ইংল্যান্ডে ইমামের ব্যাটে রানের জোয়ার
ছয় ম্যাচে তিনটি সেঞ্চুরি ও দুটি ফিফটি করেছেন পাকিস্তানি ওপেনার, ব্যাটিং গড় ১০২।
আরেকটি ম্যাচ, আরও একটি সেঞ্চুরি। ইমাম-উল-হাকের ব্যাটে বইছে রানের স্রোত। ইংল্যান্ডের ক্রিকেটে এই মুহূর্তে আকর্ষণের প্রায় সবটুকু জুড়েই আছে ‘দা হান্ড্রেড।’ তবে পাশাপাশি চলছে তাদের ৫০ ওভারের ক্রিকেটের টুর্নামেন্ট ওয়ানডে কাপও। সেখানেই ইয়র্কশায়ারের হয়ে অসাধারণ পারফর্ম করে চলেছেন পাকিস্তানি ওপেনার।
ইংল্যান্ডে যখন খেলতে গেলেন ইমাম, নিশ্চয়ই তার ভাবনায় ছিল পারফর্ম করে পাকিস্তান দলে ফেরার দাবি জানানো। জাতীয় নির্বাচকদের সেই বার্তা প্রবলভাবেই দিতে পেরেছেন বাঁহাতি ওপেনার।
ইয়র্কশায়ারের হয়ে রোববার ডারহামের বিপক্ষে ম্যাচ জেতানো সেঞ্চুরি করেছেন ইমাম। হোভ কাউন্টি গ্রাউন্ডে ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ২৮৪ রান তোলে সাসেক্স। ইয়র্কশায়ারের পেসার ম্যাট মিল্নস একাই নেন ৩৮ রানে ৭ উইকেট। রান তাড়ায় ১৪ বল বাকি রেখে ৬ উইকেটে জিতে যায় ইয়র্কশায়ার।
১০ চার ও ৩ ছক্কায় ১০৫ বলে ১০৬ রান করেন ইমাম। চলতি ওয়ানডে কাপে ছয় ম্যাচে তার তৃতীয় সেঞ্চুরি এটি।
ওয়ারউইকশায়ারের বিপক্ষে ৫৫ রানের ইনিংস দিয়ে আসর শুরু করেন ইমাম। পরের ম্যাচে নর্থ্যাম্পটনশায়ারের বিপক্ষে উপহার দেন ১৩০ বলে ১৫৯ রানের ইনিংস, যা তার ক্যারিয়ার সেরা।
পরের ম্যাচে তার ব্যাট থেকে আসে আরেকটি শতরান। এবার ল্যাঙ্কাশায়ারের বিপক্ষে করেন ১১৭ রান।
চতুর্থ ম্যাচে ১৩০ রান তাড়ায় অপরাজিত থাকেন ৫৪ রান করে। পরের ম্যাচে ডারহামের বিপক্ষে আউট হন ২২ রানে, টুর্নামেন্টে যা তার একমাত্র ব্যর্থতা।
সেটি পুষিয়ে দিতেই যেন সাসেক্সের বিপক্ষে আবার ফিরলেন সেঞ্চুরির পালায়।
ছয় ম্যাচে তার রান ৫১৩। ব্যাটিং গড় ১০২.৬০, স্ট্রাইক রেট ৯৫.৭০।
পাকিস্তানের হয়ে ওয়ানডে ক্রিকেটে এমনিতে পরিসংখ্যান খারাপ নয় ইমামের। ৭৫ ম্যাচ খেলে ৯ সেঞ্চুরি ও ২০ ফিফটিতে তার রান ৩ হাজার ১৫২। তবে ক্যারিয়ার স্ট্রাইক রেট ৮১.৯৫, যেটি নিয়ে প্রশ্ন সবসময়ই ছিল।
গত কিছুদিনে তার পারফরম্যান্সেও ভাটার টান পড়েছে। সবশেষ সেঞ্চুরিটি করেছেন ২৬ ইনিংস আগে। গত ১০ ইনিংসে ফিফটি একটি। এই সময়ে ব্যাটিং গড় ২০.৫৫, স্ট্রাইক রেট ৭৬.১৩।
দফায় দফায় বাদও পড়েছেন। সবশেষ খেলেছেন গত এপ্রিলে নিউ জিল্যান্ড সফরে। কদিন আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে জায়গা পাননি দলে। তবে ইয়র্কশায়ারের হয়ে এমন পারফরম্যান্সে ধারা চলতে থাকলে, পাকিস্তান দলে ফিরতেও সময় বেশি লাগবে না বলেই মনে হয়।
