বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার একাদশ ঘোষণা
দুই পেস বোলিং অলরাউন্ডার ক্যামেরন গ্রিন ও বাউ ওয়েবস্টারকে নিয়ে একাদশ সাজিয়েছে অস্ট্রেলিয়া।
বরাবরের রীতি অনুসরণ করে টেস্টের আগের দিনই একাদশ ঘোষণা করে দিল অস্ট্রেলিয়া। অনুমিতভাবেই দুই পেস বোলিং অলরাউন্ডার ক্যামেরন গ্রিন ও বাউ ওয়েবস্টারকে রেখে একাদশ সাজিয়েছে তারা।
ডারউইনে বাংলাদেশের বিপক্ষে বৃহস্পতিবার শুরু এই টেস্ট দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ইতিহাসের ব্যস্ততম মৌসুম শুরু হচ্ছে। সামনের ১১ মাসে ২০টি টেস্ট খেলবে তারা, আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠলে টেস্ট হবে ২১টি।
ওপেনিংয়ে ট্রাভিস হেডের সঙ্গে থাকছেন ডারউইনের ঘরের ছেলে জেইক ওয়েদেরল্ড। ডারউইন তথা নর্দান টেরিটরিতে জন্ম ও এখানেই বেড়ে ওঠা একমাত্র টেস্ট ক্রিকেটার তিনি। এই সিরিজটি তার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গত অ্যাশেজে পাঁচ টেস্ট খেলে স্রেফ একটি ফিফটি করলেও দলে টিকে গেছেন বাঁহাতি ওপেনার। বাংলাদেশের বিপক্ষে ভালো করতে না পারলে নিশ্চিতভাবেই জায়গা হারাবেন।
দলে জায়গা টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ে আছেন মার্নাস লাবুশেনও, যিনি নামবেন তিন নম্বরে। সবশেষ সাত ইনিংসে তার ফিফটি নেই, শতরান নেই ৪০ ইনিংস ধরে। ৩০ টেস্ট শেষের তার গড় ছিল ষাটের বেশি, ৫০ টেস্ট শেষে গড় ছিল পঞ্চাশ ছুঁইছুঁই, এখন তা নেমে হয়েছে ৪৪.৭০। এই সিরিজেও বড় রান না পেলে সামনের দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে তাকে দেখতে পাওয়ার সম্ভাবনা সামান্যই।
চারে স্টিভেন স্মিথ। তাকে নিয়ে বলার আছে সামান্যই। গ্রিন খেলবেন পাঁচে। গত এক বছরে তিন, পাঁচ, ছয়, সাত, আট, সব পজিশনেই খেলেছেন তিনি। অলরাউন্ডার হলেও মূলত বিশেষজ্ঞ ব্যাটসম্যান হিসেবেই তাকে ব্যবহার করছে অস্ট্রেলিয়া। তবে তার ওপর নির্বাচক ও টিম ম্যানেজমেন্টের আস্থা প্রবল থাকলেও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারছেন কমই। সবশেষ ১০ ইনিংসে তার ফিফটি নেই, সবশেষ ১৯ ইনিংসে ফিফটি ১৯টি। তার ওপরও চাপ আছে বড় রান করার।
ছয় নম্বরে অ্যালেক্স কেয়ারির জায়গা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। বাউ ওয়েবস্টার খেলবেন সাতে। এখনও পর্যন্ত আট টেস্ট খেলে পাঁচটি ফিফটি করেছেন এই অলরাউন্ডার। দলের বিপর্যয়ে দারুণ কিছু ইনিংসও উপহার দিয়েছেন। বল হাতেও তিনি বেশ কার্যকর।
এরপর চার বিশেষজ্ঞ বোলার। বিখ্যাত পেস ত্রয়ী প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক ও জশ হেইজেলউড আবার একসঙ্গে নামছেন এক বছরেরও বেশি সময় পর। চোটের কারণে গত অ্যাশেজে একটি টেস্ট মাত্র খেলতে পেরেছিলেন কামিন্স, হেইজেলউড খেলতে পারেননি একটিও। সব ঝামেলা কাটিয়ে তারা ফিরেছে। অ্যাশেজের মাঝপথে ছিটকে পড়া অফ স্পিনার ন্যাথান লায়নও ফিরেছেন ফিট ও চনমনে হয়ে।
মূল পেসারদের অনুপস্থিতিতে বরাবরই ভালো পারফর্ম করা স্কট বোল্যান্ডকে থাকতে হচ্ছে একাদশের বাইরে। তার ও হেইজেলউডের মধ্যে একজনকে বেছে নেওয়া কঠিনই ছিল, বললেন অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক প্যাট কামিন্স।
“ওরা দুজনেই বেশ উঁচু মানের, তাই না? আমরা প্রায় নিশ্চিত ছিলাম যে লায়োনোকে (লায়ন) দলে চাই, তাই (বিষয়টা এসে দাঁড়িয়েছিল) পেস বোলিং আক্রমণের গঠন কেমন হবে, তা ঠিক করার ওপর।
এটা সবসময়ই একটা কঠিন সিদ্ধান্ত। এমন একটা পরিস্থিতি, যেখানে স্কটিকে (বোল্যান্ড) এটা বলা ছাড়া আর বিশেষ কিছু বলার থাকে না যে, সামনে অনেক খেলা আছে। সে তার মূল্য জানে এবং এটাও জানে, সে কতটা ভালো। আমি নিশ্চিত খুব দ্রুতই কোনো এক সময়ে সে মাঠে নামবে।”
অস্ট্রেলিয়া একাদশ: ট্রাভিস হেড, জেইক ওয়েদেরল্ড, মার্নাস লাবুশেন, স্টিভেন স্মিথ, ক্যামেরন গ্রিন, অ্যালেক্স কেয়ারি, বাউ ওয়েবস্টার, প্যাট কামিন্স (অধিনায়ক), মিচেল স্টার্ক, ন্যাথান লায়ন, জশ হেইজেলউড।
