২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ছাত্রলীগ নেতার পোস্টে ‘রিঅ্যাক্ট’, চবি ছাত্রকে পিটিয়ে পুলিশে দিল ছাত্রশিবির

“আমার সামনে মারধরের ঘটনা ঘটেনি। তবে প্রক্টর কার্যালয়ে আনার আগে কী হয়েছে, জানা নেই,” বলেন প্রক্টর কামরুল হোসেন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 28 Sep 2026, 07:55 PM

Updated : 28 Sep 2026, 07:55 PM

ছাত্রলীগ সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে মারধর করে পুলিশে দিয়েছেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা।

সোমবার বিকাল ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের এএফ রহমান হল থেকে তাকে প্রক্টর কার্যালয়ে নেওয়া হয়; বিকাল ৫টার দিকে নেওয়া হয় হাটহাজারী থানায়।

আটক শিক্ষার্থীর নাম মুনতাছির মারজু। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি এএফ রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী।

হল সংসদের যোগাযোগ ও আবাসনবিষয়ক সম্পাদক এবং হল শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক মো. মাইন উদ্দিন বলেন, সকালে ফেইসবুকে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা আবরার শাহরিয়ারের একটি পোস্টে ‘রিঅ্যাক্ট’ দেন মুনতাছির।

“ওই শিক্ষার্থীর প্রতিক্রিয়া সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তার সঙ্গে কথা বলি এবং ফোন দেখতে চাই। তিনি নিজেই ফোন দেন। সেখানে আবরার শাহরিয়ারের সঙ্গে দীর্ঘদিনের হোয়াটসঅ্যাপ যোগাযোগ ও মেসেঞ্জারে ভোরে পাঠানো একটি বার্তা পাই। বিষয়টি সংবেদনশীল মনে হওয়ায় হলের দায়িত্বশীলদের জানাই। পরে মোনায়েম ভাই এসে তাকে রিকশায় করে প্রক্টর কার্যালয়ে নিয়ে যান।”

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ছিলেন আবরার শাহরিয়ার।

চাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনবিষয়ক সম্পাদক এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের ছাত্র অধিকার সম্পাদক মোনায়েম শরীফ বলেন, “আজ শেখ হাসিনার জন্মদিন। এ উপলক্ষে ছাত্রলীগের কোনো কর্মসূচি থাকতে পারে। এমন আশঙ্কায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গত রাতে ক্যাম্পাসে পাহারা দিয়েছে। এ কারণে গতকাল রাতে আমাদের ক্যাম্পাসে বিচরণের একটি ছবি আমি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করি।

“ওই পোস্টের স্ক্রিনশট নিয়ে আবরার শাহরিয়ার আমাকে পরোক্ষভাবে হুমকি দিয়েছেন। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, হলে আমার সঙ্গে যেকোনো কিছু ঘটতে পারে। এমনকি আমরা যে মোটরসাইকেলে চলাচল করেছি, সেই মোটরসাইকেলের চাবিও তাদের কাছে রয়েছে বলে জানতে পেরেছি।”

তিনি বলেন, “এদিকে আমাদের হলের শিক্ষার্থী মুনতাছির মারজু ওই পোস্টে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল। পাশাপাশি তার শেখ হাসিনাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানোর একটি পোস্টও সামনে আসে। এ নিয়ে হলের শিক্ষার্থীরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরে তার ফোন নিয়ে দেখা যায়, আবরার শাহরিয়ারের সঙ্গে তার বিস্তারিত কথোপকথন রয়েছে।

“বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি থাকবে, তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হোক। নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে প্রচলিত আইনে যে শাস্তি প্রযোজ্য, তা নিশ্চিত করতে হবে। তাকে হল থেকেও তাৎক্ষণিক বহিষ্কার করতে হবে। তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যদের বিরুদ্ধেও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।”

ঘটনার সময় উপস্থিত রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী শাহিন আহমেদ বলেন, “মুনতাছির প্রথমে ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করে। আমরা তার সঙ্গে কোনো খারাপ আচরণ করিনি। শুধু জানতে চেয়েছিলাম, আমাদের বিভাগ ও হলে ছাত্রলীগের সঙ্গে আর কারা সম্পৃক্ত আছে।

“কিছুক্ষণ পর মোনায়েম শরীফ ভাই এসে তাকে প্রক্টর অফিসে নিতে চাইলে আমরা আগে ভালোভাবে জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলি। কিন্তু তিনি তাৎক্ষণিকভাবে তাকে নিয়ে প্রক্টর অফিসের দিকে চলে যান। এ সময় পেছন থেকে দুই-একজন তাকে চড়-থাপ্পড় মেরেছে।”

ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মুনতাছির মারজু।

তিনি বলেন, “ছাত্রলীগের কোনো কমিটিতে আমার নাম নেই এবং আমি কখনো ছাত্রলীগ করিনি। আবরার শাহরিয়ারের সঙ্গে জুলাইয়ের আগে থেকে আমার যোগাযোগ ছিল। বিভিন্ন অনুষ্ঠান সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়ার জন্য আমার সঙ্গে কথা হতো।

“ক্যাম্পাসে বিভিন্ন রাজনৈতিক মতের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমার যোগাযোগ ছিল। কোনো রাজনৈতিক মিছিল-মিটিংয়ে আমি অংশ নিইনি।”

মুনতাছির অভিযোগ করেন, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে কয়েকজন তাকে মারধর করেন। তার পিঠে মারা হয়েছে এবং দুই-তিনটি থাপ্পড় দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কামরুল হোসেন বলেন, “শিক্ষার্থীরা মুনতাছিরকে আটক করে তার ফোন চেক করেন এবং পরে বিভিন্ন কথোপকথনের বিষয়টি প্রশাসনকে জানান। প্রশাসনও বিষয়টি দেখেছে। যেহেতু বিষয়টি ফৌজদারি ও আইনগত, তাই পুলিশকে জানানো হয়েছে। পুলিশ তাঁকে আইনগত কার্যক্রমের জন্য নিয়ে গেছে। মামলা হবে কি না বা বিশ্ববিদ্যালয় বাদী হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।”

মুনতাছিরকে মারধরের বিষয়ে প্রক্টর বলেন, “আমার সামনে শিক্ষার্থীর গায়ে হাত তোলার কোনো ঘটনা ঘটেনি। তবে প্রক্টর কার্যালয়ে আনার আগে বাইরে কী হয়েছে, তা আমার জানা নেই।”

হাটহাজারী থানার ওসি মো. জাহিদুর রহমান সন্ধ্যায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “কিছুক্ষণ আগে ওই শিক্ষার্থীকে আনা হয়েছে। সে এখন হাজতে আছে। আমরা বিষয়টি পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেব। এখনও কোনো মামলা হয়নি।”