‘নগদ’ নিয়ে এত গুঞ্জন, শেষ পর্যন্ত কী হবে
সরকার বলছে, আপাতত ‘নগদ’ বিক্রির কোনো পরিকল্পনা নেই। কিন্তু দুই বছরের বেশি সময় ধরে ডাক বিভাগের এ কোম্পানি পরিচালিত হচ্ছে প্রশাসক দিয়ে।
মোবাইলে আর্থিক সেবার কোম্পানি ‘নগদ’ বিক্রি বা হাতবদলের সম্ভাবনা নিয়ে নানা গুঞ্জন চলছে বেশ কিছুদিন ধরে; দেশি নাকি বিদেশি কোম্পানি নগদ কিনবে, তা নিয়ে আলোচনার ডালপালা ছড়িয়েছে নানা দিকে, কিন্তু চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি।
সরকার বলছে, আপাতত ‘নগদ’ বিক্রির কোনো পরিকল্পনা নেই। কিন্তু দুই বছরের বেশি সময় ধরে ডাক বিভাগের এ কোম্পানি পরিচালিত হচ্ছে প্রশাসক দিয়ে।
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “নগদ বিক্রি নিয়ে যেসব গুজব বা গুঞ্জন ছড়ানো হচ্ছে, সেগুলো ভিত্তিহীন। আমি স্পষ্ট করে একটা কথা বলতে চাই—নগদ বিক্রির কোনো প্ল্যান সরকারের নেই। এটাই আপাতত শেষ কথা।”
কাগজে-কলমে ‘নগদ’ ডাক বিভাগের কোম্পানি হলেও এর শতভাগ শেয়ারের মালিকানা এখনও সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল, ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর আহমেদ মিশুক ও অন্যদের হাতে। ফলে মালিকানা হস্তান্তরের আলোচনায় তাদের নামও আসছে।
এ বিষয়ে গত ৪ অগাস্ট নগদের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর আহমেদ মিশুকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “একটা ভালো খবর আছে, একটি আলোচনা অনেক দূর এগিয়েছে। আগামীকাল আমি বিস্তারিত জানাব।”
পরদিন যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। তবে এসএমএসে বলেন, “এখনও আলোচনা চলছে। আগামী সোমবার (১০ অগাস্ট) আমি পুরো আপডেট দিতে পারব।”
১০ অগাস্ট যোগাযোগ করা হলে মিশুক ফোন ধরেননি। এসএমএস পাঠালেও কোনো উত্তর দেননি।
কী বলছেন প্রশাসক?
নগদ হাতবদলের গুঞ্জন নিয়ে বর্তমান প্রশাসক মোতাছিম বিল্লাহ বলেন, “অনেকের কথাই শুনছি। বাংলালিংকের মূল প্রতিষ্ঠান ভিওন এবং আবুল খায়ের গ্রুপের কথাও শোনা যাচ্ছে। একটি ব্যাংকও নাকি নিতে চায়। কিন্তু কেউই তো কিনছে না, কোনো সমাধানও হচ্ছে না।
“একটা বিষয় মনে রাখতে হবে, এ সব কাজ কিন্তু আমার বা প্রশাসকের নয়। সরকার এসব দেখবে; বাংলাদেশ ব্যাংক দেখবে। আমার কাজ শুধু নগদের প্রতিদিনের কাজ ঠিকমত চলছে কী না—সেটা দেখা।”
তিনি বলেন, “নগদের সব শেয়ার তো আগের মালিকদের। ডাক বিভাগের শুধু লাইসেন্স। আইনগত দিক দিয়ে দেখলে, প্রতিষ্ঠানটি বিক্রি করতে হলে আগের মালিকদেরই করতে হবে। তারা না চাইলে কেউ এটি কিনতে পারবে না। আমার মনে হয়, অনেকে কিনতে চাইলেও এ বিষয়টির জন্য শেষ পর্যন্ত আর কেনে না।”
এভাবে বছরের পর বছর প্রশাসক দিয়ে একটি কোম্পানি চলতে পারে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, “আমি দেড় বছর ধরে চালাচ্ছি। এর আগ একজন পাঁচ মাস চালিয়ে চলে গেছেন। প্রতি মুহূর্তে চ্যালেঞ্জ। নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ। সম্প্রতি গভর্নরের সঙ্গে দেখা করে আমি বলেছি, স্যার, আমি বাংলাদেশ ব্যাংকে ফেরত আসতে চাই।”
এত কিছুর পরও নগদ ‘ভালো চলছে’ দাবি করে প্রশাসক বলেন, “অনেকে ভেবেছিল, ক্ষমতার পট পরিবর্তনের পর, আগের মালিকরা চলে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি আর চলবে না। সেটা কিন্তু হয়নি। দিন দিন প্রতিষ্ঠানটি ভালো হচ্ছে; মুনাফা বাড়ছে।”
নাম প্রকাশ না করার শর্তে নগদের এক কর্মকর্তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “দুই বছরে নগদ বিক্রি হওয়া বা হাতবদল নিয়ে ২০ ধরনের কথাবার্তা শুনছি। একবার শুনি এ কিনবে; আবার শুনি ও কিনবে। কিন্তু কোনো কিছুই ফাইনাল হয় না।”
নগদের বন্ধুর যাত্রা
