টেন্ডুলকারকে ছাড়িয়ে কোহলির পাশে গিল
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অপরাজিত সেঞ্চুরিতে কীর্তির একাধিক পাতায় নাম উঠে গেছে ভারতীয় অধিনায়কের।
টেস্ট ক্রিকেটে শুবমান গিলের ব্যাটে বইছে রানের জোয়ার। একের পর এক দুর্দান্ত সব ইনিংস উপহার দিয়ে যাচ্ছেন তিনি। ইংল্যান্ড সফরে চার সেঞ্চুরি করা ভারতীয় অধিনায়ক এবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেও পেয়েছেন তিন অঙ্কের উষ্ণ ছোঁয়া। তাতে রেকর্ডের একটি পাতায় কিংবদন্তি সাচিন টেন্ডুলকারকে ছাড়িয়ে আরেক ব্যাটিং গ্রেট ভিরাট কোহলির পাশে বসেছেন তিনি।
চলমান দিল্লি টেস্টের প্রথম ইনিংসে অপরাজিত ১২৯ রান করেন গিল। তার ১৯৬ বলের ইনিংসটি গড়া ২ ছক্কা ও ১৬ চারে। ম্যাচের দ্বিতীয় দিন ৫ উইকেটে ৫১৮ রান করে ইনিংস ঘোষণা করে দেয় ভারত।
গত জুনে ইংল্যান্ড সফর দিয়ে টেস্টে ভারতের নেতৃত্বে অভিষেক হওয়ার পর থেকে হেসেই চলছে গিলের ব্যাট। দুই সিরিজেই করে ফেললেন তিনি পাঁচটি সেঞ্চুরি। ভারতীয় অধিনায়কদের মধ্যে এক পঞ্জিকাবর্ষে যা যৌথভাবে সর্বোচ্চ।
২০১৭ ও ২০১৮ সালে পাঁচটি করে সেঞ্চুরি করেছিলেন তখনকার ভারত অধিনায়ক কোহলি। ১৯৯৭ সালে অধিনায়ক হিসেবে টেন্ডুলকার টেস্টে চারবার শতকের স্বাদ পেয়েছিলেন। ইংল্যান্ডে তাকে ছুঁয়ে ফেলা গিল এবার টপকেই গেলেন।
গিলের এই পাঁচ সেঞ্চুরি এসেছে ১২ ইনিংসে। ভারতীয় অধিনায়কদের মধ্যে যা দ্বিতীয় দ্রুততম। নেতৃত্বের প্রথম ১০ ইনিংসেই পাঁচবার তিন অঙ্কে পা রেখে রেকর্ডটি দেশটির আরেক ব্যাটিং গ্রেট সুনিল গাভাস্কারের। সব দেশ মিলিয়ে, এই তালিকায় সবার ওপরে ইংলিশ গ্রেট অ্যালিস্টার কুক। জাতীয় দলের নেতৃত্ব নেওয়ার পর প্রথম ৯ ইনিংসেই পাঁচ সেঞ্চুরি করে ফেলেন তিনি।
সব মিলিয়ে, টেস্টে ৭১ ইনিংসে দশমবার সেঞ্চুরি করলেন গিল।
অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে শনিবার ২০ রান নিয়ে নতুন দিন শুরু করেন গিল। দিনের দ্বিতীয় ওভারেই সেঞ্চুরিয়ান ইয়াশাসভি জয়সওয়ালকে হারায় ভারত। আগের দিনের ১৭৩ রানের সঙ্গে আর দুই রান যোগ করতেই রান আউটে কাটা পড়েন বাঁহাতি ওপেনার।
আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিংয়ে রান বাড়াতে থাকেন আগের ম্যাচে ফিফটি করা গিল। জেডেন সিলসকে চার মেরে ৯৬ বলে পঞ্চাশ স্পর্শ করেন তিনি। পরে রানের গতিতে আরেকটু দম দেন ডানহাতি ব্যাটসম্যান।
ফিফটি থেকে সেঞ্চুরিতে পৌঁছাতে গিলের লাগে ৮১ বল। ক্যারি পিয়েরের বলে দৌড়ে তিন রান নিয়ে কাঙ্ক্ষিত শতকে পা রাখেন তিনি, ১৭৭ বলে। মারেন ১৩টি চার ও একটি ছক্কা।
সেঞ্চুরি ছুঁয়ে থামেননি গিল। এক প্রান্ত ধরে রেখে শেষ পর্যন্ত খেলে যান। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এটি গিলের ১৯তম শতক। এই সংস্করণে তার রান হয়ে গেল সাড়ে পাঁচ হাজার। যেখানে টেস্টেই করেছেন প্রায় তিন হাজার।
