হার্মানের রেকর্ড গড়া ইনিংসে দ. আফ্রিকার বড় জয়
নামিবিয়ার বিপক্ষে বৃষ্টিবিঘ্নিত প্রথম ওয়ানডে ডাকওয়ার্থ-লুইস ও স্টার্ন পদ্ধতিতে ৯৯ রানে জিতেছে প্রোটিয়ারা।
ওয়ানডে অভিষেকে দ্যুতি ছড়ালেন জর্ডান হার্মান। চমৎকার ব্যাটিংয়ে দেড়শ ছুঁয়ে গড়লেন রেকর্ড। সঙ্গে বাকিদের অবদানে নামিবিয়ার বিপক্ষে বড় সংগ্রহ গড়ল দক্ষিণ আফ্রিকা। পরে প্রেনেলান সুব্রায়েনের দারুণ বোলিংয়ে বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ল প্রোটিয়ারা।
নামিবিয়ার উইন্ডহুকে বুধবার বৃষ্টিবিঘ্নিত প্রথম ওয়ানডেতে ডাকওয়ার্থ-লুইস ও স্টার্ন পদ্ধতিতে ৯৯ রানে জিতেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে গেছে তারা।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ৬ উইকেটে ৩৪৮ রান করে সফরকারীরা। নামিবিয়ার ইনিংসের মাঝপথে বৃষ্টি নামলে তাদের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৩১ ওভারে ২৬২ রানের। ৮ উইকেট হারিয়ে ১৬২ রান করতে পারে স্বাগতিকরা।
নিয়মিত ক্রিকেটারদের অনুপস্থিতিতে সুযোগ পেয়ে তা দারুণভাবে কাজে লাগান হার্মান। ইনিংস শুরু করতে নেমে ১২৬ বলে তিন ছক্কা ও ১৭ চারে ১৫০ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। ওয়ানডে অভিষেকে সেঞ্চুরি করা ২০তম ক্রিকেটার তিনি, দক্ষিণ আফ্রিকার পঞ্চম।
তবে ওয়ানডে ইতিহাসের কেবল দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে নিজের প্রথম ইনিংসে দেড়শ স্পর্শ করলেন হার্মান। আগের জনও ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকান। গত বছর প্রথমবার কীর্তিটি গড়েন ম্যাথু ব্রিটস্কি। লাহোরে পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৪৮ বলে পাঁচ ছয় ও ১১ চারে তিনিও খেলেন ঠিক ১৫০ রানের ইনিংস।
হার্মানের সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেটে ১৯০ রানের জুটি গড়ার পথে একটি ছক্কা ও সাতটি চারে ৭২ রান করেন টনি ডি জর্জি।
পরে নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে কেবল ২৯ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন দক্ষিণ আফ্রিকার অফ স্পিনার সুব্রায়েন। তার মতো ৪ শিকার ধরেন নামিবিয়ার পেসার রুবেন ট্রাম্পেলমানও।
টেম্বা বাভুমা, এইডেন মার্করামসহ নিয়মিত খেলোয়াড়দের প্রায় কেউই নেই নামিবিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে। নতুন চেহারার দলে ইনিংস শুরু করেন দুই অভিষিক্ত কনর এস্তেহেইজেন ও হার্মান।
নামিবিয়ায় ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজে ভালো করা এস্তেহেইজেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের শুরুটা ভালো করতে পারেননি। সপ্তম ওভারে বিদায় নেন তিনি ১০ রান করে। এরপর দলকে বড় পুঁজির পথে এগিয়ে নেন হার্মান ও ডি জর্জি।
দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে দুইজনেই বাড়াতে থাকেন রান। ৬১ বলে ফিফটি স্পর্শ করেন হার্মান। ডি জর্জির পঞ্চাশ আসে ৬৪ বলে।
ফিফটির পর অল্পের জন্য বেঁচে যান হার্মান। বেনার্ড শুলজের বলে তাকে স্টাম্পড করতে পারেননি জেন গ্রিন। তখন ৬৬ রানে খেলছিলেন হার্মান। পরে রানের গতি বাড়িয়ে ৯৩ বলে কাঙ্ক্ষিত তিন অঙ্ক স্পর্শ করেন তিনি। তার দ্বিতীয় পঞ্চাশ আসে কেবল ৩২ বলে।
তার সেঞ্চুরি ছোঁয়ার তিন ওভার পর এরাসমাসের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে যান ডি জর্জি। ডেওয়াল্ড ব্রেভিসের সঙ্গে ৫৮ রানের জুটি গড়েন হার্মান। ১২৫ বলে ১৫০ ছোঁয়ার পরের বলেই বড় শটের আশায় ক্যাচ দিয়ে ড্রেসিং রুমে ফেরেন হার্মান।
একটি ছক্কা ও তিনটি চারে ৩৩ রান করেন ডেওয়াল্ড ব্রেভিস। শেষ দিকে তিন ছক্কা ও এক চারে ৩৯ রানে অপরাজিত থাকেন কর্বিন বশ।
এই ম্যাচে হার্মানের ভাই রুবিন হার্মানও। এদিন ওয়ানডে অভিষেক হয়েছে মার্কো ইয়ানসেনের যমজ ভাই ডুয়ান ইয়ানসেনেরও।
বড় লক্ষ্য তাড়ায় আশানুরূপ শুরু পায়নি নামিবিয়া। চতুর্দশ ওভারে তাদের ৫১ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন কেওয়েনা মাফাকা। এই পেসার কিছুক্ষণ পরে ভাঙেন ইয়ান ফ্রাইলিঙ্কের স্টাম্প। পরের ওভারে ইনিংসে সর্বোচ্চ ৩৪ রান করা মালান ক্রুগারকে এলবিডব্লিউ করে দেন সুব্রায়েন।
২২তম ওভারের মাঝে নামে বৃষ্টিতে। তাতে দীর্ঘক্ষণ বন্ধ থাকে খেলা। পরে খেলা শুরু হলে ৩৮ ওভারে নামিয়ে আনা হয় দৈর্ঘ্য। তখন শেষ ১৬.৩ ওভারে নামিবিয়ার সামনে দাঁড়ায় ২২৫ রানের লক্ষ্য।
এক ওভার হতেই আবার নামে বৃষ্টি। তখন আরও সাত ওভার কমিয়ে আনা হয় দৈর্ঘ্য। এবার ৮ ওভারে তাদের প্রয়োজন পড়ে ১৬৭ রানের। অসম্ভব সেই লক্ষ্যে বেশিদূর যেতে পারেনি তারা।
সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে আগামী শুক্রবার।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
দক্ষিণ আফ্রিকা: ৫০ ওভারে ৩৪৮/৬ (জর্ডান হার্মান ১৫০, এস্তেহেইজেন ১০, ডি জর্জি ৭২, ব্রেভিস ৩৩, রুবিন হার্মান ৮, স্মিথ ১৫, বশ ৩৯*, ইয়ানসেন ১*; ট্রাম্পেলমান ১০-০-৬৮-৪, স্মিট ১০-১-৫৯-১, ব্রাসেল ৮-০-৫৫-০, এরাসমাস ৭-০-৪৫-১, হেইঙ্গো ৫-০-৩৯-০, শুলজ ১০-০-৭৮-০)
নামিবিয়া: ৩১ ওভারে ১৬২/৮ (ক্রুগার ৩৪, আলেজান্ডার ১৫, ফ্রাইলিঙ্ক ৭, স্টিনক্যাম্প ৯, এরাসমাস ২১, গ্রিন ১১, স্মিট ৩১, ট্রাম্পেলমান ১৪*, ব্রাসেল ০, শুলজ ১*; ইয়ানসেন ৬-০-১৩-১, বশ ৭-১-৩৬-১, মাফাকা ৬-০-৩২-২, ফোরটান ৬-০-৪৬-০, সুব্রায়েন ৬-০-২৯-৪)
ফল: ডিএলএস পদ্ধতিতে ৯৯ রানে জয়ী দক্ষিণ আফ্রিকা
ম্যান অব দা ম্যাচ: জর্ডান হার্মান
সিরিজ: ৩ ম্যাচের সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা
