২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

শরিফুলের ৫ উইকেট, ব্যাটে-বলে-নেতৃত্বে দুর্দান্ত শেখ মেহেদি

শরিফুল ইসলামের রেকর্ড গড়া বোলিং আর শেখ মেহেদি হাসানের দুর্দান্ত অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে জয় দিয়ে ঢাকা পর্ব শুরু করল চট্টগ্রাম রয়্যালস।

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 16 Jan 2026, 05:46 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:34 PM

১০ ওভার শেষে নোয়াখালীর রান ৩ উইকেটে ৭৯। ১০ ওভার শেষে চট্টগ্রামের রান ৫ উইকেটে ৭২। দুই দলের ইনিংসের মাঝামাঝি পর্যায় দেখে কে বলবে, ম্যাচের পরিণতি শেষ পর্যন্ত ছিল উল্টো! নোয়াখালীর ইনিংস মুখ থুবড়ে পরে পরের ১০ ওভারে। বাজে শুরুর অস্বস্তি কাটিয়ে চট্টগ্রাম শেষ পর্যন্ত জিতে যায় বেশ সহজেই।

শরিফুল ইসলামের ৫ উইকেট আর শেখ মেহেদি হাসানের দুর্দান্ত অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে আরও একটি জয়ের দেখা পেল চট্টগ্রাম রয়্যালস। নোয়াখালী এক্সপ্রেসকে ৫ উইকেটে হারিয়ে শীর্ষ দুইয়ে থেকে প্রাথমিক পর্ব শেষ করা অনেকটাই নিশ্চিত করল দলটি। 

মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে শুক্রবার বিপিএলের ঢাকা পর্বের প্রথম ম্যাচে নোয়াখালীর ইনিংস শেষ হয় ১২৬ রানে। 

৩.৫ ওভার বোলিং করে ১টি মেডেনসহ ৯ রানে ৫ উইকেটে শিকার করেন শরিফুল। শেখ মেহেদি উইকেট নেন ৩টি। 

চট্টগ্রাম অধিনায়ক শেখ মেহেদি পরে ব্যাট হাতেও হয়ে ওঠেন দলের ভরসা। বিপর্যয়ের মধ্যে নেমে দলের জয় সঙ্গে নিয়ে ফেরেন ৩৬ বলে ৪৯ রান করে। তার দল জিতে যায় তিন ওভার বাকি রেখে। 

ম্যাচের শুরুটা নোয়াখালীর জন্য ছিল আশা জাগানিয়া। আগের ম্যাচে যেখানে শেষ করেছিলেন, হাসান ইসাখিল শুরু করেন যেন সেখান থেকেই। ম্যাচের প্রথম বলটিই বাউন্ডারিতে পাঠান তিনি। পরের ওভারে দুটি চার ও একটি ছক্কা মারেন মুকিদুলকে।

অন্য প্রান্তে তানভির ইসলামকে ছক্কায় উড়িয়ে দেন সৌম্য। প্রথম তিন ওভারে রান আসে ৩৪।

সম্ভাবনাময় এই জুটি থমকে যায় সৌম্যর বাজে শটে। শেখ মেহেদিকে রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে বোল্ড হয়ে যান অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান (৮ বলে ১৪)।

একটু পর বিদায় নেন ইসাখিল। আগের ম্যাচে ৯২ রান করা ব্যাটসম্যান ২০ বলে ২৫ রান করে আউট হন শরিফুলকে ক্রিজ ছেড়ে মারার চেষ্টায়।

এরপর আর সেভাবে গতি পায়নি তাদের ইনিংস। উদ্বোধনী জুটির ৩৪ রানের পর আর কোনো জুটি ৩০ ছুঁতেও পারেনি। 

ছন্দে না থাকা জাকের আলি তিন নম্বরে নামার সুযোগ পেয়েও বন্দি থাকেন অস্বস্তির বলয়ে। দুটি চার একটি ছক্কা মারলেও করতে ২২ বলে করতে পারেন তিনি ২৩ রান। অধিনায়ক হায়দার আলি ফেরেন ১১ বলে ১২ রান করে। 

ব্যর্থতার চক্রে থাকা হাবিবুর রহমান সোহান ৮ রানে সহজ ক্যাচ দিয়ে জীবন পান শরিফুলের হাতে। তার পরও বিদায় নেন ১৫ বলে ১১ রান করে। চলতি আসরের ৮ ইনিংসে তার মোট রান ৮৯। কোনো ইনিংসেই ছাড়াতে পারেননি ৩০ রান। 

