২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৫ কার্তিক ১৪৩৩

ডেসটিনির দুষ্টচক্র: পদত্যাগে পাপমোচন হবে না

বাসন্ত বিষুব

Published : 05 Apr 2012, 10:15 PM

Updated : 24 Jun 2022, 12:17 AM

এতোদিনকার হাইফাই কোম্পানি এখন হায় হায় কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে। দেশজুড়ে মানুষের মুখে মুখে এখন শুধুই ডেসটিনি। এতোদিন ডেসটিনি বিবেচিত হয়েছে অল্পদিনে কোটিপতি হবার মেশিন হিসেবে আর এখন বিবেচিত হচ্ছে চোখের পলকে দেওলিয়া হবার মেশিন হিসেবে। ডেসটিনির প্রতি কখনোই আমার আকর্ষণ ছিল না এখনো নেই। কিন্তু এদেশের লক্ষ লক্ষ তরুণ-বৃদ্ধ ডুবে গিয়েছিল ডেসটিনি নামক সমুদ্রে। সেই সমুদ্র এখন হুট করেই ডেড সি।

ডেসটিনির ভাওতাবাজি নিয়ে সবার আগে যে পত্রিকা সংবাদ ছেপেছে সেটা যুগান্তর এবং পরে প্রথম আলো। অনেকে বলছেন, গোপন ব্যবসায়ীক স্বার্থেই নাকি এই সংবাদ পরিবেশন। তাই যদি না হবে তবে এতোদিন এই পত্রিকাগুলো মুখে কুলুপ এটে ছিল কেন? কিন্তু এ অভিযোগ সত্য হোক আর নাই হোক, ডেসটিনির মত প্রতিষ্ঠান যে এদেশের লক্ষ লক্ষ মানুষকে আফিম খাইয়ে অর্থ লুটে নিয়েছে তাতে কোন সন্দেহ আছে বলে মনে হয়না। দ্রুত কোটিপতি হবার বাসনায় বিভোর বাঙালীকে এই চক্রকে বেশ ভালভাবেই কব্জা করতে পেরেছিল তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

আজ যুগান্তর জানিয়েছে ডেসটিনির পাঁচ পরিচালকের পদত্যাগের কথা। জানা গেছে, যে কোন দিন আরো দুই পরিচালকও পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন। কিন্তু যারা পদত্যাগ করলেন তারা এতদিন কী করেছেন? যে পরিচালকের স্বেচ্ছাচারিতা ও দুর্নীতির প্রতিবাদে তারা পদ ছাড়লেন, এতদিন তারা সেই পরিচালকের সব অন্যায় কেন মুখ বন্ধ করে সহ্য করলেন! দুর্নীতি ও প্রতারণার খবর যখন প্রকাশ্যে চলে এসেছে, জেলে যাবার সম্ভাবনা যখন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে তখন কেন এই সাধুভাব তাদের মধ্যে উদয় হলো। তাছাড়া বিভিন্ন খবর পড়ে এটাও অনুমিত হচ্ছে, এই পদত্যাগ একটি নাটক ছাড়া আর কিছুই নয়। লাভের অংক পকেটে ভরে শুধু পদ ছাড়লেই কী সব অপরাধ আড়াল হয়ে যাবে? প্রশ্নই আসে না। তাছাড়া পদত্যাগী পরিচালকেরা নির্লজ্জের মত বলেছেন, পদত্যাগের ফলে এখন তার বেতনভোগী কর্মচারী তাই এখন অন্তত জেলে যাবার কোন সম্ভাবনা নেই। কী মজার কথা! এ যেন এক মগের মুল্লুক! পদত্যাগ করেছেন ভাল কথা কিন্তু ঐ মেরে খাওয়া টাকার হিসাব কে দিবে? জনগন না আপনারা?

তাই সরকারের কাছে জোর দাবি থাকবে, এই সব ভণ্ডদের পাতা ফাঁদে পা না দিয়ে এদের অতীত ও বর্তমান ভণ্ডামির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন। লুটের টাকার হিসাব নিন এবং প্রতারিত ও ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের ক্ষতি এদের টাকা থেকেই মিটিয়ে দিন। জনগণ ও আইনের শাসনের স্বার্থে দ্রুত এইসব প্রতারকদের গ্রেফতার করুণ। সাধারণ জনগণের দাবি, সরলতার সুযোগ নিয়ে এবং প্রশাসনকে ঘুষ দিয়ে যারা জনতার সাথে ভন্ডামী করেছে তাদের বিচার হতে হবে। জনগণ সরকারকে তাদের পাশেই চায়, ভণ্ডদের পাশে নয়।