কোচ-নির্বাচক-বোর্ড কর্তাদের সামনে অনূর্ধ্ব-২৩ দলকে হারিয়ে দিল অনূর্ধ্ব-১৯ দল
বয়সভিত্তিক ও জাতীয় নির্বাচকরা, জাতীয় দলের কোচিং স্টাফের সদস্যসহ বিসিবির কোচরা, এমনকি বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল ও বেশ কজন বোর্ড পরিচালক মাঠে ছিলেন ম্যাচটি দেখতে।
বয়সভিত্তিক দলের নির্বাচকরা তো বটেই, জাতীয় নির্বাচকরাও মাঠে হাজির। জাতীয় দলের কোচিং স্টাফের সদস্যসহ বিসিবির কোচদের কয়েকজনকে দেখা গেল মাঠে। স্বয়ং বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালও মাঠে উপস্থিত। সীমানার পাশে বসে কাছ থেকেই তিনি খেলা উপভোগ করলেন আরও কজন বোর্ড পরিচালকের সঙ্গে। বেশ এলাহী কারবারই বলতে হবে!
এসব দেখে মনে হতে পারে বড় কোনো ম্যাচ বা বিশাল কোনো আয়োজন বুঝি। আদতে ম্যাচটি জিডি (গেম ডেভেলপমেন্ট) ট্রফিতে অনূর্ধ্ব-২৩ দল ও অনূর্ধ্ব-১৯ দলের লড়াই। তবে এই ম্যাচ ও টুর্নামেন্টকে বিসিবি কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে, তা পরিষ্কার এ দিনের চিত্র থেকেই। ভবিষ্যতের তারকাদের প্রতি গভীর মনোযোগ রাখতেই নির্বাচক কমিটি ও কোচিং স্টাফদের ওপর বিশেষ নির্দেশনা ছিল এই ম্যাচ ঘিরে। মাঠে থেকে নতুন প্রজন্মকে উৎসাহ দিয়েছেন বোর্ড কর্তারাও।
ম্যাচটিও হলো উপলক্ষ্যকে রাঙানোর মতোই জমজমাট। রোমাঞ্চ ছড়ানো ম্যাচে জয়ের জন্য শেষ ওভারে বাংলাদেশ অনুর্ধ্ব-২৩ দলের দরকার ছিল ৬ রান, হাতে ছিল এক উইকেট। সেই সমীকরণ মেলাতে পারেননি ১০ ও ১১ নম্বর ব্যাটসম্যান মারুফ মৃধা ও রাহিন আহমেদ। আব্দুর রহিমের ওভারের তৃতীয় বলে রাহিন এলবিডব্লিউ হলে বড়দের হারানোর আনন্দে উল্লাসে ফেটে পড়ে অনুর্ধ্ব-১৯ দল।
রহিম শুধু শেষের নায়কই নয়, ম্যাচেরও নায়ক। পুরো ম্যাচে করেছেন দারুণ বোলিং। এর আগে ব্যাটিংয়ে ফিফটি করে দলের মাঝারি সংগ্রহ নিশ্চিত করেন রবিউল হাসান অনিক, বোলিংয়ে এক উইকেটও নিয়েছেন তিনি। তাদের দুজনের পারফরম্যান্সে অনুর্ধ্ব-২৩ দলকে ৪ রানে হারায় অনুর্ধ্ব-১৯ দল।
মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে রোববার জিডি ট্রফির দ্বিতীয় ম্যাচে ২২৬ রানে অলআউট হয় অনুর্ধ্ব ১৯ দল। জবাবে ২২২ রানে থামে অনুর্ধ্ব ২৩ দলের ইনিংস।
৫২ রানে চার উইকেট নিয়ে ম্যান অব দা ম্যাচ রহিম।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে আগের দ্রুত রান তোলায় চেষ্টায় ছিলেন অনুর্ধ্ব-১৯ দলের দুই ওপেনার আব্দুল্লাহ আল মুহি ও জারিফ সিয়াম। তাতে দ্রুত উইকেটও হারায় দলটি। পঞ্চম ওভারেই হারায় জারিফ ও অদ্রিত ঘোষের উইকেট। তখন দলের রান ৪০।
