২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

পাল্টা আক্রমণে স্মরণীয় সেঞ্চুরি সারফারাজের

প্রথম ইনিংসে ৪৬ রানে গুটিয়ে যাওয়া ভারত সাড়ে তিনশ রানের ব্যবধান ঘুচিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ঘুরে দাঁড়িয়েছে প্রবল প্রতাপে।

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 19 Oct 2024, 11:54 AM

Updated : 10 Sep 2026, 12:21 PM

যেন অসীম আকাশে ডানা মেলে দেওয়া মুক্ত বিহঙ্গ। কিংবা গোটা বিশ্ব জয় করে ফেলা আনন্দময়ী কেউ। সারফারাজ খানের উদযাপন দেখে মনে হতে পারে যে কোনো কিছুই। এক হাতে হেলমেট, আরেক হাতে ব্যাট উঁচিয়ে ছুটে বেড়ালেন তিনি মাঠময়। তাকে আর পায় কে!

নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে বেঙ্গালুরু টেস্টের চতুর্থ দিনে শনিবার পরম আরাধ্য মাইলফলকের দেখা পেলেন সারফারাজ।

প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি সবসময় বিশেষ কিছু। তবে সারফারাজের এই সেঞ্চুরি যেন আরও বেশি স্পেশাল। কত প্রতিকূলতা পেরিয়ে, কত বন্ধুর পথ মাড়িয়ে, কত যন্ত্রণাময় অপেক্ষার পর অবশেষে দিনটি এলো! 

শুধু ভারতীয় ক্রিকেট নয়, তার গল্প তো এখন জানা গোটা ক্রিকেট বিশ্বেরই। সেই ছোট্টবেলা থেকে একটি স্বপ্নকে ধাওয়া করে বাবার সঙ্গে দিনরাত একাকার করে ঘাম ঝরানো, ঘরোয়া ক্রিকেটে রানের জোয়ার বইয়ে দেওয়ার পরও উপেক্ষিত থাকা এবং অবশেষে দেশের হয়ে মাঠে নামতে পারা, সবই যেন রূপকথা। এবার দেশের হয়ে প্রথম সেঞ্চুরির স্বাদও পেয়ে গেলেন ২৬ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান।

তিন দিন পরই তার জন্মদিন। নিজেকে আগাম উপহারও দিয়ে রাখলেন তিনি।

শুধু প্রথম সেঞ্চুরি বলেই নয়, এই ইনিংস সারফারাজের কাছে আরও স্মরণীয় হয়ে থাকবে ম্যাচের পরিস্থিতির কারণেও। প্রথম ইনিংসে দেশের মাঠে ৪৬ রানে গুটিয়ে গিয়ে চরম বিব্রতকর অভিজ্ঞতা হয় দলের। প্রথম আট ব্যাটসম্যানের পাঁচজনই ফেরেন শূন্য রানে, সেখানে ছিলেন সারফারাজও।

প্রথম ইনিংসে ভারত পিছিয়ে ছিল ৩৫৬ রানে।

এই অবস্থায় এমনিতে সব দলের পরাজয়ের প্রহর গোনার কথা। কিন্তু ভারত দেখাল পাল্টা আক্রমণের ঝলক। ইয়াসাসভি জয়সওয়াল ও রোহিত শার্মা পথ দেখালেন। ভিরাট কোহলি ও সারফারাজ সেই পথ ধরেই ছুটে গেলেন আরও দূরে। 

তৃতীয় দিন শেষ বেলায় কোহলি আউট হয়ে গেলেন ৭০ রান করে। সারফারাজ দিন শেষ করলেন ঠিক ৭০ রানেই। 

চতুর্থ দিন সকালে তিন অঙ্কের সঙ্গে দূরত্বও তিনি ঘুচিয়ে ফেললেন অনায়াসেই। দুর্দান্ত স্ট্রোক প্লে আর প্রতিভার বিচ্ছুরণে দেশের হয়ে প্রথম শতরান পূরণ করলেন কেবল ১১০ বলেই। বাউন্ডারি সেখানে ১৩টি, ছক্কা ৩টি।

এই প্রতিবেদন লেখার সময় তিনি অপরাজিত ১২৫ রান করে। 

এই ম্যাচে তিনি সুযোগ পেয়েছেন শুবমান গিল চোটে পড়ায়। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যর্থ হলে পরের টেস্টে খেলতে পারতেন না হয়তো। গিল ফিট হলে এমনকি এই সেঞ্চুরির পরও তার পরের টেস্টে খেলা অনিশ্চিত। কিন্তু সেটা তো আর তার হাতে নেই। 

তার হাতে আছে নিজের রান করা। সেটি তিনি দারুণভাবেই করলেন। অসাধারণ এক জয়ের সম্ভাবনাও জাগিয়ে তুললেন দলের জন্য।

টেস্ট ক্রিকেটে পঞ্চাশের নিচে গুটিয়ে গিয়েও জয়ের নজির টেস্ট ইতিহাসে আছে কেবল একটিই। সেই ১৮৮৭ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪৫ রানে অলআউট হয়েও জিতেছিল ইংল্যান্ড। 

সারফারাজ নিশ্চিত করলেন, ১৩৭ বছর পর তেমন কিছুর পুনরাবৃত্তির স্বপ্ন দেখতেই পারে ভারত।