২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬ আশ্বিন ১৪৩৩

একাডেমি মাঠে গ্রিন হাউস ইনডোরের জায়গায় বসবে নতুন অ্যাথলেটিক ট্র্যাক

যে কোনো আবহাওয়ায় ক্রিকেটাররা যেন ফিটনেস নিয়ে কাজ করতে পারেন, সেজন্যই এই অ্যাথলেটিক ট্র্যাক বসানোর উদ্যোগ নিয়েছে বিসিবি।

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 03 Sep 2026, 08:59 PM

Updated : 19 Sep 2026, 02:24 PM

মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের একাডেমি মাঠের দক্ষিণ দিকে থাকা গ্রিন হাউস ইনডোর বেশ আগেই ভেঙে ফেলেছে বিসিবি। প্রায় অকার্যকর থাকা ইনডোরের সেই জায়গায় অ্যাথলেটিক ট্র্যাক বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার মিরপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এই কথা জানান বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল।

দায়িত্ব নিয়ে ক্রিকেটারদের বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর দিকে নজর দিয়েছেন তিনি। এরই অংশ হিসেবে মিরপুরে ক্রিকেটারদের জন্য সুইমিং পুল নির্মিত হচ্ছে। পাশাপাশি পুনর্নিমাণ করে বাড়ানো হচ্ছে জিম সুবিধা। ধীরে ধীরে আরও কিছু সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হবেও বলে জানান বিসিবি প্রধান।

“আমি আশা করি নভেম্বরের মধ্যে সুইমিং ও নতুন জিম প্রস্তুত হয়ে যাবে। তাতে আমাদের উন্নতমানের জিম, সুইমিং পুল ও রিকভারি সেন্টার থাকবে।”

“সত্যি বলতে, আমরা সুযোগ-সুবিধার দিক থেকে অনেক পিছিয়ে আছি। ক্রিকেটে যতটুকু সুবিধা থাকা উচিত, তার থেকে আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। তাই, আমরা আস্তে আস্তে করে যতটুকু সুযোগ-সুবিধা তৈরি করতে পারি।” 

বিসিবি প্রধানের দায়িত্ব নিয়ে সর্বোচ্চ সুবিধাসম্পন্ন এক্সিলেন্স সেন্টার বানানোর স্বপ্নের কথা বলেছিলেন তামিম ইকবাল। এর অংশ হিসেবে সম্প্রতি ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআইয়ের এক্সিলেন্স সেন্টার পরিদর্শন করেছেন তিনি। সেখানে দেখেছেন, ফিটনেস অনুশীলনের জন্য আছে অ্যাথলেটিক ট্র্যাক। তেমন এক ট্র্যাক একাডেমি মাঠে বসানো হবে।

এই অ্যাথলেটিক ট্র্যাক বসানোর পেছনে থাকা উদ্দেশ্যও ব্যাখ্যা করেন জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক।

“একাডেমি মাঠে আমরা ১১০ মিটারের একটা অ্যাথলেটিক ট্র্যাক করব। এখন ১১০ মিটারে অ্যাথলেটিক ট্র্যাক করার কারণটা কি? ক্রিকেটারদের রানিং বা ফিটনেসে আমরা যে দৌড়াদৌড়ি করি, এটা মূলত সোজাসুজি।”

“আমি সম্প্রতি যখন ভারতে গিয়ে ওদের এক্সিলেন্স সেন্টারে দেখেছি, ঠিক এই জিনিসটাই আছে। তিন লেনের সোজা লাইনের ১২০ মিটারের একটা অ্যাথলেটিক ট্র্যাক। অনেক সময় কিন্তু বৃষ্টিতে আপনি মাঠের মধ্যে দৌড়াইতে পারেন না। কাদা হয়ে যায় বা অনেক সমস্যা হয়ে যায়। মাঠে তো সব সময় ফ্রি থাকে না। অ্যাথলেটিক ট্র্যাকের মধ্যে কিন্তু আপনি যে কোনো স্প্রিন্ট এবং সবকিছু করতে পারবে।”

বর্তমানে একাডেমি মাঠের ঠিক মাঝে ক্রিকেটারদের অনুশীলনের জন্য আছে চারটি উইকেট। তবে, কোনো ধরনের ফ্লাডলাইট না থাকায় ক্রিকেটাররা রাতে এখানে কোনো ধরনের অনুশীলন করতে পারেন না। এছাড়া একাডেমি মাঠে ক্রিকেটারদের অনুশীলন সুবিধা বাড়ানোর সিদ্ধান্তের কথাও জানান জাতীয় দলের সাবেক ওপেনার।

“একাডেমি মাঠের মাঝখানে আমরা সেন্টার উইকেট ১২টা করে দেওয়া হবে। তারপরে গ্রাউন্ডস কমিটির চেয়ারম্যানকে বলেছি, ওখানে (ইনডোরের আউটার মাঠ) ফ্লাডলাইট লাগানো হয়েছে, ওটা কতটুকু ব্যবহার হচ্ছে। যদি ওটা অতটা (ব্যবহার) না হয়ে থাকে, তাহলে ওটা খুলে এখানে এসে লাগায় দেওয়া যায় নাকি আরও কিছু যোগ করে।”

একাডেমি মাঠের পাশাপাশি একাডেমি ভবন সংস্কারের পরিকল্পনাও মাথায় রেখেছে বিসিবি। পাশাপাশি খেলোয়াড়দের অন্যান্য চাওয়া পূরণে কোনো ধরনের প্রশ্ন করে না, বলেন তামিম।

“আমাদের যে একাডেমি ভবন আছে, এই ভবনটাকে আরও কীভাবে ভালো করতে পারি, কীভাবে সংস্কার করতে পারি, কেননা এটার অবস্থা খুব একটা বেশি ভালো না। এসব নিয়েও আজকে কথা বলেছি। এসব নিয়ে আলোচনা করে সবাই যখন একসঙ্গে হব, বোর্ডে তোলা হবে। বোর্ড অনুমোদন করবে কি-না, সেটা তো বোর্ডের সিদ্ধান্ত।”