রিপনের দুর্দান্ত বোলিংয়ে রাজশাহীর জয়, নোয়াখালীর হ্যাটট্রিক পরাজয়
আগের ম্যাচে শেষ বলে হেরে যাওয়া নোয়াখালী এবার লড়াই জমাতেই পারল না, অনায়াস জয় পেল রাজশাহী।
আসরে প্রথমবার খেলতে নেমেই বল হাতে জ্বলে উঠলেন রিপন মন্ডল। ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে নোয়াখালী এক্সপ্রেসকে অল্পে আটকে রাখতে তিনি রাখলেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। আগের ম্যাচে শেষ বলে হেরে যাওয়া নোয়াখালী এবার লড়াই জমাতেই পারল না। অনায়াস জয় পেল রাজশাহী ওয়ারিয়র্স।
বিপিএলে সোমবার দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে ৬ উইকেটে জিতেছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।
সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে সবুজ উইকেটে নোয়াখালীকে ১২৪ রানে আটকে রেখে জয়ের ভিত গড়ে দেন রাজশাহীর বোলাররা।
৪ ওভারে এক মেডেনে ১৩ রানে ৪ উইকেট নেন রিপন। ম্যাচ-সেরার স্বীকৃতি পান তিনিই। ২২ বছর বয়সী এই পেসারের আগের সেরা বোলিং ছিল ২৪ রানে ৪ উইকেট।
নোয়াখালীর কোনো জুটিই স্পর্শ করেনি ত্রিশ। হায়দার আলির ২৮ বলে ৩৩ ছাড়া আর কোনো ব্যাটসম্যান পারেননি উল্লেখযোগ্য কিছু করতে।
কার্যকর দুটি পঞ্চাশোর্ধ জুটিতে রাজশাহী লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে ১৩ বল হাতে রেখে।
তিন ম্যাচে রাজশাহীর দ্বিতীয় জয় এটি। জয়ে অভিযান শুরুর পর দ্বিতীয় ম্যাচ হেরেছিল তারা। নোয়াখালী হারল প্রথম তিন ম্যাচেই।
টস জিতে বোলিং নেয় রাজশাহী। তানজিম হাসানের এলোমেলো বোলিংয়ে প্রথম ওভারে আসে ১৮ রান। দ্বিতীয় ওভারে আক্রমণে এসেই হাবিবুর রহমান সোহানকে ফিরতি ক্যাচে ফেরান শ্রীলঙ্কান পেসার বিনুরা ফার্নান্দো।
আগ্রাসী ব্যাটসম্যান সোহান ব্যাট হাতে ব্যর্থ হলেন প্রথম তিন ম্যাচেই; ১৫, ০ ও ৫।
তৃতীয় ওভারে প্রথম বোলিং পেয়ে একটি চার হজম করলেও রিপন দেন কেবল ৫ রান। পাওয়ার প্লেতে নিজের পরের ওভারের প্রথম বলেই উইকেটের দেখা পান তিনি। মিড-অনের ওপর দিয়ে খেলার চেষ্টায় ঠিকমতো টাইমিং করতে পারেননি সাব্বির হোসেন। মিড-অনে সহজ ক্যাচ কয়েকবারের চেষ্টায় মুঠোয় জমান সাহিবজাদা ফারহান।
ওভারের বাকি পাঁচ বলেও আসেনি কোনো রান।
ওপেনার মাজ সাদাকাত শুরুটা ভালোই করেন। কিন্তু ইনিংস টেনে নিতে পারেননি তিনি। অষ্টম ওভারে পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানকে (১৯ বলে ২৫) ফেরান তার স্বদেশী হুসাইন তালাত।
প্রথম ১০ ওভারে নোয়াখালী করতে পারে ৩ উইকেটে ৫৯। তাদের ইনিংস গতি পায়নি পরের ১০ ওভারেও।
