দলে ফিরতে হলে শোধরাতে হবে নিজেকে, কার্সকে ইংল্যান্ডের শর্ত
তদন্তের মুখে থাকা পেসারকে বলা হয়েছে মাঠের বাইরের সমস্যাগুলো সমাধান করতে এবং সঠিকভাবে নিজেকে গুছিয়ে নিতে।
কোনো চোট সমস্যা নেই। ফর্মহীনতা বা ক্রিকেটীয় ব্যাপারও নেই। ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) নিশ্চিত করেছে, মাঠের বাইরের আচরণের কারণেই দলে নেওয়া হয়নি ব্রাইডন কার্সকে। ডার্বিতে কদিন আগে কে রাতের ঘটনায় তদন্তের মুখে থাকা এই পেসারকে বলা হয়েছে তার ‘সমস্যাগুলো’ সমাধান করতে এবং ‘সঠিকভাবে নিজেকে গুছিয়ে নেওয়ার জন্য সময় নিতে।’
কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে ডারহাম সতীর্থদের সাথে একটি জয় উদযাপন করার সময় একটি বারের বাইরে মাতাল হয়ে ও বিশৃঙ্খল আচরণের সন্দেহে কিছুক্ষণের জন্য গ্রেপ্তার হওয়ার পর কার্সকে ইংল্যান্ডের টেস্ট স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়া হয়। এরপর ডার্বিশায়ার পুলিশ নিশ্চিত করে যে, এই ঘটনার সাথে সম্পর্কিত একটি হামলার তদন্ত করছে তারা, যদিও এতে কার্সের সম্পৃক্ততা বা অন্যথা এখনও স্পষ্ট নয়।
কার্সের বিরুদ্ধে আলাদা করে তদন্ত করছে ইসিবিও। পাকিস্তানের বিপক্ষে চলতি টেস্ট সিরিজের তৃতীয় টেস্টে তাকে দলে নেওয়া হয়নি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সামনের সাদা বলের সিরিজের দলেও রাখা হয়নি।
ইসিবির এক মুখপাত্র শুক্রবার ক্রিকেট ওয়েবসাইট ক্রিকইনফোকে নিশ্চিত করেন, নিজেকে শুধরে নেওয়ার জন্য কার্সকে সময় দিতে চান তারা।
“দলের নির্বাচনের জন্য ‘অ্যাভেইলঅ্যাবল’ ছিল ব্রাইডন, তবে তাকে শ্রীলঙ্কা সিরিজের স্কোয়াডে নেওয়া হয়নি। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে, আমরা মনে করি, ডার্বির ঘটনার পেছনের সমস্যাগুলো সমাধান করা এবং নিজেকে নতুন করে গুছিয়ে নেওয়ার জন্য তার সময় নেওয়াটা জরুরি। কোনো তদন্তের ফলাফলের ওপর কোনো পূর্বানুমান করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।”
২০২৪ সালেও মাঠের বাইরের আচরণের জন্য শাস্তি পেয়েছিলেন কার্স। সেবার ইসিবির বেটিং নিয়ম লঙ্ঘনের কারণে তাকে তিন মাসের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছিল (দীর্ঘতর নিষেধাজ্ঞা স্থগিত রাখা হয়)। পরে তিনি সব সংস্করণেই ইংল্যান্ডের নিয়মিত ক্রিকেটারদের একজন হয়ে ওঠেন। গত মৌসুমে অস্ট্রেলিয়ায় হতাশার অ্যাশেজ সিরিজে তিনিই ছিলেন দলের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী।
মাঠের বাইরে ইংলিশ ক্রিকেটারদের একের পর এক বিতর্কিত ঘটনার ধারাবাহিকতায় কার্সের এই ঘটনাও যথারীতি তোলপাড় তুলেছে। ইংল্যান্ডের টেস্ট অধিনায়ক জো রুট পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের আগে বলেন যে, তার সতীর্থরা মাঠের বাইরে ক্রমাগত ‘স্টুপিড ভুল’ করে যাওয়ায় তিনি ‘সত্যিই বিরক্ত’ এবং সাম্প্রতিক ঘটনাটিকে দলীয় সংস্কৃতি নতুন করে শুরুর অনুঘটক হিসেবে দেখছেন তিনি।
রুট বলেন যে, কার্স তার কৃতকর্মের জন্য ‘বিব্রত’ এবং ‘ক্ষমাপ্রার্থী’, পাশাপাশি এটাও আভাস দিয়েছিলেন যে, তাকে কিছুদিনের জন্য দল থেকে বাইরে থাকতে হতে পারে।
