২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬ আশ্বিন ১৪৩৩

শ্রীলঙ্কার অবিশ্বাস্য ড্রয়ে দিনুশার দারুণ সব কীর্তি

ভারতের বিপক্ষে ফলো-অনে পড়ে এই প্রথম ম্যাচ বাঁচাতে পারল লঙ্কানরা।

শ্রীলঙ্কার অবিশ্বাস্য ড্রয়ে দিনুশার দারুণ সব কীর্তি
সোনাল দিনুশা। ছবি: শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 27 Aug 2026, 11:50 PM

Updated : 19 Sep 2026, 02:24 PM

ভারতের বিপক্ষে হোয়াইটওয়াশড হওয়ার শঙ্কায় ছিল শ্রীলঙ্কা। গলের পর কলম্বোতেও তাদের চোখ রাঙাচ্ছিল পরাজয়। ফলো-অনে পড়া দলকে আরেকটি সেঞ্চুরিতে অবিশ্বাস্য এক ড্র এনে দেন সোনাল দিনুশা। বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের অসাধারণ পারফরম্যান্স ছাপ ফেলে পরিসংখ্যানের বেশ কয়েকটি পাতায়।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের পাঠকদের জন্য কলম্বো টেস্ট ও ভারত-শ্রীলঙ্কার দুই টেস্টের সিরিজের কিছু পরিসংখ্যান তুলে ধরা হলো:

ফলো-অনে পড়া ২৮ টেস্টের মধ্যে চারটিতে ম্যাচ বাঁচাতে পেরেছে শ্রীলঙ্কা। এর আগে ২০১০ সালে গল টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ফলো-অনে পড়ার পর ম্যাচ ড্র করেছিল তারা। 

ভারতের বিপক্ষে কলম্বো টেস্টের আগ পর্যন্ত ফলো-অনে পড়া ১০ টেস্টের সবকটিতেই হেরেছিল লঙ্কানরা।

এনিয়ে নবম টেস্টে শ্রীলঙ্কাকে ফলো-অন করাল ভারত। এবারই প্রথম লঙ্কানদের ফলো-অন করিয়েও ম্যাচ জিততে পারেনি তারা।

২১৬

ফলো-অনে পড়ার পর এটা শ্রীলঙ্কার সর্বোচ্চ লিড। দ্বিতীয় ইনিংসে ৪২৯/৯ তাদের তৃতীয় সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। আর ১৫৪ ওভার ব্যাটিং করেছে তারা, ফলো-অনে পড়ার পর যা তাদের যৌথভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

২১১

দ্বিতীয় ইনিংসে ষষ্ঠ উইকেট হারানোর পর আরও ২১১ রান করেছে শ্রীলঙ্কা। ফলো-অনে ব্যাটিং করা ইনিংসে ষষ্ঠ উইকেট হারানোর পর কোনো দলের যা তৃতীয় সর্বোচ্চ। ২০২১ সালে আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ২২৫ রান যোগ করেছিল জিম্বাবুয়ে। আর ১৯৮১ সালের লিডস টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২২৩ রান যোগ করেছিল ইংল্যান্ড।

১৪৬২

কলম্বো টেস্টে ১৪৬২ বল খেলেছে শ্রীলঙ্কা। পুরুষদের টেস্টে প্রথম ইনিংস ও ফলো-অন ইনিংস মিলিয়ে কোনো দলের এত বেশি বল খেলার সর্বশেষ নজির ছিল ২০০৯ সালে, নেপিয়ার টেস্টে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ভারতের। ওই ম্যাচে ভারত ১৬৪৩ বল খেলেছিল।

কলম্বো টেস্টের সমান কিংবা এর চেয়ে বেশি বল মাত্র সাত ম্যাচে খেলতে পেরেছে শ্রীলঙ্কা। সবশেষ এমন ঘটনা দেখা যায় ২০১৪ সালে শারজায় পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে, যেখানে দুই ইনিংস মিলিয়ে ১৬৪২ বল খেলেছিল তারা।

ফলো-অনে পড়া দলের হয়ে দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি করা তৃতীয় ক্রিকেটার সোনাল দিনুশা। ১৯৪৮ সালে অ্যাডিলেইডে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ভিজায় হাজারে এবং ২০০১ সালে হারারেতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার এই কীর্তি গড়েছিলেন।

দিনুশার আগে টানা দুই টেস্টের দুই ইনিংসেই ৮০ বা তার বেশি রান করতে পেরেছেন কেবল একজন। গলে প্রথম টেস্টে দিনুশা ১০০ ও ৮৪ রান করেন। এরপর কলম্বোতে দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি করেন তিনি। ২০১০ সালে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে হ্যামিল্টন টেস্ট এবং পাকিস্তানের বিপক্ষে লর্ডস টেস্টে সাইমন ক্যাটিচ প্রথম এই কীর্তি গড়েছিলেন।

দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে কোনো ব্যাটসম্যানের তিনটি সেঞ্চুরি করার নজির এর আগে আটবার দেখা গিয়েছিল। শ্রীলঙ্কার আরভিন্দা ডি সিলভা ১৯৯৭ সালে পাকিস্তান ও ভারত সিরিজে তিনটি করে শতক করেছিলেন। ২০১৩ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার কুমার সাঙ্গাকারাও এই কীর্তি গড়েন। আগের আটটি ঘটনাই ছিল সিরিজ ড্র অথবা সিরিজ জয়ের ক্ষেত্রে। দিনুশা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ হেরেছেন।

একটি টেস্ট সিরিজে ছয় নম্বর বা তার নিচে ব্যাটিং করে তিনটি সেঞ্চুরি করা ষষ্ঠ ব্যাটসম্যান দিনুশা। এই তালিকায় প্রথম শ্রীলঙ্কান তিনি। আর দুই ম্যাচের সিরিজে এই কীর্তি গড়া প্রথম ব্যাটসম্যানও তিনি।

ছয় নম্বরে বা তার নিচে ব্যাটিং করে টেস্টের দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি করা পঞ্চম ব্যাটসম্যান দিনুশা। আগের চারজনের মধ্যে তিনজনই ছিলেন শ্রীলঙ্কার ব্যাটসম্যান।

৬০৬

পাঁচ টেস্টের ছোট্ট ক্যারিয়ারে ছয়শর বেশি রান করে ফেলেছেন দিনুশা। লঙ্কানদের মধ্যে ক্যারিয়ারের প্রথম পাঁচ টেস্টে কেবল কামিন্দু মেন্ডিসই (৬৩১) তার চেয়ে বেশি রান করতে পেরেছেন। সব দেশ মিলিয়ে দিনুশার ৬০৬ রান দশম সর্বোচ্চ।

কামিন্দু ও দিনুশার ওই সব রানই এসেছে ছয় নম্বরে কিংবা তার নিচে ব্যাটিং করে। প্রথম পাঁচ টেস্টে ছয় বা তার নিচে ব্যাটিং করে আর কোনো ব্যাটসম্যান ৫৫০-এর বেশি রান করতে পারেননি।