০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩

১২ কেজি এলপিজির দাম বাড়ল ২৫২ টাকা

অটোগ্যাসের দাম বেড়েছে লিটারে ১১ টাকা ৫৩ পয়সা।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 04 Oct 2026, 06:54 PM

Updated : 04 Oct 2026, 07:16 PM

সরবরাহ সংকট চলার মধ্যেই অক্টোবর মাসের জন্য রান্নার কাজে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস-এলপিজির দাম বাড়াল সরকার।

১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারে একবারে ২৫২ টাকা বাড়িয়ে রোববার বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন-বিইআরসি নতুন দাম নির্ধারণ করেছে।

নতুন দর অনুযায়ী, চলতি মাসে ১২ কেজির সিলিন্ডার বিক্রি হবে ১ হাজার ৮৩৭ টাকায়, যা সেপ্টেম্বরে ছিল ১ হাজার ৫৮৫ টাকা।

যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দামও বড় অঙ্কে বেড়েছে। প্রতি লিটারের দাম ৭৩ টাকা ৯ পয়সা থেকে ১১ টাকা ৫৩ পয়সা বাড়িয়ে ৮৪ টাকা ৬২ পয়সা নির্ধারণ করেছে বিইআরসি।

নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নতুন দর রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হবে। পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ দর বহাল থাকবে।

অক্টোবরের জন্য বেসরকারি এলপিজির দাম খুচরা পর্যায়ে ভ্যাটসহ প্রতি কেজি ১৫৩ টাকা ৬ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা সেপ্টেম্বরে ছিল ১৩২ টাকা ১২ পয়সা। সে হিসাবে প্রতি কেজিতে দাম বেড়েছে ২০ টাকা ৯৪ পয়সা।

অক্টোবরের সমন্বয়ে ৫ দশমিক ৫ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৮৪২ টাকা, ১২ দশমিক ৫ কেজির সিলিন্ডার ১ হাজার ৯১৩ টাকা, ১৫ কেজির সিলিন্ডার ২ হাজার ২৯৬ টাকা এবং ১৬ কেজির সিলিন্ডার ২ হাজার ৪৪৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ১৮ কেজির সিলিন্ডারের দাম ২ হাজার ৭৫৫ টাকা, ২০ কেজির সিলিন্ডার ৩ হাজার ৬১ টাকা, ২২ কেজির সিলিন্ডার ৩ হাজার ৩৬৭ টাকা, ২৫ কেজির সিলিন্ডার ৩ হাজার ৮২৭ টাকা এবং ৩০ কেজির সিলিন্ডার ৪ হাজার ৫৯২ টাকা করা হয়েছে।

৩৩ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৫ হাজার ৫১ টাকা, ৩৫ কেজির সিলিন্ডার ৫ হাজার ৩৫৭ টাকা এবং ৪৫ কেজির সিলিন্ডার ৬ হাজার ৮৮৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

রেটিকুলেটেড পদ্ধতিতে তরল অবস্থায় সরবরাহ করা বেসরকারি এলপিজির ভ্যাটসহ দাম প্রতি কেজি ১৪৯ টাকা ৩১ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেপ্টেম্বরে তা ছিল ১২৮ টাকা ৩৭ পয়সা।

একই পদ্ধতিতে গ্যাসীয় অবস্থায় সরবরাহ করা এলপিজির দাম প্রতি লিটার শূন্য দশমিক ৩৩১৯ টাকা বা প্রতি ঘনমিটার ৩৩১ টাকা ৯০ পয়সা করা হয়েছে।

বিইআরসির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সৌদি আরামকোর অক্টোবর মাসের প্রোপেন ও বিউটেনের সৌদি কনট্রাক্ট প্রাইস বা সৌদি সিপি অনুযায়ী নতুন দাম সমন্বয় করা হয়েছে।

