‘বিশ্বসেরা বোলারকে’ ছাড়াই জেতায় ভারতকে বেশি কৃতিত্ব দিচ্ছেন ক্লার্ক
জাসপ্রিত বুমরাহকে ছাড়া ইংল্যান্ডে দুটি টেস্ট জিতে ভারত সিরিজ ড্র করায় অভিভূত মাইকেল ক্লার্ক, স্তুতিতে ভাসালেন তিনি ভারতের অন্য বোলারদের।
ইংল্যান্ড সফরে পেছন থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে যেভাবে সিরিজ ড্র করেছে ভারত, তাতে অভিভূত মাইকেল ক্লার্ক। সাবেক অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক বেশি মুগ্ধ ভারতের বোলিং আক্রমণের পারফরম্যান্সে। তার চোখে যিনি বিশ্বের সেরা বোলার, সেই জাসপ্রিত বুমরাহকে ছাড়াই দুটি টেস্ট জেতায় স্তুতিতে ভাসালেন তিনি ভারতের অন্য বোলারদের।
সদ্য সমাপ্ত অ্যান্ডারসন-টেন্ডুলকার ট্রফিতে বুমরাহ খেলেছেন তিনটি টেস্ট। হেডিংলিতে প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে পাঁচ উইকেট শিকার করেন তিনি। এক ম্যাচ বিশ্রাম নিয়ে পরের ম্যাচটি খেলেন তিনি লর্ডসে। সেখানে প্রথম ইনিংসে তার শিকার আবার পাঁচ উইকেট, পরের ইনিংসে দুটি।
ওল্ড ট্র্যাফোর্ড টেস্টে তিনি ছিলেন একদমই বিবর্ণ। ক্যারিয়ারের প্রথমবার একশর বেশি রান দিয়ে উইকেট পান কেবল দুটি।
বুমরাহর ভালো বোলিং করা দুটি ম্যাচেই হেরে যায় ভারত। তার খেলা আরেকটি টেস্টে ব্যাটসম্যানদের চোয়ালবদ্ধ লড়াইয়ে ম্যাচ ড্র করে সিরিজের উত্তেজনা জিইয়ে রাখে দল।
সিরিজে ভারতের জয়ী হওয়া দুই ম্যাচের কোনোটিতেই ছিলেন বুমরাহ। যদিও তিনি চোটপ্রবণ পেসার এবং সিরিজের আগেই ঠিক হয়েছিল, তিনি কেবল তিনটি টেস্টেই খেলবেন, তার পরও তার বেছে বেছে ম্যাচ খেলা নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে অনেক। বুমরাহকে ছাড়াই ভারতের বোলিং আক্রমণ আরও ভালো কি না, এমন বিস্ময়কর প্রশ্নও তুলছেন কেউ কেউ।
ক্লার্ক অবশ্য এই প্রশ্নটি উড়িয়ে দিলেন। তার মতে, বিশ্বের সেরা বোলার বুমরাহকে সব দলই চাইবে সবসময়। তবে বিয়ন্ড২৩ ক্রিকেট পডকাস্টে তিনি তুমুল প্রশংসা করলেন ভারতের অন্য বোলারদের।
“শেষ ম্যাচটি নাটকীয়ভাবে জেতা ও পেছন থেকে ফিরে সিরিজে সমতা ফেরানো… ওয়াও, অসাধারণ। খুবই দুর্দান্ত। পাশাপাশি আরেকটি ব্যাপারও বলতে হবে, যে দুটি টেস্ট ম্যাচ ভারত জিতেছে, বিশ্বের সেরা বোলার বুমরাহ খেলেনি। বুমরাহকে ছাড়াই দুটি ম্যাচ জিতেছে তারা। ভারতের অন্য বোলারদের বড় কৃতিত্ব প্রাপ্য নিজেদের মেলে ধরায়।”
“অবশ্যই আমি বিশ্বাস করি এবং আমার মনে হয়, অন্য কেউ ভিন্ন কিছু বলবে না, যে কোনো দলই বুমরাহকে পেলে আরও বেশি সমৃদ্ধ হবে। কিন্তু তাকে ছাড়াই দুটি টেস্ট জিততে পারায় ওই বোলিং আক্রমণের অনেক কৃতিত্ব প্রাপ্য।”
প্রথম টেস্ট হেরে পিছিয়ে পড়ার পর এজবাস্টনে জিতে ভারতের সমতা ফেরানোর পেছনে বড় অবদান ছিল আকাশ দিপের। ইংল্যান্ডে প্রথম খেলতে নেমেই ম্যাচে ১০ উইকেট শিকার করেন এই পেসার। শেষ টেস্টের রোমাঞ্চকর জয়ে দুই ইনিংসেই চারটি করে উইকেট শিকার করেন প্রাসিধ কৃষ্ণা।
সিরিজের নায়ক মোহাম্মেদ সিরাজ তো প্রশংসার জোয়ারেই ভাসছেন কেবল। দলের একমাত্র বোলার হিসেবে পাঁচ টেস্টেই খেলেছেন, বোলিং করেছেন দুই দল মিলিয়ে সবচেয়ে বেশি। স্কিল ও মানসিকতার মেলবন্ধনে হৃদয় উজাড় করা বোলিংয়ে শিকার করেছেন সিরাজের সর্বোচ্চ ২৩ উইকেট।
বুমরাহ না থাকলেও অভাব যেন বুঝতেই দেননি সিরাজ। তিনিই হয়ে উঠেছিলেন বোলিং আক্রমণের নেতা। ক্লার্কের মতে, দায়িত্বের ভার আরও বেশি তাতিয়ে দেয় এই পেসারকে।
“কৃষ্ণা, সিরাজ…দারুণ। আমার মনে হয়, যতবার বুমরাহ খেলে না, ততবারই সিরাজের মানসিকতা থাকে যে , ‘আমাকে কিছু করতেই হবে।’ দল চাপের মধ্যে থাকলে সে বোলিং করতে চায়। প্রত্যাশা ও চাপ বেশি থাকলে সে আরও বেশি ভালো বোলার হয়ে ওঠে। দলে এই ভূমিকা সে বেশি উপভোগ করে।”
