০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩

কূটনৈতিক বৈরিতার মধ্যেই ভারতে রপ্তানি বেড়েছে

“যখন অর্থনীতি রাজনীতির চেয়ে এগিয়ে যায়, তখন রাজনীতিও ধীরে ধীরে তার পেছনে চলে আসে।”

কূটনৈতিক বৈরিতার মধ্যেই ভারতে রপ্তানি বেড়েছে
.

আবদুর রহিম হারমাছি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 08 Sep 2026, 04:16 PM

Updated : 17 Sep 2026, 02:56 AM

বছর দুয়েক ধরে ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপড়েন চলছে বাংলাদেশের, তবে রাজনৈতিক সংকটের বিপরীত চিত্রের দেখা মিলছে অর্থনীতিতে। বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ছে, আর প্রতিবেশী দেশটি থেকে পণ্য আমদানি চলছে আগের মতই।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) মঙ্গলবার রপ্তানি আয়ের দেশভিত্তিক যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে— গত ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-অগাস্ট) ভারতে ৩৩ কোটি ৫২ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে।

এই অঙ্ক গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৭ দশমিক ৬৭ শতাংশ বেশি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-অগাস্ট সময়ে ভারতের বাজারে ৩১ কোটি ১৩ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছিল।

এই প্রবৃদ্ধি অপ্রচলিত বা নতুন বাজারের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। অপ্রচলিত বাজারের মধ্যে এই দুই মাসে চীনে প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ২ দশমিক ৫১ শতাংশ। অস্ট্রেলিয়াতেও বেড়েছে ২ দশমিক ৫১ শতাংশ।

জাপানে শূন্য দশমিক ৩০ শতাংশ নেতিবাচক (নেগেটিভ) প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

ইপিবির এ তথ্যই বলছে, ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপড়েনের প্রভাব পড়েনি বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্যে। ভারত থেকে পণ্য আসা যেমন কমেনি; তেমনই বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি তো কমেইনি, বরং বাড়ছে।

প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি এখন ৯০০ কোটি (১২ বিলিয়ন) ডলারের বেশি। অর্থাৎ বাংলাদেশ যত পণ্য আমদানি করে, তার অনেক কমই রপ্তানি করে থাকে।

অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে ২০২১-২২ অর্থবছরে ভারতে পণ্য রপ্তানি থেকে বাংলাদেশ আয় করেছিল ১৯৯ কোটি ১৪ লাখ (১.৯৯ বিলিয়ন) ডলার, যা ছিল ২০২০-২১ অর্থবছরের চেয়ে ৫৫ দশমিক ৬২ শতাংশ বেশি। ভারতে রপ্তানি করে বাংলাদেশের ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি আয় সেটিই প্রথম।

তবে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সেই রপ্তানিতে ভাটা পড়ে; এক ধাক্কায় প্রায় ১১ দশমিক ৬৩ শতাংশ কমে নেমে আসে ১৫৬ কোটি ৯২ লাখ (১.৫৭ বিলিয়ন) ডলারে।

পরের বছরেই (২০২৪-২৫ অর্থবছর) অবশ্য ঘুরে দাঁড়ায়; সাড়ে ১২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়। ওই আর্থিক বছরে ভারতে ১৭৬ কোটি ৪২ লাখ (১.৭৬ বিলিয়ন) ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছিল বাংলাদেশ। 

গত ৩০ জুন শেষ হওয়া ২০২৫-২৬ আর্থিক বছরে সার্বিক পণ্য রপ্তানিতে শূন্য দশমিক ৫৮ শতাংশ নেতিবাচক (নেগেটিভ) প্রবৃদ্ধি হয়। প্রায় সব দেশেই রপ্তানি কমে; ভারতে কমে মাত্র ১ শতাংশ।

বাংলাদেশ গত অর্থবছরে ভারতের বাজারে ১৭৪ কোটি ৬২ লাখ (১.৭৫ বিলিয়ন) ডলারের বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করে; ২০২৪-২৫ আর্থিক বছরে এই অঙ্ক ছিল প্রায় একই, ১৭৬ কোটি ৪২ লাখ (১.৭৬ বিলিয়ন) ডলার।

২০২৪ সালের জুলাই মাসের শুরুতে বাংলাদেশে কোটা সংস্কার নিয়ে আন্দোলন শুরু হয়; তা অগাস্টের শুরুতেই জনবিস্ফোরণে রূপ নিলে পতন ঘটে শেখ হাসিনার সরকারের। তিনি আশ্রয় নেন ভারতে।

এরপর থেকে ঢাকা-নয়া দিল্লি কূটনৈতিক টানাপড়েন চললেও নভেম্বরে এসে তা তীব্রতা পায় হিন্দু ধর্মীয় নেতা চিন্ময় ব্রহ্মচারীকে গ্রেপ্তার ঘিরে।

তার জেরে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে এক বিক্ষোভ থেকে বাংলাদেশের সহকারী হাই কমিশনে হামলা হয়। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতারা বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধেরও হুমকি দেন।

এরই মধ্যে ২০২৫ সালের ৪ এপ্রিল থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে ষষ্ঠ বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বহু প্রতীক্ষিত বৈঠক হয়। তবে ওই বৈঠকেও দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক উষ্ণ হয়নি।

এসবের মধ্যেই গত বছরের ৯ এপ্রিল ট্রান্সশিপমেন্টের মাধ্যমে ভারতের বন্দর ব্যবহার করে তৃতীয় দেশে বাংলাদেশের পণ্য যাওয়ার ব্যবস্থা প্রত্যাহার করে ভারত সরকার।

ভারতে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য হচ্ছে তৈরি পোশাক, পাট ও পাটজাতপণ্য, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য এবং প্লাস্টিক দ্রব্য। এছাড়া কিছু সুতা ও বস্ত্রজাত পণ্যও রপ্তানি হয়। প্রতিবেশী দেশটিতে মোট রপ্তানির প্রায় অর্ধেকই তৈরি পোশাক।

গত বছরের ১৭ মে ভারতের বৈদেশিক বাণিজ্য অধিদপ্তর (ডিজিএফটি) ঘোষণা দেয়, শুধু ভারতের নবসেবা ও কলকাতা সমুদ্রবন্দর ব্যবহার করে দেশটির আমদানিকারকেরা বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক আমদানি করতে পারবেন।

পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে ভারতের আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা ও মিজোরামে ল্যান্ড কাস্টমস স্টেশন (এলসিএস)/ইন্টিগ্রেটেড চেকপোস্ট (আইসিপি) দিয়ে ফল, ফলের স্বাদযুক্ত পানীয়, কোমল পানীয়, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, প্লাস্টিক পণ্য, সুতা, সুতার উপজাত, আসবাবপত্র রপ্তানি করা যাবে না।

পশ্চিমবঙ্গের চ্যাংড়াবান্ধা ও ফুলবাড়ী শুল্ক স্টেশন বা এলসিএসের জন্যও একই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

এরপর ২৭ জুন বাংলাদেশ থেকে স্থলবন্দর দিয়ে পাট ও পাটজাত পণ্য এবং কাপড় আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয় ভারত।

ভারতে প্রায় সব পণ্যই স্থলপথে রপ্তানি হত। এর মধ্যে বেশিরভাগই যেত বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে।

ভারতে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির তালিকায় পাট ও পাটজাত পণ্য অন্যতম প্রধান। দেশটিতে মোট রপ্তানি আয়ের ২৫ শতাংশের মত আসে এই খাত থেকে।

১৭ মের প্রজ্ঞাপনে ভারতের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থা ডিজিএফটি জানায়, বাংলাদেশ থেকে এসব পণ্য নবসেবা বা জওহরলাল নেহরু সমুদ্রবন্দর দিয়ে ভারতে ঢুকতে পারবে। বাংলাদেশ থেকে স্থলবন্দর দিয়ে ভারতের মধ্য দিয়ে নেপাল ও ভুটানে এসব পণ্য রপ্তানিতে কোনও বিধিনিষেধ নেই।