মোবাইলে আর্থিক সেবার কোম্পানি হিসেবে ২০১৯ সালের ২৬ মার্চ যাত্রা করে নগদ। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এ কোম্পানিকে নিয়ম ভেঙে ‘অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার’ অভিযোগ ওঠে।
শেখ হাসিনার সরকার পতনের আগে ২০২৪ সালের জুনে ‘নগদ ব্যাংক পিএলসি’ নামে ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্সও দেওয়া হয় নগদকে।
‘পাচারের টাকায়’ বিদেশে কোম্পানি খুলে এ ব্যাংক প্রতিষ্ঠার অভিযোগ সামনে আসে। সে কারণে নগদ ব্যাংকের লাইসেন্স স্থগিত করে বাংলাদেশ ব্যাংক।
ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ২০২৪ সালের ২১ অগাস্ট নগদের আগের পর্ষদ ভেঙে প্রশাসক বসায় বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে উচ্চ আদালত পরে তা অবৈধ ঘোষণা করে। তখন নগদের দায়িত্ব নেয় ডাক অধিদপ্তর।
অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে নগদের বিরুদ্ধে মামলা করে বাংলাদেশ ব্যাংক, যেখানে কোম্পানির সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর আহমেদ মিশুকসহ ২৪ জনকে আসামি করা হয়।
মামলায় বলা হয়, ২০২৪ সালের ২১ থেকে ২৫ এপ্রিল বাংলাদেশ ব্যাংক নগদের কার্যক্রম পরিদর্শন করে। তাতে বিভিন্ন ব্যাংকের ‘ট্রাস্ট কাম সেটেলমেন্ট’ হিসাবে ইস্যুকৃত ই-মানির বিপরীতে রিয়েল মানির ১০১ কোটি টাকার বেশি ঘাটতি পাওয়া যায়।
‘নগদ’ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ৬৪৫ কোটি টাকার ই-মানি ঘাটতিসহ আরও কিছু গুরুতর আর্থিক অনিয়মের তথ্য প্রশাসক দলের নজরে আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক মামলাটি করে।
এরপর ২০২৫ সালের ২৮ আগস্ট তখনকার গভর্নর আহসান এইচ মনসুর ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে বলেন, নগদকে বেসরকারি খাতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সেজন্য বিনিয়োগকারী খুঁজতে এক সপ্তাহের মধ্যে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হবে।
গভর্নর বলেছিলেন, “নগদের মালিকানা আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে তুলে দেওয়া হবে। এজন্য নতুন বিনিয়োকারী খোঁজা হচ্ছে। কারণ নগদ চালানোর মতো সক্ষমতা পোস্ট অফিসের নেই।
“নগদে একটি প্রযুক্তি কোম্পানিকে প্রধান শেয়ারহোল্ডার হিসেবে আনতে হবে। এ বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে কথা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিকে আরও সক্ষম ও স্থিতিশীল হিসেবে গড়ে তোলা আমাদের মূল লক্ষ্য।”
এর পরই মূলত নগদ কিনতে বিভিন্ন মহল থেকে তোরজোর শুরু হয়।
এরইমধ্যে অন্তবর্তী সরকার নগদের জন্য কৌশলগত অংশীদার খোঁজা শুরু করে; যারা মালিকানায় যুক্ত হয়ে নতুন বিনিয়োগ করে নগদকে পরবর্তী ধাপে নিয়ে যাবে।
এই লেনদেনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য একটি অভিজ্ঞ আর্থিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করারও উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ জন্য বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করে। নগদের আর্থিক মূল্য নির্ধারণের পর বিনিয়োগকারী খোঁজা হবে বলে জানানো হয়।
গত বছরের ৩১ অগাস্ট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বিডা আগ্রহপত্র আহ্বান করেছে। সেখানে নগদের বর্তমান বাজার পরিস্থিতি তুলে ধরে শেয়ার বিক্রির ঘোষণা দেওয়া হয়। ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিডা কার্যালয়ে দেশি-বিদেশি অভিজ্ঞ আর্থিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আবেদন জমা দিতে বলা হয়।
ততদিনে দেশে নির্বাচনের তোরজোর শুরু হয়ে যায়। সেই ডামাডোলে আর্থিক পরামর্শক নিয়োগের কাজটি আর এগয়নি। নতুন সরকার আসার পরও বিষয়টি সে পর্যায়েই আটকে আছে।
আগ্রহী কারা?
দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী আবুল খায়ের গ্রুপ নগদের জিজিটাল ব্যাংকিংয়ের লাইসেন্স কিনে নিতে চায়। সেজন্য সরকারের শীর্ষ মহলের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক হওয়ার খবর এসেছে। তবে ওই গ্রুপের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কেনো কিছু জানানো হয়নি।
অন্যদিকে নগদের এমএফএস সেবার পুরোটা কিনতে চায় বাংলালিংকের মূল কোম্পানি ভিওন লিমিটেড। আর এ জন্য গত ২৮ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদের কাছে একটি চিঠি লেখেন বাংলালিংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জোহান হেনড্রিক মার্টিনাস বুসে।
সেই চিঠির ধারাবাহিকতায় গত ২৯ জুন ভিওন গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও বোর্ড চেয়ারম্যান অগি কে ফাবেলা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন।
ওই বৈঠকের পর বাংলালিংকের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি নিয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশে একটি সমন্বিত ডিজিটাল আর্থিক সেবাব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা তুলে ধরে ভিওন।
“বৈশ্বিক ফিনটেক খাতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দেশের কোটি মানুষের কাছে সহজলভ্য ডিজিটাল ব্যাংকিং, ক্ষুদ্রঋণ (মাইক্রোফাইন্যান্স) ও ক্ষুদ্র বীমা (মাইক্রো-ইনস্যুরেন্স) সেবা পৌঁছে দিতে চায় ভিওন।”
নাসডাক-তালিকাভুক্ত বৈশ্বিক ডিজিটাল অপারেটর ভিওন নিজেদের ‘ইনভেস্ট ইন বাংলাদেশ নাউ’ উদ্যোগের রূপরেখাও বৈঠকে তুলে ধরে।
ওই বৈঠকের অগ্রগতি জানতে শনিবার বাংলালিংকের ঢাকা অফিসে যোগাযোগ করা হলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “নগদ কিনতে খুবই আগ্রহী ছিল ভিওন। সেজন্য প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকও করেছিলেন ভিওন প্রধান। কিন্তু এরপর এ বিষয়ে আর কোনো অগ্রগতি নেই।”
বিএনপি সরকারে আসার পর নগদ কিনতে আগ্রহী একটি বিদেশি পক্ষের হয়ে তৎকালীন গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের সঙ্গে বৈঠক করেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ওই বৈঠকের পর তিনি সাংবাদিকদের বলেছিলেন, “নতুন সরকার আসার পর নগদের নীতি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সরকার এই খাতে ব্যক্তিবিনিয়োগের সুযোগ দিলে বিদেশি বিনিয়োগ সম্ভব হবে। সরকার যে সিদ্ধান্ত নেয়, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন গভর্নর।”
আরমান বলেছিলেন, বিভিন্ন বিদেশি বিনিয়োগকারী নগদে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। একটি বিনিয়োগকারীর পক্ষ থেকে আইনজীবী হিসেবে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন।
ওই বিনিয়োগকারী কারা, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান নাম বলেননি। তবে তিনি জানিয়েছিলেন, তাদের তিন মহাদেশে বিনিয়োগ আছে। এখন তারা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে চায়। তিনি একজন আইনজীবী হিসেবে তাদের স্থানীয় সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করছেন। এই বিনিয়োগকারীদের আইনি সহায়তা দিচ্ছেন তিনি।
তার আগে ৮ ফেব্রুয়ারি গভর্নরের কাছে লেখা চিঠিতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য নিরীক্ষা পরিচালনার অনুমতি চেয়ে অনুরোধ করেছিলেন আরমান।
সরকার কী বলছে?
