০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩

এলপিএলে সাকিব-হৃদয়দের দলের কর্ণধার জাহির খান

জাফনা কিংস ফ্র্যাঞ্চাইজিটি যৌথভাবে কিনে নিয়েছেন ভারতের সাবেক পেসার জাহির খান ও ব্যবসায়ী নাগেন্দ্রা সিদ্দৌতাম, বদলে যাচ্ছে দলের নামও।

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 05 Aug 2026, 11:04 AM

Updated : 11 Sep 2026, 03:47 PM

এবারের লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগ (এলপিএল) শুরুর আগে তোলপাড় পড়ে গিয়েছিল জাফনা কিংসের কর্ণধারদের একজন গ্রেপ্তার হওয়ায়। টুর্নামেন্টের শেষভাগে এসে দলটি আশ্রয় পেল নতুন মালিকানার ছাতায়। সেখানে আছে বিখ্যাত একটি নামও, জাহির খান! ভারতের পেস বোলিং গ্রেটের সঙ্গে ব্যবসায়ী নাগেন্দ্রা সিদ্দৌতাম মিলে কিনে নিয়েছেন ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।

জাহির ও সিদ্দৌতামের যৌথ মালিকানাধীন স্টকহোম-ভিত্তিক ক্রীড়া মালিকানা গোষ্ঠী অ্যাঙ্কর স্পোর্টস এবি অধিগ্রহণ করেছে জাফনা কিংস ফ্র্যাঞ্চাইজিকে। বদলে গেছে দলের নামও। দলটি এখন নতুন ব্র্যান্ডিং পাবে ‘অ্যাঙ্কর জাফনা কিংস’ নামে।

এলপিএলে এই দলেই খেলেন বাংলাদেশের সাকিব আল হাসান ও তাওহিদ হৃদয়। এখানেই খেলার কথা ছিল তাসকিন আহমেদের। পরে তিনি সরিয়ে নিয়েছেন নিজেকে। 

নতুন মালিকানায় আসার পর দলটিকে ঘিরে অস্থিরতা এখন শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পূর্ববর্তী মালিকানা বাতিল হওয়ার পর গত ২৩শে জুলাই থেকে দলটি ছিল শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট (এসএলসি) এবং এলপিএল-এর স্বত্বাধিকারী ইনোভেশন প্রোডাকশন গ্রুপের (আইপিজি) জরুরি নিয়ন্ত্রক তত্ত্বাবধানে এই অধিগ্রহণের ফলে জাফনা, অ্যাঙ্কর স্পোর্টস এবির মাধ্যমে পরিচালিত একটি ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক মাল্টি-ক্লাব স্পোর্টস নেটওয়ার্কের সঙ্গেও একীভূত হলো।

আইপিজি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, “এই অধিগ্রহণ অ্যাঙ্কর স্পোর্টসের ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক পোর্টফোলিওকে আরও শক্তিশালী করেছে, যার মধ্যে ইতোমধ্যেই ইউরোপীয় টি-টোয়েন্টি প্রিমিয়ার লিগে (বেলজিয়াম) অংশগ্রহণকারী অ্যান্টওয়ার্প অ্যাঙ্করস এবং কানাডার সুপার৬০ লিগে অংশগ্রহণকারী ভ্যাঙ্কুভার অ্যাঙ্করস-এর পুরুষ ও নারী দল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।”

জাফনার পূর্ববর্তী মালিকানা, স্পোর্টস কমিউনের চুক্তি বাতিলের দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে নতুন এই কর্ণধার পাওয়া গেল। এই দলটির সহ-সত্ত্বাধিকারী ছিলেন ভারতের সাবেক অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেটার মনজোৎ কালরা এবং উদ্যোক্তা মায়াঙ্ক গোয়েল। ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অভিযোগে গত ১৬ জুলাই গ্রেপ্তার করা হয় কালরাকে এবং তিনি বর্তমানে রিমান্ডে রয়েছেন। গোয়েলের অবস্থান অজানা। গত মে মাসে স্পোর্টস কমিউন জাফনার মালিকানা গ্রহণ করার আগে ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ফ্র্যাঞ্চাইজিটি ছিল লাইকা গ্রুপের মালিকানাধীন। উদ্বোধনী এলপিএল মৌসুমে জাফনার কর্ণধার ছিল আর্নল্ড আনান্দান এবং রাহুল সুদের নেতৃত্বাধীন একটি কনসোর্টিয়াম।

