১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০১ কার্তিক ১৪৩৩

পুঁজিবাজারে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছে সিটি গ্রুপ

“আমাদের যে সংকট, আমরা মনে করি, পুঁজিবাজার আমাদের জন্য একটা সমাধান হতে পারে,” বলেন গ্রুপের এমডি মোহাম্মদ হাসান।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 13 Aug 2026, 07:09 PM

Updated : 19 Sep 2026, 02:25 PM

আর্থিক সংকট কাটাতে পুঁজিবাজারে নাম লেখানোকে ‘সমাধান’ হিসেবে দেখছে সিটি গ্রুপ।

এর প্রস্তুতি হিসেবে লংকাবাংলা ইনভেস্টমেন্টসের সঙ্গে চুক্তি করেছ কোম্পানিটি। 

বৃহস্পতিবার ঢাকার গুলশানে সিটি ভবনে দুই কোম্পানির মধ্যে এ চুক্তি হয়।

ভোগ্যপণ্য, প্রাণী খাদ্য, টেলিভিশন স্টেশন ও অবকাঠামো খাত মিলিয়ে ২৩টি কোম্পানি রয়েছে সিটি গ্রুপের।

এর মধ্যে পুঁজিবাজারে কয়টি কোম্পানি তালিকাভুক্ত হবে, সে সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি বলে জানিয়েছেন লংকাবাংলা ইনভেস্টমেন্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইফতেখার আলম।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, ‘‘আমরা সবগুলো কোম্পানি পর্যালোচনা করব। পুঁজিবাজারের জন্য কোনটা বেশি উপযোগী হবে, তা ঠিক করা হবে। সব কিছু ঠিক থাকলে তারপর তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া শুরু হবে। সবকিছু এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।”

সিটি গ্রুপ আপাতত দেড় হাজার কোটি টাকার মতো মূলধন তুলতে চায় বলে এ কর্মকর্তার ভাষ্য।

প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) পাশাপাশি প্রাইভেট ইকুইটি, প্রেফারেন্স শেয়ার, করপোরেট বন্ড, সুকুক বা অনুমোদিত অন্যান্য সব খাত থেকেও মূলধন সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে গ্রুপটির।

চুক্তি সইয়ের অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে সিটি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ হাসান, সিটি গ্রুপের উদ্যোক্তা পরিচালক ফারজানা রহমান ও শম্পা রহমান, লংকাবাংলা ইনভেস্টমেন্টসের পরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন চৌধুরী ও ওয়ান ব্যাংকের বস্থাপনা পরিচালক মুহিত রহমান উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে সিটি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ হাসান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘‘আমরা যদি বাংলাদেশের ফাইন্যান্সিয়াল মার্কেটটা দেখি, তাহলে দেখতে পাব, আমাদের দেশে আসলে উদ্যোক্তারা বেশির ভাগই কমার্শিয়াল ব্যাংকগুলোর ওপর নির্ভরশীল। 

“আমি মনে করি, এর প্রধান একটা কারণ হচ্ছে যে ক্যাপিটাল মার্কেটে একটা আস্থার অভাব ছিল। আমরাও এর ব্যতিক্রম ছিলাম না।”

তিনি বলেন, “পুঁজিবাজারকে চাঙা করার জন্য প্রধানমন্ত্রী অনেক পদক্ষেপ নিয়েছেন। আশা করি যে, পুঁজিবাজার আরো চাঙা হবে। আমাদের যে সংকট, আমরা মনে করি, পুঁজিবাজারই আমাদের জন্য একটা সমাধান হতে পারে।”

দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়িক গ্রুপটি বিপুল পরিমাণ ব্যাংকঋণ নিয়ে আর্থিক চাপে পড়েছে বলে সম্প্রতি খবরে এসেছে। তাদেরকে ঋণ দিয়ে কিছু ব্যাংকের বেকায়দায় থাকার খবরও এসেছে সংবাদমাধ্যমে।

গত ১ জুলাই এক সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান বলেন, “তাদের (সিটি গ্রুপ) ২৪ হাজার কোটি টাকার ঋণ আছে ২৯ ব্যাংকে। 

“তিনটি লিডিং ব্যাংকের এমডিকে নিয়ে বসেছিলাম। তাদের বলি সমাধান বের করতে। আমরা সহযোগিতা করব।”