পাকিস্তানকে গুঁড়িয়ে শুরু ভারতের

চার অর্ধশতকে বড় সংগ্রহ গড়ার পর দারুণ বোলিং-ফিল্ডিংয়ে পাকিস্তানকে গুঁড়িয়ে দিয়েছে ভারত। বড় জয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্যে দুর্দান্ত শুরু পেয়েছে বিরাট কোহলির দল।

স্পোর্টস ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 4 June 2017, 03:12 PM
Updated : 5 June 2017, 10:10 AM

দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াইয়ে ডাকওয়ার্থ ও লুইস পদ্ধতিতে ভারতের জয় ১২৪ রানে।

দারুণ ব্যাটিংয়ে ভিত গড়ে দেন দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান রোহিত শর্মা ও শিখর ধাওয়ান। শেষের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে দলকে বড় সংগ্রহ এনে দেন বিরাট কোহলি ও যুবরাজ সিং।

যে উইকেটে ব্যাটসম্যানদের ওপর প্রভাবই ফেলতে পারেননি পাকিস্তানের বোলাররা সেই উইকেটে তাদের ব্যাটসম্যানদের কাঁপিয়ে দেন ভারতের বোলাররা। পাকিস্তান গুটিয়ে যায় ১৬৪ রানে।

শুরুতে ৪৮ ওভারে ডাকওয়ার্থ ও লুইস পদ্ধতিতে জয়ের জন্য পাকিস্তানের লক্ষ্য ছিল ৩২৪ রান। ইনিংসের পঞ্চম ওভারে আবার বৃষ্টি নামলে নতুন লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪১ ওভারে ২৯০ রান। তার ধারে কাছেও যেতে পারেনি সরফরাজ আহমেদের দল।

 

জয়ের জন্য যে শুরু দরকার ছিল তা এনে দিতে পারেননি কেউ। আহমেদ শেহজাদ, বাবর আজম ফিরেন দ্রুত। এক প্রান্ত আগলে রাখা আজহার আলি বিদায় হন ৬টি চারে ৫০ করেই।

থিতু হয়ে ফিরেন মোহাম্মদ হাফিজ। দুই চার আর এক ছক্কায় আক্রমণাত্মক শুরু করা শোয়েব মালিককে দারুণ এক থ্রোয়ে রান আউট করেন রবীন্দ্র জাদেজা। রানের খাতা খোলার আগেই ইমাদ ওয়াসিমকে ফেরান হার্দিক পান্ডিয়া।

ভারতের উদ্বোধনী জুটির রান পার হওয়ার আগেই ১৩৫ রানে নেই পাকিস্তানের ৬ উইকেট। দলের বিপদে পথ দেখাতে পারেননি সরফরাজ আহমেদ।  

পরপর দুই বলে মোহাম্মদ আমির ও হাসান আলিকে ফিরিয়ে দলকে দারুণ জয় এনে দেন উমেশ যাদব। চোটের জন্য ব্যাটিং করেননি ওয়াহাব রিয়াজ।

৩০ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ভারতের সেরা বোলার উমেশ। দুটি করে উইকেট পান্ডিয়া ও জাদেজার। এই ম্যাচে ভারত খেলায়নি রবিচন্দ্রন অশ্বিনকে। এই অফ স্পিনারের অভাব অনুভবই করতে দেননি অন্য বোলররা।

 

টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামার পর তিনবার বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ হলেও ছন্দ হারায়নি ভারত। শেষ পর্যন্ত ৪৮ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে ৩ উইকেটে হারিয়ে কোহলির দল করে ৩১৯ রান।

বার্মিংহ্যামের এজবাস্টনে ভারতের শুরুটা ছিল সতর্ক, মন্থর। নতুন বলে মোহাম্মদ আমির ও ইমাদ ওয়াসিমের হুমকি সাবধানী ব্যাটিংয়ে পার করে দেন রোহিত ও ধাওয়ান।

