মার্শের বোলিং চমক, বাটলারের লড়াই

বোলিংয়ে একটি বিকল্প বাড়ানো আর লম্বা সিরিজের শেষ ম্যাচে  মূল ফাস্ট বোলারদের একটু বিশ্রামের সুযোগ দেওয়া। মূলত এই ভাবনা থেকেই একাদশে ফেরানো হলো মিচেল মার্শকে। কিন্তু সহকারীর ভূমিকায় এসে তিনিই হয়ে উঠলেন কেন্দ্রীয় চরিত্র। দুর্দান্ত বোলিংয়ে কাঁপিয়ে দিলেন ইংলিশ ব্যাটিং। কিন্তু একজন দাঁড়িলে গেলেন ব্যাট হাতে। দারুণ ব্যাটিংয়ে জস বাটলার কিছুটা উদ্ধার করলেন ইংল্যান্ডকে।

স্পোর্টস ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 12 Sept 2019, 06:24 PM
Updated : 12 Sept 2019, 06:24 PM

অ্যাশেজের শেষ টেস্টের প্রথম দিনে ওভালে ব্যাট-বলের লড়াই হলো জমজমাট। খেলা হয়েছে ৮২ ওভার। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা ইংল্যান্ড ৮ উইকেটে করেছে ২৭১ রান।

ওভালের উইকেটে পেসারদের জন্য যেমন সুইং ছিল, ব্যাটসম্যানদের জন্যও ছিল টিকে থাকা ও রান করার সুযোগ। স্পোর্টিং উইকেটে লড়াই হয়েছে তুমুল। ইংলিশদের বেশ কয়েকজন ব্যাটসম্যান আউট হয়েছেন থিতু হয়েও। অস্ট্রেলিয়ান পেসাররা দেখিয়েছেন গতি ও স্কিল।

মূলত ব্যাটিং অলরাউন্ডার হলেও মার্শ চমকে দিয়েছেন বল হাতে। গতি ছিল দারুণ, ৯০ মাইল ছুঁইছুঁই ছিল অনেক সময়ই। সুইং করিয়েছেন বল, ছুঁড়েছেন চোখধাঁধানো ইয়র্কার। দিন শেষে ৩৫ রানে নিয়েছেন ৪ উইকেট, তার ক্যারিয়ার সেরা বোলিং।

শুরুর আঘাত যদিও এসেছে যথারীতি সিরিজের সফলতম বোলার প্যাট কামিন্সের হাত ধরে। ফিরিয়ে দেন ১৪ রান করা জো ডেনলিকে।

তবে ররি বার্নস ও জো রুট দ্বিতীয় উইকেটে গড়ে দারুণ জুটি। ১ উইকেটে ৮৬ রান নিয়ে লাঞ্চে যায় ইংল্যান্ড। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা দলের জন্য বলা যায় দারুণ শুরু।

এই জুটিতেই ইংল্যান্ড পেরিয়ে যায় একশ। কামিন্সের বলে দুইবার ক্যাচ দিয়ে বেঁচে যান রুট। ২৪ রানে একবার, আরেকবার ২৫ রানে।

৭৬ রানের জুটি ভাঙে জশ হেইজেলউডের সৌজন্যে। ৪৭ রান করা বার্নসের ক্যাচ নেন মার্শ।

এরপর মার্শ দৃশ্যপটে চলে আসেন বল হাতে। বেন স্টোকসকে ফেরান ২০ রানে।

ফিফটি পেরিয়ে রুট টিকে ছিলেন তখনও। দ্বিতীয় সেশন শেষেও বেশ ভালো অবস্থানে ছিল ইংল্যান্ড, স্কোর ছিল ৩ উইকেটে ১৬৯।

চা বিরতির পর বদলে যায় চিত্র। অসাধারণ একটি ডেলিভারিতে কামিন্স উড়িয়ে দেন রুটের বেলস।

এরপর মার্শ মেলে ধরেন নিজেকে। ২২ রান করা জনি বেয়ারস্টোকে ফেরান দারুণ ইয়র্কারে। জেসন রয়ের জায়গায় একাদশে সুযোগ পাওয়া স্যাম কারান আউট হন একটি করে চার ও ছক্কায় ১৫ রান করে। ক্রিস ওকসও জবাব পাননি মার্শের ইয়র্কারের।

এরপর জশ হেইজেলউডের দুর্দান্ত ডেলিভারি যখন ফেরাল জফরা আর্চারকে, ইংল্যান্ডের রান ৮ উইকেটে ২২৬। অপেক্ষা ইনিংস শেষের।

বাটলার তখন পর্যন্ত এক প্রান্ত আগলে ছিলেন। ইনিংস শেষ দিকে দেখে শুরু করলেন শট খেলা। তাকে আর থামানোর পথই পেল না অস্ট্রেলিয়া। হেইজেলউডকে ছক্কায় ওড়ালেন টানা দুই বলে। পরে হেইজেলউডকেই আরেকবার আছড়ে ফেললেন গ্যালারিতে। তাকে দারুণ সঙ্গ দিলেন জ্যাক লিচ।

দ্বিতীয় নতুন বলের সুযোগ হওয়া মাত্র নিতে দেরি করেনি অস্ট্রেলিয়া। তবে ২ ওভার বোলিংয়ের পরই আলোকস্বল্পতায় শেষ দিনের খেলা।

বাটলার তখন অপরাজিত ৬৪ রানে। নবম উইকেটে লিচের সঙ্গে জুটি হয়ে গেছে ৪৫ রানের। ইংল্যান্ড দিন শেষ করেছে কিছুটা স্বস্তিতে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ইংল্যান্ড ১ম ইনিংস: ৮২ ওভারে ২৭১/৮ (বার্নস ৪৭, ডেনলি ১৪, রুট ৫৭, স্টোকস ২০, বেয়ারস্টো ২২, বাটলার  ৬৪*, কারান ১৫, ওকস ২, আর্চার ৯, লিচ ১০*; কামিন্স ২২.৫-৫-৭৩-২, হেইজেলউড ২১-২-৭৬-২, সিডল ১৭-১-৬১-০, মার্শ ১৬.১-৪-৩৫-৪, লায়ন ৪-০-১২-০,লাবুশেন ১-০-৫-০)।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক