২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

১ রানের অপেক্ষা, মুশফিক বলেই 'প্যানিকড' নন মুমিনুল

শততম টেস্টে তিন অঙ্কের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়েও মুশফিকের স্থিরতা দেখে মমিনুল বুঝে গিয়েছিলেন, নার্ভাস নন তিনি।

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 19 Nov 2025, 07:09 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:09 PM

বাংলাদেশের ইনিংসের তখন ৮৯তম ওভার শুরুর অপেক্ষা। শততম টেস্ট ম্যাচ খেলতে নামা মুশফিকুর রহিম দাঁড়িয়ে ৯৩ রানে। মাত্র সাত রানের দূরত্বে আরেকটি বিরল মাইলফলকের। লিটন কুমার দাস রান নিয়ে প্রান্ত বদল করতেই স্টেডিয়ামজুড়ে সব চোখ যেন একটি বিন্দুতে আটকে গেল। 

প্রেসিডেন্ট বক্সে বোর্ড কর্তাদের কৌতহূলী দৃষ্টি, গ্যালারিতে হাজার খানেক দর্শকের মনে অস্থিরতা, ড্রেসিংরুমে নাজমুল হোসেন শান্ত, মেহেদী হাসান মিরাজদের চাহনির ভাষাও স্পষ্ট। আজই কি মুশফিক ছুঁয়ে ফেলবেন তিন অঙ্ক! 

শেষ বিকেলের মরে আসা আলোয় শেষ পর্যন্ত রচিত হলো অপেক্ষার গল্প। উত্তেজনাময় কয়েকটি ওভার পেরিয়ে ৯৯ রানে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করলেন মুশফিক। তিনি খুব একটা তাড়াহুড়ো করেননি। শেষ দিকে আইরিশরা অনেকটা সময় নিয়ে বোলিং করায় বাড়তি কোনো ওভার মেলেনি এ দিন। 

শততম টেস্টে শতরানের কীর্তি গড়তে মুশফিকের প্রয়োজন স্রেফ একটি রানের। কিন্তু এক রানের জন্যই তো উৎকণ্ঠার প্রহর রাত পেরিয়ে স্পর্শ করবে সকাল!

মুমিনুল হক অবশ্য দুর্ভাবনার কিছু দেখেন না। দিনের খেলা শেষে বাংলাদেশ দলের প্রতিনিধি হয়ে যখন সংবাদ সম্মেলনে এলেন মুশফিকের সঙ্গে শতরানের জুটি গড়া এই ব্যাটসম্যান। ৬৩ রানে আউট হওয়া ব্যাটসম্যান বললেন, মুশফিক বলেই উদ্বেগের কিছু নেই। 

‘‘শেষের দিকে মনে হচ্ছিল আজকে হয়ে যাবে। যদিও ওরা দেরি করেছে, এই কারণে হয়নি। তবে তা নিয়ে আমি খুব বেশি আতঙ্কিত নই। কারণ উনার তো একশ করার, দুইশ রান করার অভ্যাস আছে। আমি জানি যে, ওই জায়গায় গেলে উনি অস্থির হন না। নব্বইয়ে গেলে তিনি প্যানিকড হন না।”

‘‘এই কারণেই আত্মবিশ্বাসটা আছে। অন্য কেউ থাকলে হয়তো একটু ‘প্যানিকড’ থাকতাম। যেহেতু উনি আছেন, আমার মনে হয় উনিও প্যানিকড না, আমরাও কেউ উদ্বিগ্ন নই। কালকে (বৃহস্পতিবার) ইনশাআল্লাহ হয়ে যাবে।’’

৯০ ওভার শেষেও আর একটি ওভার হওয়ার সময় আছে কি না, এটি নিয়ে কৌতূহল দেখা দেয় দিনের শেষে। শেষ পর্যন্ত আম্পায়াররা বেলস তুলে নেন তখনই। দিনের খেলা শেষে ড্রেসিংরুমের পথে হাঁটতে হাঁটতে মুশফিকের মুখে ছিল হালকা হাসি। শততম টেস্টে রান পেয়েছেন, দারুণ এক মাইলফলকও সামনে। তাই তৃপ্তি যেমন ছিল, তেমনি একটু অপূর্ণতার আলোছায়াও।

নতুন দিনে মাইলফলক ছোঁয়ার চ্যালেঞ্জ নিয়ে তার মনোভাব কেমন হবে—সংবাদ সম্মেলনে সেই প্রশ্নে বেশ হাস্যরস চলল। মমিনুল বললেন, উনি তো একেবারেই স্বাভাবিক।

‘‘মুখের ভাষা দেখে আমার কাছে মনে হয় না যে কোনোভাবে তিনি নার্ভাস ছিলেন, অথবা ছবি-টবি তুললে হয়তো বুঝতে পারতাম। স্বাভাবিকই ছিলেন। উনি আগে যেরকম ছিলেন, একশ ম্যাচ খেলার আগে যেরকম ছিলেন, এখনও সেরকমই আছেন। বাড়তি কিছু উনার মধ্যে দেখিনি, উনার ১০০ ম্যাচ খেলছে, ১০০ রান করতে হবে ওইরকম কোনো কিছু দেখি নাই আমি।”

“উনি যখন ক্রিজে আসছিলেন, তখন তো শূন্য রানে ছিলেন, তখন থেকে দেখছিলাম যে খুব শান্ত। স্বাভাবিক ক্রিকেট খেলার চেষ্টা করেছেন, পরিস্থিতি বুঝে ব্যাটিং করছিলেন। পুরোটা ইনিংস তার নিয়ন্ত্রণে ছিল।’’

মুমিনুল জানালেন, আরেকটি ওভার তারা খুব করে চাইছিলেন। আইরিশরা যে ইচ্ছে করেই সময় নষ্ট করছেন, সেটিও অনুভব করেছে বাংলাদেশ। 

‘‘হ্যাঁ, কে চাইবে না (আরেকটি ওভার খেলতে)!  এই সময় তো সবাই চাইবে। কারণ দুইজনেরই মাইলফলক ছিল। অবশ্যই যে কেউ চাইবে এই সময় করার জন্য। ওরা অবশ্যই ধীরগতিতে করছে। অনেক মন্থর ছিল।’’