তবে এসব পণ্য পুনরায় রপ্তানি করা যাবে না। অর্থাৎ বাংলাদেশ থেকে স্থলবন্দর দিয়ে ভারতের মধ্য দিয়ে যেসব পণ্য নেপাল ও ভুটানে যাবে, সেসব পণ্য নেপাল বা ভুটান থেকে ভারতে যেতে পারবে না।

দেশের বস্ত্র ও স্পিনিং শিল্প সুরক্ষার জন্য ২০২৫ সালের ১৫ এপ্রিল ভারত থেকে স্থলবন্দর দিয়ে সুতা আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে বাংলাদেশ সরকার।

তার জেরেই ভারত সরকার ধাপে ধাপে স্থলপথে বাংলাদেশ থেকে পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করেছে বলে ধারণা করা হয়।

মাঝে বাংলাদেশের ক্রিকেটার মোস্তাফিজুর রহমানকে নিয়েও দুদেশের সম্পর্ক উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল। মোস্তাফিজকে আইপিএলে খেলতে না দেওয়ার প্রতিক্রিয়ায় ভারতে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বাংলাদেশ। এ নিয়ে দুদেশের সম্পর্কের আরও অবনতি দেখা দিয়েছিল।

উগ্রবাদী গোষ্ঠীর হুমকির মুখে গত ৩ জানুয়ারি মোস্তাফিজকে আইপিএল থেকে অব্যাহতি দেওয়ার নির্দেশ দেয় ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ড বিসিসিআই। এ বছরের আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সে (কেকেআর) খেলার কথা ছিল তার।

নিলামের মাধ্যমে দলভুক্ত করা মোস্তাফিজকে এভাবে বাদ দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয় বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় অন্তবর্তী সরকার।

দুই বছরের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। বিষয়টি নিয়ে অন্তবর্তী সরকারের দেড় বছরে অনেক আলোচনা হয়েছে। কিন্তু দুদেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়নি।

এরই মধ্যে গত ১২ ফেব্রুয়ারি দেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার এখন দেশ পরিচালনা করছে।

এই সরকারের সাড়ে ছয় মাস পার হয়েছে। কিন্তু দুদেশের সম্পর্কের কোনো উন্নতি হয়নি। আগের মতই অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ চলছে।

সবশেষ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আমন্ত্রণের পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এখনো ভারত সফরে না যাওয়ায় টানাপড়েন কাটেনি।

তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি বাংলাদেশ চেম্বারের বর্তমান সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ মনে করেন, সম্পর্ক ভালো থাকলে ভারতে রপ্তানি আরও বাড়ানো সম্ভব।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “নানা বাধাবিপত্তির মধ্যেও ভারতে আমাদের রপ্তানি কিন্তু ভালোই বাড়ছিল। মাঝে আমরা ২ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছিলাম। অনেক দেশে আমাদের রপ্তানি কমলেও বৈরি সম্পর্কের মধ্যেও কিন্তু ভারতে বাড়ছে।”

তিনি বলেন, “ভারতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের কদর বাড়ছে। দেড়শ কোটি লোকের চাহিদা মেটাতে ভারতকে বাংলাদেশ থেকে পোশাক কিনতেই হবে। 

“ভারতে পোশাক তৈরি করতে যে খরচ হয়, বাংলাদেশ থেকে আমদানি করলে তার চেয়ে অনেক কম পড়ে। সে কারণে সব হিসাব-নিকাশ করেই তারা বাংলাদেশ থেকে বেশি করে পোশাক কিনবে।”

ভারতের বাজারে যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, রাজনৈতিক কারণে তা যেন নষ্ট হয়ে না যায় তা চাইছেন পোশাক ব্যবসায়ীরা।

