২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

অবসর ভেঙে অ্যাশেজে স্টোকস? তার ক্ষেত্রে ‘সবকিছুই সম্ভব’

অবসর থেকে ফিরে এসে ২০২৭ অ্যাশেজে বেন স্টোকসের খেলার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিলেন না ইংল্যান্ড দলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রব কি।

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 01 Aug 2026, 10:58 AM

Updated : 11 Sep 2026, 03:46 PM

বেন স্টোকসের অবসরের পর এক মাস মোটে পেরিয়েছে। অবসর ভেঙে তার ফেরার সম্ভাব্যতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে গেছে এখনই! আগামী বছরের অ্যাশেজের জন্য স্টোকসের প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না ইংল্যান্ডের ছেলেদের দলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রব কি। সাবেক এই ব্যাটসম্যানের মতে, “বেনের ক্ষেত্রে সবকিছুই সম্ভব।”

গত ২৮ জুন নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্ট চলার সময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে হঠাৎ অবসরের ঘোষণা দেন স্টোকস। ৩৫ বছর বয়সী অলরাউন্ডার বলেন, লাল বলের ক্রিকেটে চার বছর অধিনায়কত্ব করার পর তিনি ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন এবং তার মধ্যে “লড়াই করার মতো আর কিছু অবশিষ্ট নেই।”

অ্যাশেজের জন্য ফিরে আসা নিয়েও তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল তখনই। তবে সেই ভাবনায় জল ঢেলে দিয়ে বলেছিলেন, “সম্ভবত হসপিটালিটি বক্সে বসে খেলা দেখব।”

তবে সেখানেই বিষয়টি শেষ হয়ে যায়নি। অস্ট্রেলিয়ার প্রধান কোচ অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ড কদিন আগে একটি সাক্ষাৎকারে বলেন যে, স্টোকসের জন্য ‘রূপকথার মতো’ ব্যাপার হবে যদি তিনি ‘আরও একটি অ্যাশেজের’ জন্য অবসর ভেঙে ফিরে আসেন।

স্কাই স্পোর্টসকে রব কি জানালেন, এমন কোনো ইঙ্গিত তিনি পাননি স্টোকসের কাছ থেকে। তবে তাকে তিনি খুব ভালোভাবে চেনেন বলেই জানেন, ফেরাটা অসম্ভব নয়। 

“যদি সে তা করে, তবে এটি একটি চমৎকার গল্প হবে। সে (মন পরিবর্তনের কোনো ইঙ্গিত) দেয়নি এখনও, কিন্তু যদি হয়, আমি অবাক হব না। বেনের ক্ষেত্রে যেকোনো কিছুই সম্ভব।”

কিউইদের বিপক্ষে ট্রেন্ট ব্রিজ টেস্টের চতুর্থ দিনের মাঝামাঝি সময়ে স্টোকস যেভাবে অবসরের ঘোষণা দেন, তাতে দুজনের সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে কি বলেন, “না, মোটেই না। অন্তত আমি এমনটিই মনে করি।”

স্টোকসের বিদায়ের পর ইংল্যান্ডের টেস্ট দলে আরেকটি বড় পরিবর্তন এসেছে। ব্রেন্ডন ম্যাককালামের জায়গায় কোচের দায়িত্ব পেয়েছেন স্টিভেন ফ্লেমিং। সাবেক এই কিউই অধিনায়কের কোচিংয়ে আইপিএলের রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্টস ও চেন্নাই সুপার কিংস দলে খেলেছেন স্টোকস।

এবার এখনও তাদের আলাপ হয়নি বলেই মনে করেন কি। তবে স্টোকসের ফেরার সম্ভাব্যতায় আগের সুর ধরেই তিনি বললেন, “এই মুহূর্তে আমরা বিষয়টি নিয়ে এগোতে পারিনি, তবে এটি একটি দারুণ গল্প হবে।”

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ছেড়ে দিলেও ঘরোয়া ও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট খেলে যাবেন স্টোকস। এখন তিনি খেলছেন ইংল্যান্ডের ওয়ানডে কাপে। টেস্ট থেকে অবসরের পর ডারহামের হয়ে প্রথম ম্যাচেই ওয়ানডে কাপে ম্যাচ জেতানো অপরাজিত সেঞ্চুরি করেছেন, পরের ম্যাচে খেলেছেন ৫১ বলে ৭৩ রানের অপরাজিত ইনিংস। 

যতদিন তিনি এভাবে ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলে যাবেন, ২০২৭ অ্যাশেজের জন্য ইংল্যান্ড দলে তার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের আলোচনা সহজে থামবে না। অস্ট্রেলিয়ান কোচ ম্যাকডোনাল্ড যেমন সম্প্রতি এসইএন রেডিওকে বলেছেন, নতুন কোচ ফ্লেমিং নিশ্চয়ই স্টোকসের সঙ্গে আলোচনা করবেন।

“আমার মনে হয়, রূপকথার মতো ব্যাপার হবে যে, সে অবসর ভেঙে ফিরে এসে আরও একটি অ্যাশেজ খেলবে এবং অনেক আলোড়ন সৃষ্টি হবে। যদি সেই সিরিজটির প্রচারের কথা ভাবেন, তাহলে সম্ভবত এটিই চাইবেন যে, সে অবসর ভেঙে ফিরে আসুক।"

স্টোকসের উত্তরসূরীর ঘোষণাটি নিয়েও এখন চলছে তুমুল আলোচনা। এই অলরাউন্ডার বিদায়ের সময় বলেছিলেন, নতুন টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে তার পছন্দ হ্যারি ব্রুক। তবে ইংল্যান্ড আবার নেতৃত্বে ফিরিয়েছে জো রুটকে। ব্যাট হাতে অসাধারণ ফর্মে আছেন তিনি, কিন্তু আগের দফার নেতৃত্বে খুব একটা সময় সফল হতে পারেননি। নেতৃত্বের ৬৫ টেস্টে তার ব্যাটিং গড় ৪৬.৭০, নেতৃত্ব ছাড়া ১০১ টেস্টে সেই গড় ৫৩.৩৪।

তবে ব্যবস্থাপনা পরিচালক কি বললেন, সাদা বলের ক্রিকেটের অধিনায়ক ব্রুককে অতিরিক্ত ভার চাপিয়ে না দিতেই মূলত রুটের কাছে ফিরেছেন তারা। 

“সত্যি বলতে, খেলোয়াড় এবং ব্যক্তি হিসেবে সে (ব্রুক) এখনও বিকশিত হচ্ছে। ইংল্যান্ডের ক্রিকেটে টেস্ট ম্যাচের অধিনায়কত্ব সবচেয়ে বড় দায়িত্ব এবং আমি মনে করি এখন জো (রুট)-এর জন্য এটি একদম সঠিক সময়। সে এখন সবচেয়ে সিনিয়র খেলোয়াড় হিসেবে এই দলকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে।

"হ্যারি এখন সাদা বলের ক্রিকেটে যে কাজটি করেছে, তা চালিয়ে যেতে পারবে এবং অসাধারণ নেতা হয়ে ওঠার কৌশল শিখতে পারবে। সামনে ২০২৭ সালের বিশ্বকাপ, এই সবকিছু রয়েছে এবং একটা সময় সে অবশ্যই অসাধারণ টেস্ট অধিনায়ক হবে। আমার শুধু মনে হয়নি যে, এখনই উপযুক্ত সময়।”