ জিল্যান্ডের সফলতম টেস্ট ব্যাটসম্যানের জন্য মুমিনুলের কণ্ঠে ছিল একরাশ প্রশংসা। বাংলাদেশ অধিনায়কের কাছে তিনি ক্রিকেট গ্রেটদের একজন। 

“আমি যখন বড় হয়ে উঠেছি, তখন থেকেই তার খেলা দেখি। আমার মনে হয়, তিনি নিউ জিল্যান্ডের একজন কিংবদন্তি। তিনি ছিলেন নিউ জিল্যান্ডের জন্য অসাধারণ এক খেলোয়াড়। আমার মনে হয়, তাকে আমরা সবাই মিস করব, বিশেষ করে নিউ জিল্যান্ড ক্রিকেট। ধন্যবাদ, ধন্যবাদ রস, সুন্দর ক্যারিয়ারের জন্য। জীবনের বাকি সময়ের জন্য শুভ কামনা।”

ক্রাইস্টচার্চ টেস্টের প্রথম দিনে নিউ জিল্যান্ড ব্যাট করলেও টেইলর নামার সুযোগ পাননি। দ্বিতীয় দিন সকালে ডেভন কনওয়ে রান আউট হওয়ার পর ব্যাট হাতে ক্রিজে যান ৩৭ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান।

মাঠে প্রবেশের সময় হ্যাগলি ওভালের দর্শকেরা তুমুল হর্ষধ্বনি ও করতালিতে স্বাগত জানান টেইলরকে। দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানায় গোটা মাঠ।

মাঠের ভেতরে বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা মুখোমুখি দুই সারিতে দাঁড়িয়ে ‘গার্ড অব অনার’ দেন এই কিউই গ্রেটকে। আম্পায়াররাও তখন সঙ্গী হন বাংলাদেশ দলের। বাংলাদেশ অধিনায়ক মুমিনুল হকের সঙ্গে করমর্দন করে টেইলর ক্রিজে যান। সেখানে তার সঙ্গী তখন ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক টম ল্যাথাম।

দিনের খেলা শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে টেইলর কতৃজ্ঞতা জানান বাংলাদেশ দলের প্রতি, “ধন্যবাদ বাংলাদেশ, আজকে ক্রিজে যাওয়ার সময় সত্যিই সম্মানজনক একটি মুহূর্ত উপহার দেওয়ায়। এটা এমন কিছু, যা আমি কখনোই ভুলব না।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক