১৬০ রানের ইনিংস খেলে স্মিথকে ধন্যবাদ দিলেন লাবুশেন
শেফিল্ড শিল্ডে দেড়শ ছোঁয়া ইনিংসটি খেলে অ্যাশেজের দলে ফেরার দাবিও জানিয়ে রাখলেন এই অস্ট্রেলিয়ান।
শুরুটা ছিল কিছুটা নড়বড়ে। প্রথম ১২ বলে রানের দেখাই পাননি মার্নাস লাবুশেন। সেখান থেকে টানা দুই বলে চার মেরে গা ঝাড়া দেন তিনি। এরপর কেবলই সামনের পানে ছুটে যাওয়া। দারুণ ব্যাটিংয়ে দেড়শ ছোঁয়া ইনিংস উপহার দিয়ে টেস্ট দলে ফেরার দাবি জানিয়ে রাখলেন অস্ট্রেলিয়ার টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান।
ব্যর্থতার জাল ছিঁড়ে এভাবে বেরিয়ে আসতে পেরে এবং অসামান্য এক মাইলফলক ছুঁয়ে দীর্ঘদিনের সতীর্থ স্টিভেন স্মিথকে ধন্যবাদ জানালেন লাবুশেন।
অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির প্রতিযোগিতা শেফিল্ড শিল্ডে সোমবার ১৬০ রানের ইনিংস খেলেন কুইন্সল্যান্ড অধিনায়ক লাবুশেন। তাসমানিয়ার বিপক্ষে তার ২০৬ বলের ইনিংসটি গড়া ২ ছক্কা ও ১৯ চারে।
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এটি লাবুশেনের ৩৩তম শতক। ইনিংসটির সৌজন্যে এই সংস্করণে ১২ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন ৩১ বছর বয়সী ক্রিকেটার।
মাস ছয়েক আগেও টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন লাবুশেন। কিন্তু টানা ব্যর্থতায় দলে জায়গা হারাতে হয় তাকে। দেশের হয়ে সবশেষ টেস্ট সেঞ্চুরি করেন তিনি ২০২৩ সালে। এরপর ৩০ ইনিংসে পাননি কোনো সেঞ্চুরি। এই সময়ে পঞ্চাশ ছুঁতে পারেন কেবল সাতবার, সর্বোচ্চ ইনিংস ছিল ৯০ রানের।
সাদা পোশাকে জাতীয় দলের হয়ে ৫৮ টেস্টের সবশেষটি খেলেন লাবুশেন টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে হেরে যাওয়া ওই ম্যাচের দুই ইনিংসে করতে পারেন কেবল ১৭ ও ২২ রান। এরপরই দল থেকে বাদ পড়েন টেস্টে প্রায় ৪ হাজার রান করা ক্রিকেটার। গত জুন-জুলাইয়ের ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে তাকে রাখেনি অস্ট্রেলিয়া।
ফেরার লড়াইয়ে লাবুশেনের জন্য বড় স্বস্তির হয়ে এসেছে এই সেঞ্চুরি। সামনেই ঘরের মাঠে অ্যাশেজ সিরিজ। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঐতিহ্যবাহী সিরিজের আগে এমন কিছু ইনিংস খুলে দিতে পারে লাবুশেনের দলে ফেরার দুয়ার।
২০১৮ সালে টেস্টের আঙিনায় পা রাখা লাবুশেন ক্রিজে সবচেয়ে বেশি সময় বোধহয় কাটিয়েছেন স্মিথের সঙ্গেই। কাছ থেকে দেখেছেন সময়ের সেরা ব্যাটসম্যানদের একজন স্মিথকে।
লাবুশেন সোমবার বললেন, দল থেকে বাদ পড়ার পর তার ভাবনার বড় অংশ জুড়েই ছিলেন স্মিথ। সতীর্থের থেকে অনেক কিছু শেখার কথাও জানালেন তিনি।
“সেঞ্চুরি করতে পারা সবসময়ই দারুণ ব্যাপার এবং দলকে এমন একটা অবস্থায় নেওয়া, যেখান থেকে চতুর্থ দিনে জেতা যায়, এমন কিছু করতে পারাও দারুণ। ক্রিজে বেশ ভালো অনুভব করছিলাম। মনে হচ্ছিল, কন্ডিশন খুব ভালোভাবে পড়তে পারছি।”
“মনে হচ্ছে, ব্যাটিংয়ের মৌলিক জায়গায় ফিরে যেতে পেরেছি এবং এখন আমার মনোযোগ কেবল রান করায়। খুব বেশি কৌশলগত সমস্যা ছিল না…ভালো দিক হলো, গত ছয়-সাত বছর ধরে বিশ্বের সেরা ক্রিকেটারদের একজনের সঙ্গে খেলেছি এবং তার থেকে অনেক কিছু শিখেছি।”
গত মাসে ঘরোয়া লিস্ট ‘এ’ টুর্নামেন্ট ওয়ানডে কাপে ভিক্টোরিয়ার বিপক্ষে ১৩০ রানের চমৎকার ইনিংস খেলেন লাবুশেন। ১১৮ বলের ইনিংসটি তিনি সাজান ১ ছক্কা ও ১৭ চারে।
এরপর গত শনিবার শেফিল্ড শিল্ডে শুরু হওয়া ম্যাচটি দিয়ে লাল বলে ফেরেন লাবুশেন। তার সেঞ্চুরি ছোঁয়া ইনিংসটি দেখেছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাচক জর্জ বেইলি।
লাবুশেনের ইনিংসটি যদিও নিখুঁত ছিল না। ৬১ রানে একবার জীবন পান তিনি। সুইপ করতে গিয়ে অল্পের জন্য বেঁচে যান ৯৮ রানে। পরে চার মেরে ১৫৪ বলে কাঙ্ক্ষিত তিন অঙ্কের ঠিকানায় পা রাখেন ডানহাতি ব্যাটসম্যান। দেড়শ স্পর্শ করেন ১৯৯ বলে। ৩৯তম ওভারে ক্রিজে গিয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি ১১৫ তম ওভারে।
আগামী ২১ নভেম্বর পার্থে শুরু হবে অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ডের পাঁচ টেস্টের সিরিজ।