তৃতীয় উইকেটে আহসান আল মুমিনকে সঙ্গে নিয়ে ৪৪ রান যোগ করে সেই ধাক্কা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন মুহি। সপ্তদশ ওভারে মাহফুজুর রহমানের বলে ৪০ রান করা মুহি বোল্ড হলে ভাঙে এই জুটি। এরপর দ্রুত ফিরে যান মুমিন ও অধিনায়ক ফরিদ হাসান ফয়সাল।
১১২ রানে চার উইকেট হারানো দলকে টেনে নেন ছয়ে নামা অনিক। একপ্রান্ত আগলে রেখে ৮২ বলে ৬৫ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। তার ইনিংসে ছিল পাঁচ চার ও এক ছয়। এতে দুইশ পার হয় দলটির সংগ্রহ।
অনুর্ধ্ব-২৩ দলের হয়ে ৩৮ রানে তিন উইকেট নেন শেখ পারভেজ জীবন। দুইটি করে উইকেট শিকার করেন আজিজুল হাকিম ও আহরার আমিন।
লক্ষ্য তাড়ায় খালিদ হাসান ও জাওয়াদ আবরারের ব্যাটে ভালো শুরু পায় অনুর্ধ্ব-২৩ দল। দুজনে মিলে যোগ করেন ৫২ রান। দারুণ খেলতে থাকা খালিদ হাসান অষ্টম ওভারে ফেরেন আল রাফির অসাধারণ ক্যাচে। মিড উইকেট থেকে অনেকটা দৌড়ে সীমানার কাছাকাছি গিয়ে ক্যাচ নেন তিনি। ছয় চার ও এক ছয়ে ২৬ বলে ৩৪ রান করেন খালিদ।
তার সঙ্গী জাওয়াদও (২৬) পারেননি ইনিংস বড় করতে। থিতু হয়ে আউট হন পরের দুই ব্যাটসম্যান আজিজুল হাকিম (২৮) ও কালাম সিদ্দিকিও (৩২)।
১২৬ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়া দলকে উদ্ধার করেন আহরার আমিন ও রিজান হোসেন। তবে খুব লম্বা হয়নি জুটি। ২৪ বলে ২৫ রান করে আউট হন আহরার।
এরপর রিজান ও মাহফুজুর রহমান রাব্বি দলকে এগিয়ে নেন জয়ের কাছে। এক পর্যায়ে ২১ বলে প্রয়োজন ছিল ১৪ রান, উইকেট বাকি তখনও চারটিই। কিন্তু ৪৪ রান করে রিজান আউট হওয়ার পর বদলে যায় দৃশ্যপট।
পরের ওভারেই রহিম ফেরান ১৬ রান করা রাব্বিকে। শেষের দাবি মেটাতে পারেনি লেজের ব্যাটসম্যানরাও। ৯ রানের মধ্যে ৪ উইকেট নিয়ে নাটকীয় জয় পায় অনূর্ধ্ব-১৯ দল।
টুর্নামেন্টের পরের ম্যাচে মঙ্গলবার মুখোমুখি হবে অনুর্ধ্ব- ১৭ দল ও অনুর্ধ্ব-২৩ দল।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ অনুর্ধ্ব-১৯ দল: ৪৮.৪ ওভারে ২২৬/১০ (মুহি ৪০, জারিফ ১৯, অদ্রিত ০, মুমিন ৩৭, ফরিদ ১৩, রবিউল ৬৫*, ফারহান ২৯, রহিম ১, আল রাফি ১২, আকাশ ১, তাফিউল ১; মারুফ ৬-০-৪৫-০, রাহিন ৬-০-৩৪-০, পারভেজ ৯-০-৩৮-০, মাহফুজুর ১০-২-৩০-১, আজিজুল ৭-০-৩২-২, আহরার ৮.৪-০-৩০-২, রিজান ২-০-১৫-০)
বাংলাদেশ অনুর্ধ্ব-২৩ দল: ৪৯.৩ ওভারে ২২২/১০ (জাওয়াদ ২৬, খালিদ ৩৪, আজিজুল ২৮, কালাম ৩২, আব্দুল্লাহ ৪, আহরার ২৫, রিজান ৪৪, মাহফুজুর ১৬, পারভেজ ৪, মারুফ ৪*, রাহিন ০; আকাশ ৫-০-৩১-০, রহিম ৯.৩-১-৫২-৪, রবিউল ১০-০-৫৩-১, আল রাফি ১০-০-৩০-২, জারিফ ১০-০-২৭-১, তাফিউল ৫-০-২৭-২)
ফল: বাংলাদেশ অনুর্ধ্ব-১৯ দল ৪ রানে জয়ী।
ম্যান অব দা ম্যাচ: আব্দুর রহিম।
