ঋণ খেলাপি: মধ্যস্থতাকারী কারা হতে পারবে
নীতিমালা অনুযায়ী বিরোধ নিষ্পত্তিতে মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে তালিকাভুক্তিসহ নানা শর্ত মেনে চলতে হবে।
ঋণ খেলাপি কমিয়ে আনতে মামলার বাইরে গিয়ে আলোচনার ভিত্তিতে সমস্যা সমাধান বা ‘বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির’ (এডিআর) পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বিরোধ নিষ্পত্তিতে সেই নীতিমালা অনুযায়ী মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে তালিকাভুক্ত হতে হবে। মধ্যস্থতাকারী প্যানেলে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তি অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না। প্রতিষ্ঠানগুলোকে তালিকভুক্ত হবে আরও বেশকিছু শর্ত মেনে চলতে হবে।
বৃহস্পতিবার নীতিমালা প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, এ নীতিমালা ‘বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) এর জন্য মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্তিকরণ সংক্রান্ত নীতিমালা, ২০২৬’ নামে অভিহিত হবে।
মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে নির্দেশনা
>> প্রতিষ্ঠানকে কোম্পানি আইন, ১৯৯৪ এর অধীনে নিবন্ধন থাকতে হবে।
>> হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স ও আয়কর শনাক্তকরণ নম্বর থাকতে হবে।
>> তালিকাভুক্তির আবেদন দাখিলের সময়ে তিন বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী থাকতে হবে।
>> তিন বছরের ব্যবসায়ীক পেশাগত অভিজ্ঞা লাগবে।
>> প্রতিষ্ঠান বা এর পরিচালনা পর্ষদের কোনো সদস্য বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দেউলিয়া বা ঋণ খেলাপি নন কিংবা প্রতারণা, দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ, মানি লন্ডারিং বা অন্য কোনো গুরুতর ফৌজদারি অপরাধে দণ্ডিত হবেন না।
>> প্রতিষ্ঠানের নীতি নির্ধারণ ও পরিচালনার জন্য একটি পর্ষদ বা সমমানের একটি প্রশাসনিক পর্ষদ, যার সদস্যদের কমপক্ষে ৫০ শতাংশ মধ্যস্থতাকারী হওয়ার যোগ্যতাসম্পন্ন হবেন।
>> প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি সাংগঠনিক কাঠামো থাকবে।
>> এডিআর কার্যক্রম পরিচালনা, সমন্বয় ও প্রশাসনিক সহায়তা দিতে একটি পৃথক প্রশাসনিক ইউনিট বা সেল থাকবে।
>> কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়োগ, দায়িত্ব বণ্টন, কর্ম সম্পাদন মূল্যায়ন এবং সক্ষমতা উন্নয়নের জন্য একটি মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা কাঠামো ও নীতিমালা থাকবে।
>> এডিআর কার্যক্রম পরিচালনার জন্য মামলা গ্রহণ, মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ, মধ্যস্থতা কার্যক্রম পরিচালনা, নথি সংরক্ষণ, গোপনীয়তা রক্ষা এবং মান নিয়ন্ত্রণ সম্বলিত ‘স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউরস’ (এসওপিএস) তৈরি করা।
>> মধ্যস্থতার জন্য এক বা একাধিক প্যানেল গঠন করতে পারবে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান। সেখানে প্যানেল সদস্য বা মধ্যস্থতাকারীরর ন্যূনতম যোগ্যতা হল- বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধানের আওতায় মধ্যস্থতা সেবা দেওয়ার উদ্দেশ্যে গঠিত প্রতিষ্ঠানসমূহের প্যানেলে তালিকাভুক্ত থাকা। বিবদমান পক্ষ বা পক্ষসমূহের সঙ্গে মধ্যস্থতাকারীর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো স্বার্থগত সংঘাত না থাকা।
>> ব্যাংক/ফাইন্যান্স কোম্পানি/আইন পেশা/হিসাব রক্ষণ/নিরীক্ষা/বিচার কার্যে কমপক্ষে ১০ বছরের অভিজ্ঞতা।
>> কোনো ফৌজদারি আদালত থেকে দণ্ডিত কিংবা কোনো বিধান/নিয়মাচার লংঘনের কারণে কোনো নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ কর্তৃক শাস্তিপ্রাপ্ত না হওয়া।
>> অর্থ আত্মসাৎ, দুর্নীতি, জাল-জালিয়াতি ও নৈতিক স্খলনজনিত কারণে চাকুরি/পেশা হতে বরখাস্ত না হওয়া।
>> কোনো ব্যাংক বা ফাইন্যান্স কোম্পানি কর্তৃক ঋণ খেলাপি না হওয়া ও কোনো সময় আদালত থেকে দেউলিয়া ঘোষিত না হওয়া।
>> প্রতিষ্ঠানের একটি কার্যালয় থাকতে হবে, যেখানে একাধিক পক্ষকে নিয়ে গোপন বৈঠক কক্ষ থাকতে হবে।
>> মামলা সংক্রান্ত নথি, ইলেকট্রনিক রেকর্ড এবং অন্যান্য তথ্য নিরাপদভাবে সংরক্ষণের জন্য উপযুক্ত নথি সংরক্ষণাগার বা রেকর্ড ব্যবস্থাপনা থাকতে হবে।
>> প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ওয়েবসাইট থাকতে হবে।
>> ডিজিটাল ‘কেস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ থাকতে হবে।
>> তথ্য সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধার ব্যবস্থা থাকতে হবে।
>> বিরোধ নিষ্পত্তি সংক্রান্ত কার্যক্রমের সকল তথ্য, নথি, যোগাযোগ ও কার্যবিবরণী গোপনীয় হিসেবে বিবেচিত হবে। প্রচলিত আইন, আদালতের আদেশ অথবা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের বৈধ নির্দেশ বা সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের পূর্বানুমোদিত সম্মতি ব্যতীত কোনো তৃতীয় পক্ষের কাছে প্রকাশ করা যাবে না।
আবেদন যাচাইয়ে নয়টি বিষয়ের বিপরীতে ১০০ নম্বর ধরা হবে। তার মধ্যে ৭০ নম্বর পেতে হবে তালিকাভুক্তির মূল্যায়নে।
