বিকাশ ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের উদ্যোগ: বিতরণ ৪ লাখ বই, পড়েছে ৩২ লাখ পাঠক
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ও বিকাশের অংশীদারত্বের ১২ বছর পূর্তি উপলক্ষে গত শুক্রবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে এক প্রীতি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে সারাদেশে পাঠকদের কাছে চার লাখ বই পৌঁছে দেওয়ার দাবি করেছে বিকাশ। এই ৪ লাখ বই অন্তত ৩২ লাখ ছেলে-মেয়ে পড়েছে বলে দাবি বিশ্বাসাহিত্য কেন্দ্রের।
রোববার বিকাশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিজেদের সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে ২০১৪ সাল থেকে টানা ১২ বছর ধরে বইপড়া কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে বিকাশ। এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে গত ১২ বছরে ৪ লাখের বেশি বই দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠাগারে বিতরণ করেছে তারা। বিকাশের সহায়তায় বিতরণ করা বইগুলো প্রায় তিন হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পৌঁছেছে, যার মাধ্যমে ৩২ লাখের বেশি শিক্ষার্থী ও পাঠক সরাসরি উপকৃত হয়েছেন।
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ও বিকাশের অংশীদারত্বের ১২ বছর পূর্তি উপলক্ষে গত শুক্রবার রাজধানী প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে এক প্রীতি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলনে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে বক্তব্য দেন, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সভাপতি ও প্রধান নির্বাহী অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ।
তিনি বলেন, “বই পড়া কর্মসূচি সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার যাত্রায় অনেকের সাহায্য পাওয়া গেছে। ব্যক্তিগত, সামাজিক, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছি। সরকারের বাইরে যে প্রতিষ্ঠানগুলো বড় সহায়তা দিয়েছে, তার মাঝে একটি বিকাশ। এই ১২ বছরে আমরা বিকাশের কাছ থেকে ৪ লাখ বই পেয়েছি; যা দেশজুড়ে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দেওয়া হয়েছে। এই ৪ লাখ বই অন্তত ৩২ লাখ ছেলে-মেয়ে পড়েছে। বিকাশ যদি এই অর্থটা অন্য জায়গায় বিনিয়োগ করত, তাহলে হয়ত ব্যবসায়িকভাবে একটু লাভবান হত। কিন্তু সেটা না করে, এখানে করাতে বিকাশ লাভবান হয়েছে কিনা জানি না, কিন্তু জাতি লাভবান হয়েছে।”
সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, “সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী চেষ্টা করে যাচ্ছেন, দেশে শিক্ষার মান বাড়াতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। প্রাথমিক থেকেই শুরু করতে হবে, গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে কারিগরি শিক্ষাতেও।
“পূর্ববর্তী সরকারের ১ দশমিক ৩৯ শতাংশ শিক্ষা বাজেটকে ইতোমধ্যে এই সরকার ২ শতাংশে নিয়ে এসেছে, এ বছর আমরা ১ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকার শিক্ষা বাজেট পেয়েছি। শিক্ষা বাজেটকে ক্রমান্বয়ে জাতীয় বাজেটের ৫ শতাংশে নিতে চায়।”
স্মার্ট ফোন ও মাদকের আসক্তি থেকে বের করে আনতে নতুন প্রজন্মকে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার তাগিদ দেন শিক্ষামন্ত্রী।
বিকাশের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কামাল কাদীর বলেন, “বিকাশ ১৫ বছর ধরে চলছে, গত কয়েক বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটি কিছু লাভ করছে। তবে এই লাভ হওয়ার বহু আগে থেকেই বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের এ কর্মসূচির সঙ্গে আমরা যুক্ত আছি। ১২ বছর আগে যখন এই প্রতিষ্ঠানের সাথে কাজ করার সুযোগ পাই, আমরা তা লুফে নিয়েছিলাম। আমরা সবসময়ই এমন উদ্যোগকে গুরুত্ব দিয়েছি, যা তরুণ প্রজন্মকে পাঠ্যপুস্তকের গণ্ডি পেরিয়ে নতুন জ্ঞান, সৃজনশীলতা ও মুক্তচিন্তার জগতে নিয়ে যায়।”
সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিকাশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কামাল কাদীর, চিফ এক্সটার্নাল অ্যান্ড করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার শেখ মনিরুল ইসলাম, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক খোন্দকার মো. আসাদুজ্জামান প্রমুখ।
