নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে নির্বাচন নিয়ে সংলাপ
“সংলাপের উদ্দেশ্য একটি গণতান্ত্রিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রতিনিধিত্বমূলক নির্বাচন পদ্ধতি নির্মাণে প্রয়োজনীয় সংস্কার নিয়ে আলোচনা করা।”
গণতান্ত্রিক, অন্তর্ভুক্তি ও প্রতিনিধিত্বমূলক নির্বাচন পদ্ধতির জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কারের বিষয়ে সংলাপ অনুষ্ঠান হয়েছে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে।
বিশ্ববিদ্যালয়টির মিলনায়তনে শনিবার ‘সাউথ এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব পলিসি অ্যান্ড গভর্ন্যান্স’ ও ‘প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’ এই সংলাপ করেছে।
নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সাউথ এশিয়ান ইনস্টিটিউট এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, সংলাপ হয়েছে জুলাই বিপ্লবের প্রেক্ষাপটে। সংলাপের উদ্দেশ্য ছিল একটি গণতান্ত্রিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং প্রতিনিধিত্বমূলক নির্বাচন পদ্ধতি নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার নিয়ে আলোচনা করা।
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিক্স স্কুলের ডিন অধ্যাপক এ কে এম ওয়াহিদুল করিম মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
সংলাপে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান বদিউল আলম মজুমদার, “রাজনীতিতে তরুণদের সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। বয়স ও প্রজ্ঞা সবসময় একসাথে আসে না। পিআর পদ্ধতি প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে পারে, তবে প্রতিষ্ঠানের পরিপক্বতা না থাকলে এটি রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে, যেমনটি দেখা গেছে নেপালে।”
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, “গত ১৫ বছরে দেশের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি বিপর্যস্ত হয়েছে এবং ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ হ্রাস পেয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো পুনর্গঠন না করা হলে সবচেয়ে ভালো সংস্কারও ফলপ্রসূ হবে না।”
ন্যাশনালিস্ট ডেমোক্রেটিক মুভমেন্টের চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ বলেন, “অ্যাকাডেমিক তত্ত্ব ও রাজনৈতিক বাস্তবতার মাঝে একটি বড় ব্যবধান রয়েছে। বিদেশি মডেল অন্ধভাবে অনুসরণ না করে নিজস্ব বাস্তবতা থেকে শিক্ষা নেওয়া জরুরি।”
জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক তাসনিম জারা বলেন, “যুব ও নারী প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর জন্য সংস্কার জরুরি। ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ এক ঐতিহাসিক সুযোগ, যা যুবসমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া অর্জন সম্ভব নয়।”
খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মামুনুল হক বলেন, “বর্তমান নির্বাচন ব্যবস্থা একটি দুই দলের খেলা। যেখানে ভোটাররা কেবল দর্শকের ভূমিকা পালন করেন। কেবল প্রকৃত অর্থে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বই এই ভারসাম্যহীনতা দূর করতে পারে এবং বিপ্লোত্তর বাংলাদেশে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে সক্ষম।”
আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির নেতা ফুয়াদ বলেন, “সংসদের নিম্নকক্ষের ক্ষেত্রে যৌথ পিআর পদ্ধতির দরকার। তবে দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদের বিপক্ষে আমার মত। অভিজ্ঞ রাষ্ট্রনায়কদের অভাবে উচ্চকক্ষটি ‘রাজনৈতিক পার্কিং স্পট’ এ পরিণত হতে পারে’।”
সংলাপে অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী, অধ্যাপক হবুবুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক আবদুল্লাহ-আল-মামুন বক্তব্য দেন।
সংলাপের শুরুতে সাউথ এশিয়ান ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক শেখ তৌফিক এম হক বক্তব্য দেন। সঞ্চালনা করেন এনএসইউয়ের অধ্যাপক মো. তৌফিকুল ইসলাম মিথিল। সমাপনী বক্তব্য দেন উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী।
