২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৮ কার্তিক ১৪৩৩

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়৯টিতে নেই উপাচার্য, অনুমোদনহীন ৮ জন

বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ড এবং মালিকরা তাদের পছন্দের ব্যক্তিকে ভারপ্রাপ্ত উপাচার্যের দায়িত্ব দিয়ে কাজ চালিয়ে নিচ্ছেন। শহীদুল ইসলামের প্রতিবেদন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 26 Sep 2012, 04:12 PM

Updated : 24 Aug 2022, 12:12 PM

শহীদুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম ঢাকা, সেপ্টেম্বর ২৬ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- দেশের ৫২টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়টিতে নেই উপাচার্য। এ ছাড়া আটটি চলছে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনহীন উপাচার্য দিয়ে। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ড এবং মালিকরা তাদের পছন্দের ব্যক্তিকে ভারপ্রাপ্ত উপাচার্যের দায়িত্ব দিয়ে কাজ চালিয়ে নিচ্ছেন। এ ছাড়া কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে মালিকনা দ্বন্দ্ব এবং ট্রাস্টি বোর্ডের মধ্যে মতভেদ থাকায় উপাচার্যের পদ শূন্য রয়েছে। অন্যদিকে উপাচার্য নিয়োগের জন্য কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ের ‘বিবেচনাধীন’ আছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ড প্রস্তাবিত ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক চার বছরের জন্য উপাচার্য নিয়োগ দেয়ার বিধান রয়েছে। এ অবস্থায় উপাচার্যবিহীন এবং ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য দিয়ে চলা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারছে না বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। কমিশনের সদস্য (বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়) অধ্যাপক আতফুল হাই শিবলী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “কোন কোন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপচার্যের পদ শূন্য রয়েছে তা জানাতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। সবগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা পাওয়ার পর সরকারকে এ বিষয়ে জানানো হবে।” উপাচার্যবিহীন বা ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য দিয়ে যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হবে কি না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, “উপাচার্য নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি। এ বিষয়ে ইউজিসির কিছু করার নেই।” বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ‘কিছু’ সমস্যা রয়েছে স্বীকার করে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, “আমরা এ অবস্থা থেকে উত্তোরণের চেষ্টা করছি।” উপাচার্যবিহীন এবং ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য দিয়ে যেসব বিশ্ববিদ্যালয় কার্যক্রম চালাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হবে কি না জানতে চাইলে মন্ত্রী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এসব বিষয়ে আমরা অবশ্যই তাদেরকে চাপ দেব।” আইন মেনে চলার জন্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে বলেও জানান শিক্ষামন্ত্রী। উপাচার্যবিহীন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব উত্তম কুমার ম-ল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে উপাচার্যবিহীন এবং ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য দিয়ে পরিচালিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালগুলোর তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, মালিকানা দ্বন্দ্ব, ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যদের মধ্যে মতভেদ ও মামলা সংক্রান্ত কারণে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের পদ শূন্য রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, ট্রাস্টি বোর্ডের বিরোধের কারণে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর হাফিজ জি এ সিদ্দিকী গত ১১ জুলাই পদত্যাগ করলে স¤প্রতি এক জনকে ভারপ্রান্ত উপাচার্য করা হয়। সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটি, আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি, রয়্যাল ইউনিভার্সিটি এবং বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির উপাচার্যের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। মালিকানা দ্বান্দ্বে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ’র উপাচার্য আবুল হাসান মুহাম্মদ সাদেককে তার ভাই হারুন মিয়া অপসারণ করলে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদ শূন্য রয়েছে। ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক নুরুল মোমেনের মেয়াদ শেষ হলে বিশ্ববিদ্যালয়টির পক্ষ থেকে তাকে পুণরায় নিয়োগের প্রস্তাব দিলেও এখনো তা চূড়ান্ত হয়নি। ফলে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের পদ শূন্য রয়েছে। সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ড গঠন না হওয়ায় ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোনীত উপাচার্যকে বৈধতা দেয়া হয়নি। ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভের (ইউডা) উপাচার্য প্রফেসর এমাজ উদ্দীন আহমেদের চুক্তিভিত্তিক মেয়াদ সাড়ে তিন বছর আগে শেষ হলেও নতুন করে কাউকে উপাচার্য হিসাবে নিয়োগ দেয়া হয়নি। ইবাইস ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর খন্দকার রেজাউর রহমান গত বছরের শেষ দিকে মারা যাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়টির মালিকানা নিয়ে বিরোধ শুরু হয়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়টিতে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেয়া হয়নি। মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর আব্দুল আজিজের চার বছরের মেয়াদ অনেক আগে শেষ হয়েছে। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ‘স্বচ্ছ’ প্রক্রিয়ায় উপাচার্য নিয়োগ না দেয়ায় উপাচার্যকে অনুমোদন দেয়নি শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি ‘অবৈধভাবে’ পরিচালিত হচ্ছে দাবি করে প্রতিষ্ঠার পর থেকে নয় বছর ধরে উপাচার্য অনুমোদন দেয়নি মন্ত্রণালয়। স¤প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ উপাচার্য নিয়োগের প্রস্তাব পাঠিয়েছে। অতীশ দীপংকর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর আনোয়ারা বেগমের মেয়াদ গত বছর শেষ হলে একজনকে ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য করা হয়। সাউথ এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মারা যাওয়ার পর আরেকজনকে ভারপ্রাপ্ত হিসাবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে প্রাইম ইউনিভার্সিটির মালিকদের মধ্যে দ্বন্দ্ব থাকায় এই বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি শাখার কোনোটির উপাচার্যকেই অনুমোদন দেয়া হয়নি। তবে স¤প্রতি হাই কোর্ট এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তরা ক্যাম্পাসকে বৈধ ঘোষণা করে রায় দিয়েছে। একাধিক অবৈধ শাখা খুলে দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়ে জটিলতা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে গঠন করা হয়েছে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন। নতুন ৮টির ৬টিতে নেই উপাচার্য গত ১৩ মার্চ অনুমোদন পাওয়া নতুন আটটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ এবং ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজি’র উপাচার্য নিয়োগ দেয়া হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয় এবং রাজশাহীর বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগের বিষয়টি প্রস্তাবিত রয়েছে বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তার জানান। এ ছাড়া সিলেটের নর্থইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়, চুয়াডাঙ্গায় ফার্স্ট ক্যাপিটাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, চট্টগ্রামের ঈশাখাঁ বিশ্ববিদ্যালয় এবং শরীয়তপুরে জেড এইচ সিকদার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো উপাচার্য নিয়োগ দেয়া হয়নি। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এসআই/এএল/২২১৩ ঘ.