০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

পণ্যমূল্য নির্ধারণে আমদানিকারকদের ‘হেজিং’ সুবিধা দিতে পারবে ব্যাংক

শর্ত দেওয়া হয়েছে মূল্য নির্ধারণের ‘হেজিং’ সুবিধা পেতে ‘কমোডেটি এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে’ পণ্য কিনতে হবে আমদানিকারকদের।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 15 Sep 2026, 12:31 AM

Updated : 17 Sep 2026, 03:00 AM

আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দামের ওঠানামার ঝুঁকি কমাতে আমদানিকারকদের জন্য ‘কমোডিটি প্রাইস রিস্ক হেজিং’ সুবিধা চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এর মাধ্যমে বিদেশ থেকে পণ্য আমদানির বেলায় আগাম ক্রয় চুক্তিতে মূল্য নির্ধারণে ‘হেজিং’ সুবিধা দিতে পারবে ব্যাংক।

বর্তমানে ‘হেজিং’ সুবিধা পেতে আমদানিকারকদের বাংলাদেশ ব্যাংকের আগাম অনুমোদন নিতে হয়। নতুন সিদ্ধান্তে নির্ধারিত শর্তে অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকের মাধ্যমে এ ধরনের লেনদেনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, সর্বোচ্চ এক বছরের মেয়াদের জন্য এই সুবিধা দিতে পারবে যেকোন তফসিলি ব্যাংক।

এক্ষেত্রে প্রকৃত আমদানিকারকরা এ সুবিধা পাবেন বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে শর্ত দেওয়া হয়েছে মূল্য নির্ধারণের ‘হেজিং’ সুবিধা পেতে ‘কমোডেটি এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে’ পণ্য কিনতে হবে আমদানিকারকদের।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, পণ্যমূল্য নির্ধারণে ঝুঁকি মোকাবেলা করতে আমদানিকারকদের সুবিধা দিতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

‘হেজিং’ হচ্ছে কোনো পণ্যর মূল্য র্নিধারণ করে আগাম ক্রয় চুক্তি। যেসব পণ্যর দর ঘনঘন ওঠানামা করে ভবিষ্যতে তা ক্রয়ে কমোডিটি এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে একটি সম্ভ্যাব্য দর ঠিক করে আগাম চুক্তি করার নামেই হেজিং সুবিধা।

এই মূল্য নির্ধারণের পর পণ্যের দাম বাড়ুক বা কমে যাক, র্নিধারিত দরেই কিনতে হয় ক্রেতাকে। পণ্যমূল্য নির্ধারণে এখন থেকে আমদানিকারকদের সহযোগিতা করবে ব্যাংক।

শিল্পের মধ্যবর্তী পণ্য ও কাঁচামাল, জ্বালানি, অপরিশোধিত ও অপরিশোধিত ভোজ্যতেল, শস্য, সার, ধাতব জাতীয় পণ্য এবং গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক পণ্যের মূল্য নির্ধারণে ‘হেজিং’ সুবিধা দিতে পারবে ব্যাংক।

নতুন ব্যবস্থায় ব্যাংকগুলো আমদানিকারকদের পণ্যের মূল্য ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন সুবিধা দিতে পারবে। এর মাধ্যমে আমদানিকারকরা আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দামের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি থেকে নিজেদের সুরক্ষার ব্যবস্থা নিতে পারবেন এবং ব্যবসায়িক ব্যয় পরিকল্পনা আরও সহজ হবে।

নীতিমালা মেনে আমদানি দায়ের বিপরীতে আমদানিকারকরা ‘কমোডিটি ফিউচার, সোয়াপ, কমোডিটি সূচকভিত্তিক ফরোয়ার্ড’ চুক্তি ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রচলিত বিভিন্ন ‘হেজিং’ পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারবেন।

আমদানিকারকরা তাদের প্রকৃত আমদানি ঝুঁকির সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত হেজিং করতে পারবেন, তবে এজন্য প্রয়োজনীয় নথীপত্র ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নীতিমালা অনুসরন করতে বলেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

হেজিং সুবিধা দেয়ার পরে ব্যাংকগুলোকে সময়ে সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রতিবেদন পাঠাতে হবে ।