২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬ কার্তিক ১৪৩৩

বাবর-রিজওয়ানের উদ্বোধনী জুটিতে পরিবর্তন চান আর্থারও

ফখর জামানকে ওপেন করানোর পরামর্শ দিলেন পাকিস্তানের সাবেক কোচ।

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 30 Aug 2022, 07:13 PM

Updated : 30 Aug 2022, 07:13 PM

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বাবর আজম ও মোহাম্মদ রিজওয়ানের উদ্বোধনী জুটির ধারাবাহিকতা দুর্দান্ত। তবুও দলের স্বার্থে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপে পরিবর্তন আনার প্রয়োজনীয়তা দেখছেন মিকি আর্থার। এই দুইজনের একজনকে নিচে নামিয়ে ফখর জামানকে ওপেনিংয়ে খেলানোর পরামর্শ দিলেন দেশটির সাবেক কোচ।

বাবর ও রিজওয়ানের শুরুর জুটি নিয়ে আলোচনা নতুন মাত্রা পেয়েছে ভারতের বিপক্ষে এশিয়া কাপের ম্যাচে দলটির ব্যাটিং ব্যর্থতার পর। ১৫ রানের উদ্বোধনী জুটিতে ১০ রান করে আউট হয়ে যান বাবর। অনেকটা সময় উইকেটে থেকে ৪২ বলে ৪৩ রান করেন রিজওয়ান।

অনভিজ্ঞ মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানরাও তেমন কিছু করতে না পারায় আগে ব্যাটিং করা পাকিস্তানে থেমে যায় ১৪৭ রানে। ম্যাচটি ভারত জিতে যায় ৫ উইকেটে। এরপর বাবরের ওপেন করা নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেন দেশটির সাবেক গতি তারকা শোয়েব আখতার।

আইসিসি টি-টোয়েন্টি ব্যাটসম্যানদের র‍্যাঙ্কিংয়ে বাবর আছেন শীর্ষে। কিপার-ব্যাটসম্যান রিজওয়ানের অবস্থান তিনে। ওপেনিংয়ে একসঙ্গে নেমেই দারুণ সব ইনিংস খেলে র‍্যাঙ্কিংয়ে এই অবস্থান পেয়েছেন তারা।

২০ ওভারের ক্রিকেটে ইনিংস শুরু করতে নেমে বাবরের ধারাবাহিকতা তো চোখধাঁধানো। পাকিস্তান অধিনায়ক ৪৯ ইনিংস ওপেন করে সেঞ্চুরি করেছেন একটি, ফিফটি ২০টি। ব্যাটিং গড় ৪৩.৬৮, স্ট্রাইক রেট ১৩২.৫৩।

রিজওয়ান ওপেন করেছেন ৩১ ইনিংসে। যেখানে স্ট্রাইক রেট ১৩৩.৩৩, সেঞ্চুরি একটি ও ফিফটি ১৩টি। তার গড় চোখ কপালে উঠার মতো, ৬৬.০৮! কমপক্ষে ২০ ইনিংস ওপেন করেছেন এমন ব্যাটসম্যানদের মধ্যে ৫০ গড়ও নেই কারো। সব পজিশন মিলিয়ে কমপক্ষে ২০ ইনিংস ব্যাটিং করাদের মধ্যে রিজওয়ানের ৫০.১৪ গড় সর্বোচ্চ।

দলটির মিডলঅর্ডার দুর্বল হওয়ার কারণেই মূলত ভিন্ন এসব আলোচনা উঠছে। বাবর-রিজওয়ানের একজন তিনে খেললে ব্যাটিং লাইন আপের গভীরতা বাড়বে, ক্রিকেট ওয়েবসাইট ইএসপিএনক্রিকইনফোর ‘টি-টোয়েন্টি টাইম আউট’-এ বলেন আর্থার।

২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত দলটির সঙ্গে কাজ করা এই কোচের মতে, ফখরকে ওপেন করালে বাঁহাতি-ডানহাতি ব্যাটিং কম্বিনেশনও পাওয়া যাবে।

“ফখর জামানকে ওপরে খেলালে বাঁহাতি ও ডানহাতি কম্বিনেশন পাওয়া যাবে, তখন বোলারদের ভিন্ন অ্যাঙ্গেলে বোলিং করতে হবে। তিনে বাবর কিংবা রিজওয়ান খেললে ব্যাটিংয়ের গভীরতা কিছুটা বাড়বে, কেউ একজন দলের ইনিংস গড়ার কাজ করতে পারবে এবং এক প্রান্ত আগলে রাখবে। অন্যরা তখন তাদের ঘিরে ব্যাটিং করবে।”

“আমার মনে হয় বাবর ও রিজওয়ানের আগে-পরে নামা উচিত। ফখর মাঠের বিভিন্ন প্রান্তে বল মারতে পারে, এটা বোলারদের কিছুটা হতাশ করে দেবে। বাঁহাতি-ডানহাতি ব্যাটসম্যানের কম্বিনেশন পাওয়া যাবে। তাই বাবর ও রিজওয়ানকে আলাদা করে ফখর জামানকে উপরে খেলানো যেতে পারে।”

পাকিস্তান দলে এখন নেই মোহাম্মদ হাফিজ, শোয়েব মালিকদের মতো ব্যাটসম্যান। এই জায়গায় দলটি ভুগছে বলে মনে করেন আর্থার।

“আমি যখন পাকিস্তানের সঙ্গে ছিলাম, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে আমরা তখন আরও সফল ছিলাম। প্রথমে ব্যাটিং করে ১৬০ রান করার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করতাম এবং পরে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলার জন্য বোলারদের ওপর নির্ভর করতাম।”

“আগের ও এখনকার দলের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে মিডল অর্ডার। মোহাম্মদ হাফিজ ও শোয়েব মালিক ছিল তখন। এখন মিডল অর্ডারে তরুণ ক্রিকেটার, খুব বেশি অভিজ্ঞতা নেই তাদের। দ্রুত তিন উইকেট পড়ে গেলেই আমার মনে হয় তারা ধুঁকবে।”