অক্টোবরে প্রোপেনের সৌদি সিপি প্রতি মেট্রিক টন ৬৮০ ডলার এবং বিউটেনের ৭৩০ ডলার। দাম সমন্বয়ের ক্ষেত্রে প্রোপেন ও বিউটেনের অনুপাত ৩৫:৬৫ ধরে গড় সৌদি সিপি প্রতি মেট্রিক টন ৭১২ দশমিক ৫০ ডলার বিবেচনায় নিয়েছে বিইআরসি।

সেপ্টেম্বরে প্রোপেনের সৌদি সিপি ছিল প্রতি মেট্রিক টন ৬২৫ ডলার এবং বিউটেনের ৬৬০ ডলার। ওই মাসে গড় সৌদি সিপি ছিল প্রতি মেট্রিক টন ৬৪৭ দশমিক ৭৫ ডলার। সে হিসাবে এক মাসে গড় সৌদি সিপি প্রতি মেট্রিক টনে ৬৪ দশমিক ৭৫ ডলার বেড়েছে।

অক্টোবরের মূল্য সমন্বয়ে এলপিজি আমদানিতে জাহাজভাড়া ও ব্যবসায়ির প্রিমিয়াম প্রতি মেট্রিক টন ২৫০ ডলার বিবেচনায় নিয়েছে বিইআরসি।

সেপ্টেম্বরে এ খাতে ধরা হয়েছিল প্রতি মেট্রিক টন ১৬০ ডলার। সে হিসাবে এক মাসের ব্যবধানে এলপিজির দাম হিসাবের ক্ষেত্রে জাহাজভাড়া ও ব্যবসায়ির প্রিমিয়াম প্রতি মেট্রিক টনে ৯০ ডলার বেড়েছে।

অক্টোবরের দাম নির্ধারণে প্রতি ডলারের গড় বিনিময় মূল্য ১২৩ টাকা ১৮ পয়সা ধরা হয়েছে। সেপ্টেম্বরে তা ছিল ১২৩ টাকা ৩০ পয়সা।

সরকারি এলপিজির দাম এবারও অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। ১২ দশমিক ৫০ কেজির সরকারি এলপিজি সিলিন্ডারের ভোক্তা পর্যায়ের দাম ৭৭৬ টাকা ৯৩ পয়সা বহাল থাকবে।

এর আগে সেপ্টেম্বরে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১৩ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা করেছিল বিইআরসি।

অগাস্টে এ সিলিন্ডারের দাম ৭০ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৫৯৮ টাকা করা হয়েছিল।

তার আগে জুলাইয়ে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম এক ধাক্কায় ৩৫৭ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৫২৮ টাকা করা হয়েছিল।

জুনে ৫৫ টাকা কমিয়ে দাম করা হয়েছিল ১ হাজার ৮৮৫ টাকা। এর আগে ১৯ এপ্রিল ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ২১২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৯৪০ টাকা করা হয়েছিল।

তারও আগে ২ এপ্রিল ৩৮৭ টাকা বাড়িয়ে দাম করা হয়েছিল ১ হাজার ৭২৮ টাকা।

সে হিসাবে এপ্রিলে দুই দফায় ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৫৯৯ টাকা বেড়েছিল। এরপর জুন ও জুলাইয়ে দুই দফায় মোট ৪১২ টাকা কমে। অগাস্টে ৭০ টাকা বাড়ার পর সেপ্টেম্বরে ১৩ টাকা কমেছিল। অক্টোবরে আবার ২৫২ টাকা বাড়ল।

বিইআরসি বলেছে, এলপিজি মজুত ও বোতলজাতকরণ, পরিবেশক এবং খুচরা বিক্রেতাসহ কোনো পর্যায়েই কমিশন নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বোতলজাত এলপিজি, রেটিকুলেটেড এলপিজি বা অটোগ্যাস বিক্রি করা যাবে না।

তবে রান্নার কাজে ব্যবহৃত ১২ কেজির সিলিন্ডার সরকার নির্ধারিত দরের চেয়ে বেশি দামে গ্রাহকদের কিনতে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।