নগদ পরিচালনায় যুক্তরা ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দেশ ছেড়ে চলে যান। এরপর বাংলাদেশ ব্যাংক ওই বছরই ২১ অগাস্ট প্রশাসক বসায় নগদে।
নানা আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও নগদের বিশাল গ্রাহকভিত্তি রয়েছে। বর্তমানে কোম্পানির গ্রাহক সংখ্যা ৯ কোটি বলে নগদের ওয়েবসাইটে তথ্য দেওয়া হয়েছে।
প্রথমে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পান বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক মুহম্মদ বদিউজ্জামান দিদার। তাকে সহায়তার জন্য ৬ কর্মকর্তাকে নগদে নিয়োগ দেওয়া হয়।
এর পর ১৭ সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক কে এ এস মুরশিদকে চেয়ারম্যান করে পাঁচ সদস্যের ব্যবস্থাপনা পর্ষদ গঠন করা হয়।
নগদের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর আহমেদ মিশুক ‘হুমকি দিচ্ছেন’ অভিযোগ করে ওই বছরের সেপ্টেম্বরে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন বদিউজ্জামান দিদার। গত বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি বদিউজ্জামান দিদারের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটে। এরপর থেকে তিনি ছুটিতে ছিলেন।
তারপর ২৭ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোতাছিম বিল্লাহকে প্রশাসকের দায়িত্ব দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।
২৩ জুন নগদের ব্যবস্থাপনা পর্ষদ পুনর্গঠন করে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এবি ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক কায়জার আহমেদ চৌধুরীকে চেয়ারম্যান করে ৭ সদস্যের নতুন পরিচালনা পর্ষদ বা বোর্ড গঠন করা হয়।
প্রশাসক মোতাছিম বিল্লাহ এই বোর্ডের একজন সদস্য। এখন এই পর্ষদই নগদ পরিচালনা করছে।
‘বর্তমান পর্ষদ নগদ ভালোই চালাচ্ছেন’ মন্তব্য করে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “তারা তো ভালোই চালাচ্ছেন। আরও ভালোভাবে কী করে চালানো যায়, সেটা নিয়ে কাজ করছি আমরা। অনেক কথাবার্তা হয়েছে নগদ নিয়ে। আপতত নগদ বিক্রির কোনো প্ল্যান আমাদের নেই।”
তিনি বলেন, “নগদ ঘিরে কিছু অনিয়ম আছে। সেগুলো ঠিক করতে হবে। একটি মালমাও আছে। তাই সার্বিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আপাতত নগদ আমরা বিক্রি করছি না।”
বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে এ কোম্পানিতে সরকারি ব্যবস্থাপনা অব্যাহত থাকবে জানিয়ে ফকির মাহবুব আনাম বলেন, “নগদ এর মত রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও দক্ষ, লাভজনক ও জনকল্যাণমুখী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করাই সরকারের লক্ষ্য।
“সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় ডিজিটাল আর্থিক সেবা পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে নগদ। ডাক বিভাগের আধুনিকায়ন, নগদের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে আরও আস্থাশীল ও জনবান্ধব করে তুলতে হবে।”
ফকির মাহবুব আনাম বলেন, “চলতি অর্থবছরে নগদ উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কর ও রাজস্ব প্রদান করেছে, যা রাষ্ট্রের জন্য একটি ইতিবাচক অর্জন এবং দেশের রাজস্ব বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।”
২০২৫-২৬ অর্থবছরে ডাক বিভাগকে রাজস্ব ভাগাভাগির অংশ হিসেবে ১৮ কোটি ৫৬ লাখ ৮৬ হাজার ১৭৮ টাকা দিয়েছে নগদ। এই অঙ্ক আগের অর্থবছরের চেয়ে ৩৪ শতাংশ বেশি।