একাদশে ফেরা মুনিম শাহরিয়ার নিজের দায়েই রান আউট হন ১ রানে। তিন ম্যাচে তার রান মোট সাত, দুটিতেই কাটা পড়লেন রান আউটে।

সাব্বির হোসেন শেষ দিকে দুই ছক্কায় ১৯ বলে ২২ রান করে দলকে নিয়ে যান ১২৬ রানে।

সেই রান তাড়ায় চট্টগ্রামের টপ অর্ডার ভেঙে পড়ে দ্রুতই। প্রথম পাঁচ ওভারে উইকেট হারায় তারা চারটি।

প্রথম ওভারেই মাহমুদুল হাসান জয় (০) স্লিপে ধরা পড়েন হাসান মাহমুদের বলে। চোটে ছিটকে পড়া অ্যাডাম রসিংটনের বদলি হিসেবে দলে যোগ দেওয়া মোহাম্মাদ হারিস দ্বিতীয় ওভারে ফেরেন স্বদেশি বোলার ইহসানউল্লাহর বলে।

পাকিস্তানি এই পেসারের বলেই বাজে শটে ফেরেন মাহফিজুল ইসলাম রবিন (৮ বলে ০)। 

অন্য প্রান্তে মোহাম্মদ নাঈম শেখের ব্যাটে ছিল উল্টো সুর। শুরুটা দারুণ আগ্রাসী করেন তিনি। কিন্তু থমকে যান একটু পরই। ৭ বলে ১৮ রান করে আউট হয়ে যান তিনি মিডিয়াম পেসার সাব্বির হোসেনের স্লোয়ারে।

২৯ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে তখন বিপকে চট্টগ্রাম, দারুণ জয়ের আশায় উজ্জীবিত নোয়াখালী।

কিন্তু শেখ মেহেদি ক্রিজে গিয়ে দারুণ কয়েকটি শট খেলে সরিয়ে দেন চাপ। পাল্টা আক্রমণে বদলে দেন ম্যাচের হাওয়া। 

হাসান নাওয়াজকে নিয়ে ৪০ রানের জুটি গড়েন তিনি, যেখানে পাকিস্তানি এই ব্যাটসম্যানের অবদান ছিল মাত্র ১২ বলে ১১।

নাওয়াজ বিদায় নেওয়ার পর আর কোনো হোঁচট খেতে হয়নি চট্টগ্রামকে। আসিফ আলি ও শেখ মেহেদির ৪৫ বলে ৫৯ রানের জুটি দলকে পৌঁছে দেয় লক্ষ্যে।

দুটি করে চার ও ছক্কায় ৩০বলে ৩৬ রানে অপরাজিত থাকেন আসিফ আলি।

চারটি চার ও দুটি ছক্কায় ৩৬ বলে ৪৯ রানে অপরাজিত থাকেন মেহেদি। চলতি আসরে তার ব্যাটিং গড় ৪৩, স্ট্রাইক রেট ১৫৫.৪২, উইকেট নিয়েছেন ওভারপ্রতি ৬.৫৮ রান দিয়ে ১০টি।৮ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে আপাতত পয়েন্ট তালিকায় সবার ওপরে চট্টগ্রাম। ৯ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে তলানিতে নোয়াখালী।

সংক্ষিপ্ত স্কোর: 

নোয়াখালী এক্সপ্রেস: ১৮.৫ ওভারে ১২৬ (ইসাখিল ২৫, সৌম্য ১৪, জাকের ২৩, হায়দার ১২, সোহান ১১, মুনিম ১, সাব্বির ২২, হাসান ৪, মেহেদি রানা ০, জাহির ৬*, ইহসানউল্লাহ ০; শরিফুল ৩.৫-১-৯-৫, মুকিদুল ৪-০-৩৮-০, তানভির ৪-০-২৯-০, শেখ মেহেদি ৩-০-১২-৩, জামাল ৪-০-৩৬-১)।

চট্টগ্রাম রয়্যালস: ১৭ ওভারে ১২৮/৫ (জয় ০, নাঈম ১৮, হারিস ৭, মাহফিজুল ০, নাওয়াজ ১১, শেখ মেহেদি ৪৯*, আসিফ ৩৬*; হাসান ৩-০-১৭-১, ইহসানউল্লাহ ৪-০-২৩-২, সাব্বির ৩-০-৩২-১, মেহেদি রানা ৩-০-২৩-০, জাহির ৪-০-২৯-০)

ফল: চট্টগাম রয়্যালস ৫ উইকেটে জয়ী। 

ম্যান অব দা ম্যাচ: শেখ মেহেদি হাসান।