আর্থিক বাধ্যবাধকতা পূরণে ব্যর্থতার কারণে এই প্রতিটি মালিকানার মেয়াদ শেষ হয়েছিল। কালরার গ্রেপ্তারের পরের দিনগুলিতে, চলমান মৌসুমে দলটিকে টিকিয়ে রাখার জন্য এসএলসি এবং আইপিজিকে হস্তক্ষেপ করতে, জরুরি তহবিল সরবরাহ করতে এবং সরাসরি পরিচলন নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করতে হয়েছিল।

মাঠের বাইরে বছরের পর বছর অস্থিরতার সত্ত্বেও মাঠের ক্রিকেটে জাফনা দারুণ সাফল্য পেয়েছে এবং এলপিএল ইতিহাসে সাফল্যের সত্যিকারের মানদণ্ড হয়ে উঠেছে। তারা লিগের সবচেয়ে প্রভাবশালী দল, পাঁচ আসরের চারটিতেই জিতেছে শিরোপা। চলতি মৌসুমেও লিগ পর্বে লিগ পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে থেকে প্লে-অফে জায়গা করে নিয়েছে তারা। 

ব্যবসায়ী নাগেন্দ্রা সিদ্দৌতাম বিবৃতিতে বলেন, বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই তারা এলপিএলে পা রাখছেন। 

“এটি আমাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। শ্রীলঙ্কার একটি সমৃদ্ধ ক্রিকেট ঐতিহ্য রয়েছে এবং এলপিএল অল্প সময়ের মধ্যেই একটি সুপরিচালিত ও অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক লিগগ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্বব্যাপী আমরা যা গড়ে তুলছি, তারই একটি স্বাভাবিক সম্প্রসারণ এই অ্যাঙ্কর জাফনা কিংস হবে– এমন ফ্র্যাঞ্চাইজি যা তাদের স্থানীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত এবং একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অ্যাঙ্কর নেটওয়ার্কের অংশ। আমরা অ্যাঙ্কর জাফনা কিংসে বিনিয়োগ করতে এবং লিগের ধারাবাহিক বৃদ্ধিতে অবদান রাখতে উন্মুখ।”

এই চুক্তির অংশ হতে পেরে উচ্ছ্বসিত ভারতের ইতিহাসের দ্বিতীয় সফলতম পেসার ও ২০১১ বিশ্বকাপ জয়ের নায়কদের একজন জাহির। 

“শ্রীলঙ্কা থেকে উঠে আসা বোলিং প্রতিভার মান, উদ্ভাবনী দিকটি এবং বৈচিত্র্যের সবসময়ই প্রশংসা করেছি আমি। এটি এমন একটি দেশ, যেখানে অনেকবার গিয়েছি, লড়াই করেছি মাঠে এবং যেখানকার অনেক মধুর স্মৃতি আমার মনে আছে। 

এখন একজন কর্ণধার হিসেবে শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটের অংশ হতে পেরে আমি সত্যিই রোমাঞ্চিত এবং অ্যাঙ্কর জাফনা কিংসের সঙ্গে কাজ শুরু করতে তর সইছে না আমার।”

জাহিরের মতো তারকাকে এলপিএলে কর্ণধার হিসেবে পেয়ে রোমাঞ্চিত এলপিএলের টুর্নামেন্টের পরিচালক সামান্থা দোদানওয়েলা বলেছেন।

“অ্যাঙ্কর জাফনা কিংসের সঙ্গে জহির খানের মতো একজনের সম্পৃক্ততা লিগটির জন্য বিরাট এক অনুপ্রেরণা। তিনি আমাদের তরুণ শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটারদের যে পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দিতে পারবেন, তা হবে অপরিসীম এবং মাঠের ভেতরে ও বাইরে সেই অভিজ্ঞতা তাদের মধ্যে সঞ্চারিত হতে দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি আমরা।”