স্মিথ আউট ছিলেন নাকি নট আউট
জিং বেলস থাকলে স্টিভেন স্মিথ রান আউট হতেন, স্টুয়ার্ট ব্রডকে বলেছেন আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা।
বড় পর্দায় প্রথম রিপ্লে দেখে ড্রেসি রুমের দিক হাঁটা দিয়েছিলেন স্টিভেন স্মিথ। গ্যালারিতে ছড়িয়ে পড়েছিল উল্লাস। মাঠে উদযাপন করছিলেন ইংলিশরা। ফিল্ডার জর্জ ইলহামকে অভিনন্দন জানাচ্ছিলেন সতীর্থরা। কিন্তু আম্পায়ারের একটি অ্যাঙ্গেল থেকে দেখলেই চলে না। বিভিন্ন অ্যাঙ্গেল থেকে এবং প্রতিটি ফ্রেম দেখে শেষ পর্যন্ত টিভি আম্পায়ার দিলেন ‘নট আউট।’ ভারতীয় আম্পায়ার নিতিন মেননের সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে চলছে তুমুল আলোচনা।
অ্যাশেজের ওভাল টেস্টের দ্বিতীয় দিনে শুক্রবার ওই ঘটনার সময় স্মিথ ছিলেন ৪২ রানে। পরে তিনি আউট হন ৭১ রানে। ম্যাচের ওই অবস্থায় ও পরে অস্ট্রেলিয়ার লিড নেওয়ার প্রেক্ষাপটে তার ইনিংসটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
ইনিংসের ৭৮তম ওভারে ক্রিস ওকসের বল আলতো করে মিড উইকেটে ঠেলেই ছুট দেন স্মিথ। এক রান অনায়াসে নেওয়ার পর দ্বিতীয় রানও নিতে ছোটেন তিনি। কিন্তু বদলি ফিল্ডার জর্জ ইলহাম (সাবেক অলরাউন্ডার মার্ক ইলহামের ছেলে) সীমানা থেকে দ্রুতগতিতে অনেকটা ছুটে এসে গুলির বেগে থ্রো করেন। অবস্থা বেগতিক বুঝে শেষ সময়ে ফুল লেংথ ডাইভ দেন স্মিথ। কিপার জনি বেয়ারস্টো বল গ্লাভসে নিয়ে ফেলে দেন বেলস।
রিপ্লেতে প্রথম যে অ্যাঙ্গেল থেকে দেখানো হয়, তাতে মনে হয়েছিল স্মিথ অনায়াসেই আউট। তিনি চলে যাচ্ছিলেন ড্রেসিং রুমে। কিন্তু তাকে থামান আম্পায়াররা। তৃতীয় আম্পায়ার নিতিন মেনন অনেকটা সময় নিয়ে ‘ফ্রেম বাই ফ্রেম’ দেখতে থাকেন। একটা পর্যায়ে তিনি সিদ্ধান্ত পৌঁছে যান, বেলস পুরোপুরি সরে যাওয়ার আগেই ক্রিজে পৌঁছে গেছেন স্মিথ।
স্মিথ ক্রিজে পৌঁছানোর আগে শেষ ফ্রেমটিতে দেখা যায়, একটি বেল তখনও স্টাম্পের সঙ্গেই লেগে আছে এবং আরেকটি বেলের এক প্রান্ত উঠে গেলেও আরেকপ্রান্ত স্টাম্পের সঙ্গেই সংযুক্ত। ড্রেসিং রুমে ফেরার পথ থেকে স্মিথ আবার ফিরে আসেন ক্রিজে।
ওই সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা চলতে থাকে দিনজুড়েই। ধারাভাষ্য কক্ষে যেমন সংশয় ছিল, তেমনি দুই রকম মতামত দেখা যায় সামাজিক মাধ্যমে নানা জনের কথায়। কিপার বেয়ারস্টোর গ্লাভস লেগে বেলস আগেই উঠে গিয়েছে কি না, এই প্রশ্নও ওঠে।
দিনের খেলা শেষে ইংল্যান্ডের প্রতিনিধি হয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসা স্টুয়ার্ট ব্রড অবশ্য বললেন, তার খুব একটা আপত্তি নেই সিদ্ধান্ত নিয়ে।
“সত্যি বলতে, আইন আমার জানা নেই। তবে আমার মনে হয়, নট আউট দেওয়ার মতো যথেষ্ট সংশয় ছিল। বেনিফিট অব ডাউটের মতো কিছু হয়েছে বলে মনে হলো। প্রথম যে অ্যাঙ্গেল দেখেছি, তাতে মনে হয়েছিল সে আউট। পরে পাশের অ্যাঙ্গেল থেকে মনে হলো, বেলস সম্ভবত সরেনি।”
“কুমার (ধর্মসেনা, মাঠের আম্পায়ার) আমাকে বললেন, জিং বেলস থাকলে এটা আউট দেওয়া হতো। কারণটা অবশ্য আমি বুঝতে পারছি না।”
স্টিভেন স্মিথের নিজের ভাবনাও অনেকটা ব্রডের মতোই।
“প্রাথমিক রিপ্লেতে দেখলাম যে বেল সরে গিয়েছিল। পরে দ্বিতীয়বার দেখে মনে হলো, আমি ক্রিজে যাওয়ার আগেই জনি (বেয়ারস্টো) বেল ফেলে দিয়ে থাকতে পারে। প্রাথমিকভাবেই যদি স্টাম্পে লাগত, তাহলে আমি মনে হয় ক্রিজের বাইরেই থাকতাম।”
ক্রিকেটের আইন প্রনয়ণকারী সংস্থা এমসিসি পরে টুইটারে ওই ঘটনার ভিডিওসহ আইনের ব্যাখ্যাসহ নিশ্চিত করে যে, আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত সঠিকই ছিল। ক্রিকেট আইনের ২৯.১ ধারা অনুযায়ী, উইকেট তখনই ভেঙেছে বলে ধরে নেওয়া হবে, যখন অন্তত একটি বেল পুরোপুরি সরে যাবে স্টাম্প থেকে কিংবা এক বা একাধিক স্টাম্প মাটি থেকে উপড়ে ফেলা হবে।”
