জাতীয় নিরাপত্তা এখন নির্ভরশীল ‘তিন ভিত্তির উপর’: প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা
“আগে জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্বটা মূলত সশস্ত্র বাহিনীর ছিল। তবে বর্তমানে এর পরিধি অনেক বেড়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা এখন তিনটি মূল ভিত্তির ওপর নির্ভরশীল।”
জাতীয় নিরাপত্তার দায়িত্ব আগে শুধু সশস্ত্র বাহিনীর ওপর থাকলেও এখন সেটার পরিধি অনেক বেড়ে যাওয়ার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম শামছুল ইসলাম।
সোমবার ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সামনে ‘ইয়ুথ অ্যান্ড ন্যাশনাল সিকিউরিটি: শেপিং দ্য ফিউচার অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক বক্তৃতায় এ কথা বলেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী পদপর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, “আগে জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্বটা মূলত সশস্ত্র বাহিনীর ছিল। তবে বর্তমানে এর পরিধি অনেক বেড়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা এখন তিনটি মূল ভিত্তির ওপর নির্ভরশীল।”
সেই তিন ভিত্তি কী, তা ব্যাখ্যা করে অবসরপ্রাপ্ত এই সেনা কর্মকর্তা বলেন, “প্রথম ভিত্তিটা হল সশস্ত্র বাহিনী ও তাদের সম্পদ। এর মধ্যে রয়েছে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য ও সরঞ্জাম এবং প্রতিরক্ষার প্রস্তুতি।
“দ্বিতীয় ভিত্তি হল জনগণের ইচ্ছাশক্তি, প্রতিকূলতা মোকাবেলার সক্ষমতা ও সামাজিক সংহতি। এবং তৃতীয়টি হল অর্থনীতি, কূটনীতি ও তথ্যের পাশাপাশি সাইবার ক্ষেত্র, রাজনীতি, ভৌগলিক অবস্থান ও জাতীয় চেতনা।”
তরুণ প্রজন্মকে এ তিন শক্তির কেন্দ্রে থাকার কথা তুলে ধরে শামছুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের মত একটি দেশের জাতীয় প্রতিরক্ষার জন্য তিনটি সম্ভাব্য কৌশল রয়েছে। এগুলো হলো প্রচলিত সামরিক সক্ষমতায় সমতা অর্জন, কৌশলগত জোট গঠন এবং বিশ্বাসযোগ্য প্রতিরোধক্ষমতা গড়ে তোলা।
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ বক্তৃতা আয়োজনের নানা দিক তুলে ধরা হয়। এতে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার বক্তৃতার প্রসঙ্গ টেনে অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের ইতিহাসে তরুণদের অবদানের কথা তুলে ধরেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির বিজনেস স্কুলের ডিন অধ্যাপক মোহাম্মদ মুজিবুল হক।
পাশাপাশি জ্ঞান, দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়ানো এবং সবকিছুর ঊর্ধ্বে সততা ও নৈতিকতা বজায় রাখার বিষয়ে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার সুপারিশের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
এর আগে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ‘স্কিলস ফর ইন্ডাস্ট্রি কম্পিটেটিভনেস অ্যান্ড ইনোভেশনস প্রোগ্রাম (এসআইসিআইপি) - ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি ক্যারিয়ার ফেয়ার ২০২৬’ এর উদ্বোধন করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশের শিল্প খাতে দক্ষতা ও উদ্ভাবনের পরিবেশ উন্নত করার লক্ষ্যে গত বছর একটি সমঝোতা স্মারক সই করেছে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি ও এসআইসিআইপি।
“এই সমঝোতার আওতায় উন্নত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। এর মাধ্যমে শিল্প খাতে দক্ষতা বাড়ানো এবং উদ্ভাবনের পরিবেশ তৈরিতে কাজ করা হবে।”
এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের মাধ্যমে ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) এবং ফার্মাসিউটিক্যালস খাতে মোট এক হাজার ৬১৫ জন পেশাজীবী ও স্নাতককে উন্নত কারিগরি ও পেশাগত দক্ষতায় প্রশিক্ষিত করা হবে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের মাধ্যমে এসআইসিআইপি বাস্তবায়ন করছে, যার লক্ষ্য প্রযুক্তি গ্রহণ ও উদ্ভাবনের জন্য দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করা।
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সহায়তায় পরিচালিত প্রকল্পটি ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৯ সালের জুন পর্যন্ত চলবে। এটির মোট ব্যয় ৩৭৫ মিলিয়ন ডলার। এর মাধ্যমে ২ লাখ ২০ হাজার জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সৈয়দ ফারহাত আনোয়ার, কোষাধ্যক্ষ আরিফুল ইসলাম, রেজিস্ট্রার ডেভিড ডাউল্যান্ড, অফিস অব কমিউনিকেশন্সের পরিচালক খায়রুল বাশার, স্টুডেন্ট লাইফের প্রধান তাহসিনা রহমান, ব্র্যাক বিজনেস স্কুলের সহকারী অধ্যাপক আফসানা আখতার ও কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক অমিতাভ চক্রবর্তী উপস্থিত ছিলেন।
