ব্রুকের ফিফটি ও জ্যাকসের অলরাউন্ড নৈপুণ্যে ইংল্যান্ডের বড় জয়
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ ৩-০ ব্যবধানে জয়ের পর, ওয়ানডে সিরিজেও এগিয়ে গেল ইংল্যান্ড।
দুশমান্থা চামিরার অফ স্টাম্পের বাইরের বল বেরিয়ে এসে খেলে ডিপ ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে ধরা পড়লেন হ্যারি ব্রুক। চরম হতাশায় ওপরে তাকিয়ে মাথা পেছনের দিকে হেলিয়ে দিলেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক। প্রতিক্রিয়াতেই স্পট বোঝা যাচ্ছিল, ওই শট খেলে নিজের প্রতি কতটা বিরক্ত তিনি। তার আউটেই ছোট্ট ধস নামল ইংল্যান্ডের ইনিংসে। সংগ্রহটা হলো না বড়। তবে সেটিই শ্রীলঙ্কার জন্য হয়ে উঠল যেন পাহাড়সম!
প্রথম ওয়ানডেতে ৮৯ রানের জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে এগিয়ে গেল ইংল্যান্ড।
চেস্টার-লি-স্ট্রিটে মঙ্গলবার ৩১ ওভারে ৩ উইকেটে ১৮২ রানের শক্ত অবস্থানে থেকে ইংল্যান্ড ২৬৫ রানে অলআউট হয় ১১ বল বাকি থাকতেই।
উইকেট মন্থর হলেও লক্ষ্যটা শ্রীলঙ্কার জন্য নাগালেই মনে হচ্ছিল। কিন্তু ৩-০ ব্যবধানে হারা টি-টোয়েন্টি সিরিজের ব্যাটিং ব্যর্থতা থেকে এখানেও বের হতে পারেনি তারা। ৩৭ ওভারে ১৭৬ রানে গুটিয়ে যায় সফরকারীরা।
২০২২ সালের জুলাইয়ের পর এই প্রথম পূর্ণাঙ্গ ৫০ ওভারের কোনো ম্যাচে ৩০০ এর কম রানের পুঁজি নিয়ে জিতল ইংল্যান্ড।
দারুণ অলরাউন্ড নৈপুণ্যে ইংল্যান্ডের জয়ের নায়ক উইল জ্যাকস। ছয় নম্বরে নেমে পাঁচ চারে ৪৭ বলে ৪৬ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন তিনি। পরে অফ স্পিনে সাত ওভারে স্রেফ ২২ রান দিয়ে শিকার করেন ৫ উইকেট।
এই সংস্করণে ইংল্যান্ডের কোনো স্পিনারের দ্বিতীয় সেরা বোলিং এটি। ১৯৮৪ সালে ওয়েলিংটনে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে অফ স্পিনেই ২০ রানে ৫ উইকেট নিয়ে চূড়ায় আছেন ভিক মার্কস।
১৯৮৩ সালে মার্কসের পর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৫ উইকেট শিকারি ইংল্যান্ডের প্রথম স্পিনারও জ্যাকস। এছাড়া ২০০৫ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে পল কলিংউডের পর এই প্রথম ইংল্যান্ডের কোনো ক্রিকেটার এক ম্যাচে ব্যাটিংয়ে ৪০ ছোঁয়া ইনিংস ও বোলিংয়ে ৫ উইকেট নিলেন।
ব্যাটিংয়ে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন অধিনায়ক ব্রুকও। সাত চারে ৬৯ বলে ৬৭ রান করেন তিনি। সাবেক অধিনায়ক জো রুট করেন ৫২ বলে ৪৪। ওয়ানডেতে টানা ৪০৪ রান করার পর অবশেষে আউট হলেন তিনি।
টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই উইকেট হারায় ইংল্যান্ড। ওয়ানডেতে প্রথমবার ওপেন করতে নেমে ১০ রান করে ফেরেন টম ব্যান্টন। আসিথা ফার্নান্দোর আউটসুইঙ্গার বোল্ড হন তিনি।
তবে রুট ইতিবাচক শুরু করেন। বেন ডাকেটের সঙ্গে তার জুটিতে প্রথম ১০ ওভারের পাওয়ার প্লেতে ইংল্যান্ড করে ১ উইকেটে ৬৪ রান। বাঁহাতি স্পিনার দুনিথ ওয়েলালাগের বলে সুইপ করতে গিয়ে ডাকেট এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন ৩২ রানে। থামে ৫১ রানের জুটি।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষিক্ত লেগ স্পিনার সাচিন্দু কলম্বাগে বোলিংয়ে আসার পর রুটও একবার বিপদে পড়েন। এলবিডব্লিউয়ের আবেদনে সাড়া দেন আম্পায়ার। তবে রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান।
শেষ পর্যন্ত কলম্বাগের বলেই বোল্ড হয়ে ফেরেন রুট। থামে ৬৮ রানের জুটি।
৪৯ বলে ফিফটি করে এগিয়ে যান ব্রুক। এরপরই ওই ভুল শটে তার আউটে ইংল্যান্ডের পতনের যে ধারা শুরু হয়, তা আর থামেনি।
৩১ ওভারে ৩ উইকেটে ১৮২ রান থেকে ৩৯তম ওভারে তাদের স্কোর দাঁড়ায় ৭ উইকেটে ২১১।
জস বাটলার ফেরেন ৩৩ বলে ৩১ রান করে। রেহানা আহমেদ ও জেমি ওভারটন দুই অঙ্কে যেতে পারেননি। এই সিরিজে ব্রুকের ডেপুটি জ্যাকস কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তার নৈপুণ্যেই দলের স্কোর আড়াইশ ছাড়াতে পারে।
অভিষেকে দারুণ বোলিংয়ে ৪৪ রানে ৩ উইকেট নেন কলম্বাগে।
রান তাড়ায় ইতিবাচক শুরু করে শ্রীলঙ্কা। যদিও ইনিংস টেনে নিতে পারেননি দুই ওপেনার পাথুম নিসাঙ্কা ও কামিন্দু মেন্ডিস। তারপরও একপর্যায়ে তাদের স্কোর ছিল ৩ উইকেটে ৮৪। এরপরই পাভান রাত্নায়েকের বিদায়ে পথ হারিয়ে ফেলে তারা।
বাজে শট খেলে আউট হন চারিথ আসালাঙ্কা ও কুসাল মেন্ডিস (৬০ বলে ৪২)। দুজনেই জ্যাকসের বলে সুইপ শট খেলতে গিয়ে আউট হন।
ম্যাচের ফল যখন প্রায় নিশ্চিত, তখন ওয়েলালাগের চমৎকার কিছু শটে ৩৬ বলে ৪৫ রানের ইনিংসে পরাজয়ের ব্যবধানই শুধু কমাতে পারে শ্রীলঙ্কা।
একই ওভারে চার বলের মধ্যে তিন ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়ে শ্রীলঙ্কার ইনিংস গুটিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি ৫ উইকেট পূর্ণ করেন জ্যাকস। ওয়ানডেতে তো বটেই, লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটেই প্রথমবার এই স্বাদ পেলেন ২৭ বছর বয়সি অলরাউন্ডার।
হেডিংলিতে দ্বিতীয় ওয়ানডে হবে আগামী বৃহস্পতিবার।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ইংল্যান্ড: ৪৮.১ ওভারে ২৬৫ (ব্যান্টন ১০, ডাকেট ৩২, রুট ৪৪, ব্রুক ৬৭, বাটলার ৩১, জ্যাকস ৪৬*, রেহান ২, ওভারটন ৮, অ্যাটকিনসন ১৪, আর্চার ২, টাং ০; আসিথা ৯.১-০-৫৩-৩, মাদুশাঙ্কা ১০-০-৪৫-১, চামিরা ৯-০-৬১-১, ওয়েলালাগে ১০-০-৬০-১, কলম্বাগে ১০-০-৪৪-৩)
শ্রীলঙ্কা: ৩৭ ওভারে ১৭৬ (নিসাঙ্কা ২৭, কামিন্দু মেন্ডিস ১৪, কুসাল মেন্ডিস ৪২, রাত্নায়েকে ১৩, আসালাঙ্কা ১, লিয়ানাগে ৪, ওয়েলালাগে ৪৫, কলম্বাগে ১৪, চামিরা ৭*, আসিথা ০, মাদুশাঙ্কা ০; আর্চার ৬-১-৩৮-০, অ্যাটকিনসন ৭-০-২৫-১, টাং ৫-০-২৩-১, রেহান ৭-১-৪৬-১, ওভারটন ৫-০-২১-২, জ্যাকস ৭-০-২২-৫)
ফল: ইংল্যান্ড ৮৯ রানে জয়ী
সিরিজ: ৩ ম্যাচের সিরিজে ইংল্যান্ড ১-০তে এগিয়ে
ম্যান অব দা ম্যাচে: উইল জ্যাকস