তানজিমকে একটি ছক্কার পরের বলেই ক্যাচ দিয়ে শেষ হয় মাহিদুল ইসলামের মন্থর ইনিংস (২৭ বলে ২২)। তানজিমের পরের ওভারে অফ স্টাম্পের বাইরের বলে অফ সাইডে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন জাকের আলি।
ষোড়শ ওভারে রিপন দ্বিতীয় স্পেলে ফিরে মাত্র ১ রান দিয়ে শিকার ধরেন দুটি। চমৎকার ডেলিভারিতে রেজাউর রহমান রাজাকে বোল্ড করেন তিনি। উড়িয়ে মেরে লং-অনে ধরা পড়েন হাসান মাহমুদ।
নোয়াখালীকে টানছিলেন যিনি, সেই হায়দারকে নিজের কোটার শেষ ওভারে বিদায় করেন রিপন। স্লোয়ার ডেলিভারি উড়িয়ে মেরে বাউন্ডারিতে ধরা পড়েন পাকিস্তানের ব্যাটসম্যান। এই ওভারে আসে ৭ রান।
ছোট লক্ষ্য তাড়ায় রাজশাহীর শুরুটা ভালো ছিল না। প্রথম ওভারে হাসান মাহমুদকে বেরিয়ে এসে খেলার চেষ্টায় প্যাডে লেগে বোল্ড হন সাহিবজাদা।
শুরুর ধাক্কা সামলে তানজিদ হাসান ও শান্তর আগ্রাসী জুটিতে এগিয়ে যায় রাজশাহী। রাজাকে ফাইন লেগ দিয়ে ছক্কায় ওড়ান তানজিদ। আগের ম্যাচে হ্যাটট্রিক করা মেহেদি রানার একই ওভারে দুটি চার মারেন তিনি।
রাজার ওভারে বাউন্ডারির পর ছক্কা মারেন প্রথম ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান শান্ত। ওই ওভারেই ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন তিনি (২০ বলে ২৪)। থামে ৩৮ বলে ৬৫ রানের জুটি।
পরের ওভারে জাহির খানের বলে বোল্ড হয়ে যান তানজিদ (২০ বলে ২৯)। হুসাইন তালাতকে টিকতে দেননি হাসান।
পরপর তিন ওভারে তিন ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস দিলেও, বাকি সময়ে আর তেমন কিছু করতে পারেনি নোয়াখালী।
দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে রাজশাহীকে কাঙ্ক্ষিত ঠিকানায় পৌঁছে দেন মুশফিকুর রহিম ও ইয়াসির আলি চৌধুরি। একটি ছক্কায় ৩০ বলে ২৮ রান করেন মুশফিক। একটি করে চার ও ছক্কায় ২৬ বলে ২৩ রান করেন ইয়াসির।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
নোয়াখালী এক্সপ্রেস: ২০ ওভারে ১২৪/৮ (সোহান ৫, সাদাকাত ২৫, সাব্বির ৬, মাহিদুল ২২, হায়দার ৩৩, জাকের ৬, রাজা ১, হাসান ০, বিলাল ১*, মেহেদি রানা ১১*; তানজিম ৪-০-৩১-২, বিনুরা ৪-০-২৩-১, রিপন ৪-১-১৩-৪, নাওয়াজ ১-০-১৭-০, তালাত ৩-০-১৮-১, মুরাদ ৩-০-১৮-০)
রাজশাহী ওয়ারিয়র্স: ১৭.৫ ওভারে ১২৫/৪ (সাহিবজাদা ২, তানজিদ ২৯, শান্ত ২৪, মুশফিক ২৮*, তালাত ৩, ইয়াসির ২৩*; হাসান ৪-০-১৯-২, বিলাল ২-০-২৫-০, রাজা ২-০-২৪-১, মেহেদি রানা ৩-০-২১-০, জাহির ৩.৫-০-২০-১, সাদাকাত ৩-০-১১-০)
ফল: রাজশাহী ৬ উইকেটে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: রিপন মন্ডল