নিট পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমাদের তৈরি পোশাকের খুবই সম্ভাবনা এবং ভালো বাজার হয়ে উঠছিল ভারত। এটা ধরে রাখতে হবে। সেজন্য কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়াতে হবে। বর্তমানে যে সম্পর্ক দেখা দিয়েছে, তার সম্মানজনক সমাধান করতে হবে। মনে রাখতে হবে, পাশের দেশ হওয়ায় ভারতে পণ্য রপ্তানি করতে আমাদের পরিবহন খরচ অনেক কম হয়। সে কারণে ভারতে আমাদের রপ্তানি যত বাড়বে, ততই ভালো।

“তবে সবার আগে একটা কথা—গ্যাস-বিদ্যুৎ সমস্যার দ্রুত সমাধান করতে হবে। তা নাহলে অন্যান্য বাজারের পাশাপাশি ভারতের বাজারও হাতছাড়া হয়ে যাবে। মহাবিপদে পড়ব আমরা।”

বাংলাদেশের ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক সম্পর্কের যে অবনতি হয়েছে, তার উন্নতি না হলে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের ইতিবাচক ধারা ধরে রাখা কঠিন হবে বলে মনে করছেন বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান।

তিনি বলেন, “ভারতে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি আরও বাড়ানো সম্ভব। সেজন্য রপ্তানিকারকদের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দিতে হবে।

“ভারতের বাজারে অনেক সময় অযৌক্তিকভাবে অশুল্ক বাধা আরোপ করা হয়। এই বাধা দূর করার ক্ষেত্রে কূটনৈতিক যোগাযোগের পাশাপাশি বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং রপ্তানিকারকদের নেগোসিয়েশন দক্ষতা বাড়াতে হবে।”

বাংলাদেশ চেম্বারের বর্তমান সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ মনে করেন, ভারতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের কদর বাড়ছে। ছবি: রয়টার্স

বাংলাদেশ চেম্বারের বর্তমান সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ মনে করেন, ভারতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের কদর বাড়ছে

এখনও বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি

ভারতের ডিজিএফটি’র পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ ভারতীয় অর্থবছরে দুই দেশের মধ্যে মোট ১ হাজার ২৩৬ কোটি ৭৫ লাখ (১২.৩৬ বিলিয়ন) ডলারের বাণিজ্য হয়েছে।

এর মধ্যে বাংলাদেশ ভারত থেকে ১ হাজার ৫৮ কোটি ৭৪ লাখ (১০.৫৮ বিলিয়ন) ডলারের বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি করেছে। বিপরীতে দেশটিতে পণ্য রপ্তানি করে ১৭৮ কোটি ১৭ লাখ (১.৭৮ বিলিয়ন) ডলার আয় করেছে বাংলাদেশ।

এ হিসাবে দেখা যাচ্ছে, ২০২৫-২৬ ভারতীয় আর্থিক বছরে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৮৮০ কোটি ৫৭ লাখ ডলার।

ভারতে আর্থিক বছর শুরু হয় এপ্রিল মাস থেকে; শেষ হয় মার্চে।

গত ২৪ আগস্ট সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও ব্যবসায়িক প্রতিবন্ধকতা দূর করার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

ওই বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বর্তমানে প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলারের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য রয়েছে। তবে গত দেড় বছরে কিছু প্রতিবন্ধকতা তৈরি হওয়ায় বাণিজ্যিক কার্যক্রমে কিছুটা ধীরগতি এসেছে। 

“এসব সমস্যা চিহ্নিত করে কীভাবে ভবিষ্যতে দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক আরো সহজ ও কার্যকর করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।”

ভারতীয় হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, “পারস্পরিক নির্ভরশীলতাই একটি স্থায়ী সমাধান। বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য আমরা একে অপরের ওপর নির্ভরশীল। এ পারস্পরিক নির্ভরশীলতাই আমাদের একটি পরিবারের মতো করে তোলে। আমরা এ সম্পর্ককে আরো এগিয়ে নিতে চাই।”

তিনি বলেছিলেন, “যখন অর্থনীতি রাজনীতির চেয়ে এগিয়ে যায়, তখন রাজনীতিও ধীরে ধীরে তার পেছনে চলে আসে।”