দেশের ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়ে বাইরের লিগে খেলার আশায় ভারতীয় পেসার
ভারতের হয়ে তিন ওয়ানডে ও তিন টোয়েন্টি খেলা পেসার খেলতে চান দেশের বাইরের বিভিন্ন লিগে।
জাতীয় দলের অধ্যায় শেষ বলেই ধরে নেওয়া যায়, আইপিএলেও এখন আর সুযোগ হয় না। ঘরোয়া ক্রিকেটে সীমিত ওভারে এখনও খেলে যেতে পারেন, তবে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলতে এই অধ্যায় বন্ধই করে দিলেন সিদ্ধার্থ কাউল। ভারতীয় ক্রিকেটকে বিদায় বলে দিলেন ৩৪ বছর বয়সী পেসার। তার লক্ষ্য এখন দেশের বাইরের বিভিন্ন লিগে খেলা।
ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটে সক্রিয় ক্রিকেটারদের দেশের বাইরের কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলার অনুমতি দেয় না ভারতীয় বোর্ড।
ভারতের হয়ে তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেলেছেন সিদ্ধার্থ। সবশেষটি ছিল ২০১৯ সালে। ঘরোয়া ক্রিকেটে তিনি দারুণ সফল।
১৭ বছর বয়সে সেই ২০০৭ সালে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক তার। পরের বছর ভিরাট কোহলির নেতৃত্বে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী ভারতীয় দলেও ছিলেন তিনি।
তবে এরপরই পিঠের চোট তাকে কাবু করে ফেলে। ২০০৭ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ে সব মিলিয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে স্রেফ ছয়টি ম্যাচ খেলতে পারেন। তবে পরে ঘুরে দাঁড়িয়ে নতুন করে সাজান নিজের ক্যারিয়ার।
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১৭ বছরের ক্যারিয়ারে ৮৮ ম্যাচে ২৯৭ উইকেট তার। গত মে মাসে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে নর্থ্যাম্পটনশায়ারের হয়ে তিনটি ম্যাচ খেলে ১৩ উইকেট শিকার করেন তিনি। তবে রাঞ্জি ট্রফির নতুন মৌসুমে পাঞ্জাবের হয়ে দুই ম্যাচ খেলে উইকেট পাননি। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে ১১১ ম্যাচে উইকেট ১৯৯টি।
ভারতের সীমিত ওভারের ঘরোয়া ক্রিকেটে তিনি কিংবদন্তি। একদিনের ম্যাচের টুর্নামেন্ট বিজায় হাজারে ট্রফিতে তার উইকেট ৭৫ ম্যাচে ১৫৫টি, টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট সৈয়দ মুশতাক আলি ট্রফিতে ৮৭ ম্যাচে ১২০টি। দুই টুর্নামেন্টের ইতিহাসেই তিনি সফলতম বোলার।
গত মৌসুমে সৈয়দ মুশতাক আলি ট্রফি জিতে প্রথম টি-টোয়েন্টি শিরোপার স্বাদ পায় পাঞ্জাব। সেখানে ১৬ উইকেট নিয়ে সিদ্ধার্থই ছিলেন সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি। গত বিজায় হাজারে ট্রফিতেও ছয় ম্যাচ ১৯ উইকেট নিয়ে তিনি ছিলেন তালিকার শীর্ষে।
একসময় আইপিএলেও তিনি ছিলেন নিয়মিত মুখ। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে ২০১৭ আইপিএলে ১৬ উইকেট ও ২০১৮ আইপিএলে ২১ উইকেট নেওয়ার পর জাতীয় দলে সুযোগ পান তিনি। তবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে একটি ওয়ানডে খেলে কোনো উইকেট পাননি। আয়ারল্যান্ড, ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একটি করে টি-টোয়েন্টি খেলে মোট চারটি উইকেট নেন। পরে আর সুযোগ পাননি।
আইপিএলে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ছাড়াও দিল্লি ডেয়ারডেভিলস, কলকাতা নাইট রাইডার্স ও রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুতে খেলেছেন তিনি। সবশেষ এই টুর্নামেন্টে খেলেছেন ২০২১ সালে।
ভারতীয় ক্রিকেট থেকে অবসরের পর সামনে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপ, লেজেন্ডস লিগসহ বিভিন্ন টি-টোয়েন্টি লিগে খেলার ইচ্ছা তার।