সময় গড়ানোর সঙ্গে আলগা হতে থাকে ফাঁস, শট খেলতে শুরু করেন দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান। ৬৫ বলে আসে তাদের জুটির অর্ধশতক, ১১৮ বলে রান যায় তিন অঙ্কে।

দ্রুত এগোতে থাকা ধাওয়াকে ফিরিয়ে প্রথম সাফল্য এনে দেন শাদাব খান।

৬৫ বলে খেলা ধাওয়ানের ৬৮ রানের ইনিংসটি গড়া ৬টি চার ও একটি ছক্কায়। রোহিত ছিলেন শতকের পথে। দলকে দৃঢ় ভিত গড়ে দেওয়া ডানহাতি ব্যাটসম্যান ফিরেন রান আউট হয়ে। ১১৯ বলে খেলা তার ৯১ রানের ইনিংসটি গড়া ৭টি চার ও দুটি ছক্কায়।

তৃতীয় উইকেটে ঝড় তুলেন যুবরাজ ও কোহলি, ৯.৪ ওভারে সংগ্রহ করেন ৯৩ রান। এক করে ছাড়েন পাকিস্তানের বোলারদের চোখের জল-নাকের জল। এই জুটি ভাঙত পারত শুরুতেই, মাত্র ৮ রানে হাসান আলির হাতে জীবন পান যুবরাজ।

 

সুযোগটা কাজে লাগান দুই হাতে। ৩২ বলে ৫৩ রান করতে বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান হাঁকান ৮টি চার ও একটি ছক্কা। চমৎকার এই ইনিংসে জেতেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার।

প্রমোশন পেয়ে ব্যাট করতে নেমে তিনটি ছক্কায় ৬ বলে ২০ রানে অপরাজিত থাকেন পান্ডিয়া।

৪৩ রানে ফখর জামানের হাতে জীবন পান কোহলি। শেষ ১১ বলে অধিনায়ক তুলেন ঝড়, যার শুরু হাসানকে ছক্কা হাঁকিয়ে অর্ধশতকে পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে।

ওয়াহাব রিয়াজকে টানা দুই চার আর লং অন দিয়ে ছক্কা হাঁকান। হাসানের বলে কাভার দিয়ে পরপর দুই বলে আসে চার আর ছক্কা। শেষ পর্যন্ত ৬৮ বলে ৬টি চার আর তিনটি ছক্কায় অপরাজিত ৮১ রানে।

শেষ ১০ ওভারে ভারত নেয় ১১৩ রান, শেষ ৫ ওভারে ৭৭ রান। শেষের দিকে বল ফেলার জায়গা পাচ্ছিলেন না পাকিস্তানের বোলাররা। চোট পেয়ে ওভার অসমাপ্ত রেখেই মাঠ মাঠ ছাড়েন আমির ও ওয়াহাব।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ভারত: ৪৮ ওভারে ৩১৯/৩ (রোহিত ৯১, ধাওয়ান ৬৮, কোহলি ৮১*, যুবরাজ ৫৩, পান্ডিয়া ২০*; আমির ০/৩২, ওয়াসিম ০/৬৬, হাসান ১/৭০, ওয়াহাব ০/৮৭, শাদাব ১/৫২, মালিক ০/১০)

পাকিস্তান: ৩৩.৪ ওভারে ১৬৪ (আজহার ৫০, শেহজাদ ১২, বাবর ৮, হাফিজ ৩৩, মালিক ১৫, সরফরাজ ১৫, ওয়াসিম ০, শাদাব ১৪*, আমির ৯, হাসান ০, ওয়াহাব আহত অনুপস্থিত; ভুবনেশ্বর ১/২৩, উমেশ ৩/৩০, বুমরাহ ০/২৩, পান্ডিয়া ২/৪৩, জাদেজা ২/৪৩)

ফল: ভারত ডাকওয়ার্থ ও লুইস পদ্ধতিতে ১২৪ রানে জয়ী

ম্যান অব দ্য ম্যাচ: যুবরাজ সিং

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক