০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

কিছু ব্যাংকের বাঁচার সম্ভাবনা ‘ক্ষীণ’, ডিজিটাল ব্যাংক এখনই নয়: গভর্নর

কয়েকটি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ প্রায় ৮৭ শতাংশ, যার পুরো দায় ‘একটি পরিবারের’।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 04 Mar 2025, 04:22 PM

Updated : 26 Aug 2026, 11:54 AM

দেশের কিছু ব্যাংকের বেঁচে থাকার ‘ক্ষীণ সম্ভাবনা’ দেখছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর।

এমন আশঙ্কার ব্যাখ্যায় তিনি বলছেন, কয়েকটি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ প্রায় ৮৭ শতাংশ, যার পুরো দায় ‘একটি পরিবারের’।

ব্যাংক খাতের বর্তমান প্রেক্ষাপটে এখনই ডিজিটাল ব্যাংকের অনুমোদন না দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।

মঙ্গলবার মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “সুসাশনের মাধ্যমে ব্যাংকগুলোর পুনর্বাসন সম্ভব কি না, সেটা দেখতে হবে। সব ব্যাংক যে বেঁচে যাবে তা নয়, এটাও সত্যি কথা।

“কিছু কিছু ব্যাংকের বাঁচার সম্ভবনা ক্ষীণ। প্রচেষ্টার পরেও হয়ত হবে না। কারণ কয়েকটি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৮৭ শতাংশ হয়ে গেছে। এটার জন্য পুরোপুরি একটি পরিবার দায়ী।” 

‘রিকমেন্ডেশন বাই দ্যা টাস্ক ফোর্স অন রি-স্ট্রাটেজিং দ্যা ইকোনমি’ শিরোনামে সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) এ অনুষ্ঠান আয়োজন করে।  

গভর্নর মনে করেন, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ ও ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের অবস্থা আগের চেয়ে ভালো। কারণ তাদের তারল্য সহায়তা লাগছে না।

“শুধুমাত্র এ দুই ব্যাংকের অর্ধেকের বেশি সমস্যা সমাধান করলে ব্যাংকিং খাতের সমস্যা দূর করা যাবে।” 

তিনি বলেন, “তাই এসব ব্যাংকের ওপর থেকে বিধিনিষেধ উঠিয়ে নেওয়া হবে। এসব ব্যাংকের নতুন ঋণ দেওয়া ও অন্যান্য বিধিনিষেধ সামনে উঠিয়ে নেওয়া হবে।” 

আহসান মনসুর বলেন, সমস্যা জর্জরিত ব্যাংকের বিষয়ে ব্যাংকের বোর্ড, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকার একত্রে সিদ্ধান্ত নেবে। আগামী দুই মাসের মধ্যে এসব ব্যাংকের অ্যাসেট কোয়ালিটি রিভিউ নিয়ে সিদ্ধান্তে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।”   

তিনি বলেন, ব্যাংক আমানতের বীমা দ্বিগুণ করা হয়েছে। এক লাখ টাকা থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত করা হয়েছে।  

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন নিয়ে কাজ করার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংককে সাহস নিয়ে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। এফআইডি বাংলাদেশ ব্যাংকের ওপর কোনো হস্তক্ষেপ করবে না। 

“ব্যাংকের সংস্কার তো চলছে। কীভাবে সমাধান করা যায়, সে বিষয়ে আন্তর্জাতিক সহায়তা নেওয়া হয়েছে। তাই এ বিষয়ে কাজ শেষ করতে সময় লাগবে।” 

গভর্নর বলেন, “ডিজিটাল ব্যাংকের অনুমোদন এখনই দেওয়ার চিন্তা করছি না। মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসকে (এমএফএস) শক্তিশালী করার জন্য কাজ করা হচ্ছে। এমএফএস আমাদের অনেক দূর এগিয়ে নিয়েছে। 

“যত বেশি স্বচ্ছতা আনা যাবে, তত ভালো। বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেটা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। ব্যালেন্স অব পেমেন্টের তথ্য দিতে ৩ মাসের মত সময় লাগে। তাই এটা চেষ্টা করা হচ্ছে আরও আগে কীভাবে দেওয়া যায়।” 

তিনি বলেন, “ব্যাংকগুলোকে টাকা ছাপিয়ে দিতে হয়েছে। তবে এ টাকা আমানতকারীদের দেওয়া হয়েছে। আমি মনে করি, অগ্রিম হিসেবে দেওয়া হয়েছে; এতে সমস্যা হবে না।” 

ঋণের সুদহার কমার তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, ট্রেজারি বিল-বন্ডের সুদহার এক মাস আগেও ছিল সাড়ে ১২ শতাংশ, যা এখন সাড়ে ১০ শতাংশ। 

“ব্যাংকাররা সামনে ট্রেজারি বিল-বন্ডে বিনিয়োগ করলে ৯ শতাংশ কিংবা সাড়ে ৯ শতাংশ পাবে কি না সন্দেহ। তাই এটাই ইন্ডিকেট করে সামনে ব্যাংকের ঋণের হার কমবে।” 

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরকে কোনটি ভালো ব্যাংক কিংবা কোনটি দুর্বল, কোনটির অবস্থান উপরে উঠল কিংবা নিচে নেমে গেল - এমন মন্তব্য না করতে অনুরোধ করেছেন ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু।

তিনি বলেন, "অত্যন্ত গুণী, জ্ঞানী ব্যক্তিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর করেছেন। এটা আমি ব্যক্তিগতভাবেও মনে করি বিষয়টি। তবে ওনার কাছে আমার অনুরোধ থাকবে যতদিন উনি এটা বন্ধ না করেন- এটা দুর্বল ব্যাংক, এটা সবল ব্যাংক, এই দুইটা ব্যাংক ভালো হইসে, ওই তিনটা নিচে গেছে। এই গুণী ব্যক্তিকে অনুরোধ করব এটা না বলতে।"

তার ভাষ্য, "ব্যাংক বন্ধ করা  ইজ নট দ্যা সলিউশন, বরং ব্যাংকগুলোকে বাঁচিয়ে রাখা সলিউশন। "