ম্যাচ বর্জনের পরিকল্পনার খবর উড়িয়ে দিলেন বাবর
স্কাই স্পোর্টসে ইমরান খানের ছেলেদের সাক্ষাৎকার প্রচারের জের ধরে পাকিস্তান দল মাঠে না নামার কথা ভেবেছিল বলে যে খবর ছড়িয়েছে, তা উড়িয়ে দিলেন পাকিস্তান অধিনায়ক।
প্রশ্ন শুনে বাবর আজম যেন আকাশ থেকে পড়লেন। একটু ভ্রু কুঁচকে পরে মুখে বিস্ময়ের হাসিতে বললেন, এমন কিছু তার জানা নেই। স্কাই স্পোর্টসের ইমরান খানের ছেলেদের একটি সাক্ষাৎকার ঘিরে বিতর্কের জের ধরে লর্ডস টেস্টের প্রথম দিনে লাঞ্চের পর পাকিস্তান দল মাঠে না নামার কথা ভেবেছিল বলে যে খবর ছড়িয়েছে, তা নাকচ করে দিলেন পাকিস্তান অধিনায়ক।
অধিনায়কের আগে পাকিস্তানের কোচ সারফারাজ আহমেদও দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে বলেছিলেন, এসব নিয়ে তাদের কিছু জানা নেই।
লর্ডস টেস্ট শেষে রোববার বিবিসি টেস্ট ম্যাচ স্পেশালে বাবরকে ধারাভাষ্যকার ইসা গুহ প্রশ্ন করেন, “প্রথম দিনের লাঞ্চের সময়টায় আপনাকে কি ফিরিয়ে নিতে পারি? টেলিভিশনে একটি সাক্ষাৎকার প্রচারিত হয়েছিল। লাঞ্চের পর পাকিস্তান দল মাঠে নামবে না, এমন কোনো ব্যাপার কি ছিল?” অবাক হওয়ার ভঙ্গিতে বাবর বলেন, “না, না, না। আমি ওসব শুনিনি…।”
ইসা আবার জিজ্ঞেস করেন, “এই ধরনের কোনো আলোচনা চলছিল বলে আপনার জানা ছিল না?” এবার এক কথায় বাবরের উত্তর, “না।”
ইমরান খানের দুই ছেলের সাক্ষাৎকারটি নেন ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ও ধারাভাষ্যকার মাইকেল আথারটন। ইংল্যান্ড-পাকিস্তানের লর্ডস টেস্টের প্রথম দিন লাঞ্চ বিরতিতে সাক্ষাৎকারটি প্রচারিত হয়। ১৮ মিনিটের সাক্ষাৎকারে ইমরানের চিকিৎসা, স্বাস্থ্য এবং অন্যান্য পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন তার দুই ছেলে।
সংবাদমাধ্যমের খবরে জানা যায়, এই সাক্ষাৎকারটি সম্প্রচারে আপত্তি জানিয়েছিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। টেস্টের প্রথম দিনে এতে উত্তেজনেও তৈরি হয়েছিল কিছুটা। এসবের প্রেক্ষিতেই বিবিসিসহ বেশ কিছু সংবাদমাধ্যম খবর প্রকাশ করেছিল, লাঞ্চের পর মাঠে না নামার কথা বলা হয়েছিল পাকিস্তান দলকে এবং সেই সিরিজের পরের টেস্টে না খেলার কথাও ভাবা হয়েছিল। তবে সেই খবরের সত্যতা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পিসিবির বর্তমান প্রধান মহসিন নাকভি দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও।
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেট অধিনায়ক ইমরান ২০২৩ সালের অগাস্ট থেকে রাওয়ালপিন্ডির একটি জেলে বন্দী আছেন এবং দুর্নীতির অভিযোগে বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড ভোগ করছেন, যে অভিযোগগুলো তিনি ও তার দল অস্বীকার করে আসছে।
গত ফেব্রুয়ারি থেকেই ইমরানের দল ও আইনজীবীরা তার স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। এক পর্যায়ে দলটি দাবি করে যে, অসুস্থ হওয়ার পরও চিকিৎসা না করানোর কারণে তার ডান চোখে মাত্র ১৫ শতাংশ দৃষ্টিশক্তি অবশিষ্ট ছিল। সম্প্রতি আদালতের নির্দেশনার পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও কয়েক ঘণ্টা পরই আবার জেলে ফেরত পাঠানো হয়। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার তখন বলেছিলেন, স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর ইমরানকে ‘মেডিক্যালি ফিট’ ঘোষণা করেছেন চিকিৎসকরা।
