০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

রিটেইল ব্যাংকিং বিক্রির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের

সম্ভাব্য হস্তান্তরে আনুমানিক ১৮ থেকে ২৪ মাস সময় লাগতে পারে বলে মনে করছে বহুজাতিক ব্যাংকটি।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 08 Oct 2026, 07:40 PM

Updated : 08 Oct 2026, 08:11 PM

বাংলাদেশে রিটেইল ব্যাংকিং ব্যবসা বিক্রি নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার মধ্যে এবার এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে বহুজাতিক ব্যাংক স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক (এসসিবি)।

লেনদেন প্রক্রিয়া এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন সাপেক্ষে বিক্রির এ প্রক্রিয়া শেষ হতে আনুমানিক ১৮ থেকে ২৪ মাস সময় লাগতে পারে বলে ব্যাংকটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় বলা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, রিটেইল ব্যাংকিং বিক্রি করা হলেও বাংলাদেশে করপোরেট ও ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

বিজ্ঞপ্তি দিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার পাশাপাশি যুক্তরাজ্যভিত্তিক ব্যাংকটি এ বিষয়ে গ্রাহকদেরও আলাদা চিঠি দিয়েছে। এতে গ্রাহকদের আমানত ও সেবা আগের মতোই নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যে চলার কথা বলা হয়েছে।

স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ওয়েলথ অ্যান্ড রিটেইল ব্যাংকিং বিভাগের প্রধান লুৎফুল হাবিব প্রত্যেক গ্রাহককে এ চিঠি পাঠিয়ে বলেছেন, সময়ে সময়ে ব্যবসা বিক্রির বিষয়টি গ্রাহকদের অবহিত করা হবে।

গ্রাহকদের দেওয়া চিঠিতেও বলা হয়েছে, ব্যবসা বিক্রির এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে ১৮ থেকে ২৪ মাস সময় লাগতে পারে। গ্রাহকদের সেবা পেতে যেন কোনো ধরনের অসুবিধা না ঘটে, এ জন্য প্রধান অংশীজনদের সঙ্গে এই প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড।

দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে করপোরেট ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাংকিংয়ের পাশাপাশি রিটেইল ব্যাংকিং ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে।

সম্প্রতি ব্যাংকটি বাংলাদেশের রিটেইল ব্যবসা বিক্রি করে দিচ্ছে বলে খবরে এসেছে। বাংলাদেশের কয়েকটি বেসরকারি ব্যাংক এ ব্যবসা কিনতে আগ্রহও প্রকাশ করেছে। এ নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হওয়ার কথাও ব্যাংকগুলোর তরফে বলা হয়েছে।

তবে এতদিন এসসিবি এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।

এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ব্যাংকটি বাংলাদেশে রিটেইল ব্যাংকিং ব্যবসা বিক্রির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়।

‘বাংলাদেশে ওয়েলথ ও রিটেইল ব্যাংকিং ব্যবসা বিক্রির সম্ভাবনা যাচাই করছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড’ শীর্ষক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে নিজেদের ‘ওয়েলথ অ্যান্ড রিটেইল ব্যাংকিং’ (ডব্লিউআরবি) ব্যবসা বিক্রির সম্ভাবনা যাচাই করছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড। গ্রাহক ও ব্যবসায়িক খাতের যেসব অংশে ব্যাংকটির বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক, অভিজ্ঞতা ও বিশেষায়িত সেবাদানের সক্ষমতা সবচেয়ে বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, সেসব ক্ষেত্রে কৌশলগত মনোযোগ আরও বাড়ানোর অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

“বাংলাদেশে ১২০ বছরের বেশি সময় ধরে কার্যক্রম পরিচালনা করছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড।”

ব্যাংকটি জানিয়েছে, সম্ভাব্য বিক্রয় প্রক্রিয়ার ঘোষণার কারণে ওয়েলথ অ্যান্ড রিটেইল ব্যাংকিংয়ের গ্রাহক ও কর্মীদের ওপর তাৎক্ষণিক কোনো প্রভাব পড়বে না। সম্ভাব্য হস্তান্তর সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের ২০২৫ সালের পূর্ণাঙ্গ আর্থিক ফলাফল প্রকাশ এবং ২০২৬ সালের মে মাসে অনুষ্ঠিত শেয়ারহোল্ডার সম্মেলনে ঘোষিত কৌশলগত অগ্রাধিকারের ধারাবাহিকতায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক লেনদেন ও ক্রসবর্ডার কার্যক্রমে সম্পৃক্ত গ্রাহকদের সেবায় আরও বেশি মনোযোগ দেওয়াও এই কৌশলের অন্যতম লক্ষ্য।

“তবে সম্ভাব্য বিক্রয় চূড়ান্ত করতে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন প্রয়োজন হবে।”

বিজ্ঞপ্তিতে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হক বলেন, “বাংলাদেশে আমাদের ব্যবসায়িক অগ্রাধিকার আরও সুস্পষ্ট করছি, যাতে যেসব ক্ষেত্রে আমাদের বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক ও আন্তর্জাতিক সক্ষমতা সবচেয়ে বেশি অবদান রাখতে পারে, সেসব খাতে আরও বেশি মনোযোগ দেওয়া যায়। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, ক্রসবর্ডার মূলধন প্রবাহ এবং অবকাঠামো অর্থায়নের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।”

তিনি বলেন, “বাংলাদেশ আমাদের বৈশ্বিক নেটওয়ার্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখার বিষয়ে আমাদের অঙ্গীকার আগের মতোই দৃঢ়।”

সম্ভাব্য হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, লেনদেন প্রক্রিয়া এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন সাপেক্ষে ওয়েলথ অ্যান্ড রিটেইল ব্যাংকিং ব্যবসার সম্ভাব্য হস্তান্তরে আনুমানিক ১৮ থেকে ২৪ মাস সময় লাগতে পারে। এ সময়ে গ্রাহকসেবার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা ব্যাংকের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রম চলবে এবং গ্রাহকদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে হস্তান্তর প্রক্রিয়াটি যতটা সম্ভব নির্বিঘ্ন রাখার চেষ্টা করা হবে।

একই সঙ্গে প্রক্রিয়ায় প্রভাবিত হতে পারেন এমন সহকর্মীদের সঙ্গে ন্যায্যতা, স্বচ্ছতা ও পেশাদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করার প্রতিশ্রুতিও ব্যক্ত করেন এনামুল হক।

স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের খুচরা ব্যবসা কিনতে এখন পর্যন্ত দেশের ছয়টি ব্যাংক আগ্রহী বলে সংবাদমাধ্যমে খবর এসেছে। ব্যাংকগুলো হচ্ছে–ব্র্যাক, সিটি, পূবালী, মিউচুয়াল ট্রাস্ট, ঢাকা ও ডাচ্–বাংলা ব্যাংক।

গ্রাহকদের নিশ্চয়তা দিয়ে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, “নিশ্চিত থাকুন যে এই রূপান্তরকালীন পুরো সময় আমরা একই যত্ন ও অঙ্গীকার নিয়ে আপনাকে সেবা প্রদান করে যাব। আপনাদের আমানত ও বিনিয়োগ সম্পূর্ণ নিরাপদ রয়েছে এবং আপনি স্বাভাবিকভাবেই আপনার নিয়মিত ব্যাংকিং লেনদেন পরিচালনা করতে পারবেন।

“আপনার যাতে কোনো ধরনের ব্যাঘাত বা অসুবিধা না ঘটে, সে জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট প্রধান অংশীজনদের সঙ্গে নিয়ে এই প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই রূপান্তর চলাকালীন যেকোনো প্রাসঙ্গিক অগ্রগতির বিষয়ে আমরা আপনাকে নিয়মিত অবহিত করব।”

আরও পড়ুন

পুরানো খবর:

স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের রিটেইল ব্যবসা কেনার দৌড়ে পূবালী ব্যাংকও