দারুণ খেলেও সৌম্যর ৯ রানের আক্ষেপ
জুটির রেকর্ড গড়ে ও ৮৬ বলে ৯১ রানের ইনিংস খেলেও সৌম্য সরকারের শেষটা হলো হতাশায়।
শতকের দুয়ারে তখন সৌম্য সরকার। প্রয়োজন আর মাত্র ৯ রানের। কিন্তু সেই দূরত্বটুকু তিনি ঘোচাতে পারলেন না। ছক্কার চেষ্টায় ধরা পড়লেন মিড উইকেট সীমানায়। ফিল্ডারের মুঠোয় বল জমা পড়তেই তার চোখেমুখে দেখা গেল হতাশার ছাপ। যন্ত্রণাময় কয়েকটি সেকেন্ড স্থির দাঁড়িয়ে রইলেন মাঠে। নুইয়ে পড়ল মাথায়, দুহাতে যেন ঢাকতে চাইলেন মুখ।
অফ স্টাম্পের বাইরে আকিল হোসেনের ঝুলিয়ে দেওয়া বলের প্রলোভনে পা বাড়িয়েছিলেন সৌম্য। কিন্তু শটে পুরো জোর পাননি। বলটা উড়ল অনেক দূর। তখন তার চোখে আশা আর প্রার্থনা, যেন ফিল্ডারের হাতে না যায়। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না।
সেঞ্চুরির কাছাকাছি এসে থেমে গেল ইনিংস। তবু এই ৮৬ বলে ৯১ রানের ইনিংস বাংলাদেশের টপ অর্ডারের জন্য যেন একরাশ আলো।
ধারাবাহিকতার ঘাটতির কারণে বরাবরই সমালোচিত এই ওপেনার নিজের দিনে কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারেন, তা দেখিয়ে দিলেন আরও একবার। সাইফ হাসানকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশের ইনিংসে এনে দেন দারুণ এক শুরু। দুজনের স্ট্রোকের স্রোতে ষোড়শ ওভারে দলের রান পৌঁছে যায় তিন অঙ্কে।
বাংলাদেশের ওপেনিং জুটিতে শতরানের বন্ধন শেষ দেখা গিয়েছিল ২০২৩ সালের মার্চে, আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে তামিম ইকবাল ও লিটন দাসের ব্যাটে। এরপর কেটে গেছে ৪৫ ইনিংস। এই সময়ে বাংলাদেশের ওপেনিং জুটি মাত্র সাতবার পেরিয়েছে অর্ধশত রান, এ বছর আগের ১০ ওয়ানডেতে সেরা জুটি ছিল স্রেফ ৪৫ রানের।
সেই প্রেক্ষাপটে সৌম্য-সাইফের ১০০ ছোঁয়া উদ্বোধনী জুটি যেন দীর্ঘদিনের খরায় এক পশলা বর্ষণ।
সৌম্যের ইনিংসটা গতি পেয়েছিল শুরু হয়েছিল রোস্টন চেইসকে রিভার্স সুইপে ছক্কা মেরে। এরপর খ্যারি পিয়ের, গুডাকেশ মোটি, আলিক আথানেজ সব স্পিনারকেই খেলেছেন আত্মবিশ্বাসে। ফ্লিক, স্কুপ, আর দারুণ ড্রাইভে দ্রুত বাড়িয়েছেন রান।
সাইফ হাসানের সঙ্গে তার জুটি থামে ১৭৬ রানে। ওয়ানডেতে বাংলাদেশের যা দ্বিতীয় সেরা জুটি। সাইফ আউট হয়ে যান ৮০ রানে। সৌম্য এগিয়ে যেতে থাকেন সেঞ্চুরির দিকে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনিও কাটা পড়ে যান শতরানের আগেই।
৭৯ ম্যাচের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে তিন সেঞ্চুরির সবশেষটি করেন তিনি ১২ ইনিংস আগে। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে নেলসনে খেলেছিলেন ক্যারিয়ার সেরা ১৬৯ রানের ইনিংস। গত বছর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে চট্টগ্রামে করেছেন ফিফটি, বছরের শেষ দিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে করেছেন ৭৩।
এবার ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষেই এগিয়ে গেলেন আরও একটু দূর। কিন্তু শতরানের সীমানা ছোঁয়া হলো না।
